পৃথিবীর মতো বাসযোগ্য হতে পারে ২৫ আলোকবর্ষ দূরের নতুন গ্রহ, আশাবাদী বিজ্ঞানীরা

০৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৯ AM
জিজে ৩৩৭৮বি (GJ 3378b) নামের এই পাথুরে গ্রহ

জিজে ৩৩৭৮বি (GJ 3378b) নামের এই পাথুরে গ্রহ © সংগৃহীত

পৃথিবীর মতো প্রাণের উপযোগী হতে পারে এমন একটি নতুন গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। পৃথিবী থেকে প্রায় ২৫ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত জিজে ৩৩৭৮বি (GJ 3378b) নামের এই পাথুরে গ্রহটি বাসযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাকডোনাল্ড অবজারভেটরিতে হবি-এবারলি টেলিস্কোপের মাধ্যমে পরিচালিত নতুন পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘দ্য অ্যাস্ট্রোফিজ়িক্যাল জার্নাল’-এ ।

গবেষকদের মতে, জিজে ৩৩৭৮বি পৃথিবীর মতো একটি পাথুরে গ্রহ। তবে সেখানে প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। বিশেষ করে গ্রহটিতে বায়ুমণ্ডল রয়েছে কি না, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখনো মতভেদ রয়েছে।

গ্রহটি একটি ছোট লাল বামন (রেড ডোয়ার্ফ) নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে। এই ধরনের নক্ষত্র থেকে নির্গত তীব্র বিকিরণ গ্রহটির বায়ুমণ্ডল টিকে থাকার ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবুও পৃথিবীর তুলনামূলক কাছাকাছি অবস্থানের কারণে গ্রহটি বিজ্ঞানীদের বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী পল রবার্টসন বলেন, ২৫ আলোকবর্ষ দূরত্ব শুনতে অনেক বেশি মনে হলেও মহাজাগতিক পরিসরে এটি খুব কাছের। আকাশগঙ্গা ছায়াপথের ব্যাস প্রায় এক লাখ আলোকবর্ষ। সেই তুলনায় জিজে ৩৩৭৮বি আমাদের অন্যতম নিকটতম মহাজাগতিক প্রতিবেশী।

গ্রহটির অস্তিত্ব প্রথম শনাক্ত হয় ২০২৪ সালে। সে সময় বিজ্ঞানীরা এর ভর পৃথিবীর প্রায় পাঁচ গুণ বলে ধারণা করেছিলেন। তবে নতুন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এর ভর পৃথিবীর প্রায় ২ দশমিক ৩ গুণ। এ কারণে এটিকে ‘সুপার আর্থ’ শ্রেণির গ্রহ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে—যেসব গ্রহ পৃথিবীর চেয়ে কিছুটা বড় হলেও মূলত পাথুরে প্রকৃতির।

নতুন গবেষণায় আরও জানা গেছে, জিজে ৩৩৭৮বি তার নক্ষত্রকে একবার প্রদক্ষিণ করতে ২১ দিন সময় নেয়। আগে এই সময়কাল ২৪ দশমিক ৭ দিন বলে ধারণা করা হয়েছিল।

গবেষকদের ভাষ্য, কোনো গ্রহ বাসযোগ্য কি না, তা নির্ধারণের প্রথম শর্ত হলো সেখানে তরল পানির সম্ভাবনা থাকা। তাই জিজে ৩৩৭৮বি-তে পানির অস্তিত্ব রয়েছে কি না, তা এখন নিবিড়ভাবে অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

গবেষক মাইকেল এন্ডল বলেন, আমাদের ছায়াপথের প্রায় ৭০ শতাংশ নক্ষত্রই লাল বামন। এসব নক্ষত্রের চারপাশে পৃথিবীর মতো পাথুরে গ্রহ থাকার সম্ভাবনাও অনেক বেশি। তাই ভবিষ্যতে প্রাণের সন্ধান পেতে এই ধরনের গ্রহগুলোর গবেষণাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

তিনি বলেন, মহাবিশ্বে আমরা একাই কি প্রাণের অস্তিত্ব বহন করছি, নাকি আমাদের মতো আরও কেউ আছে—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আমাদের গবেষণা চলছে। জিজে ৩৩৭৮বি সেই অনুসন্ধানে নতুন আশার দ্বার খুলে দিয়েছে।

তবে পৃথিবীর তুলনায় কাছাকাছি হলেও বাস্তবে গ্রহটিতে পৌঁছানো বর্তমান প্রযুক্তিতে প্রায় অসম্ভব। মানুষের তৈরি সবচেয়ে দ্রুতগতির মহাকাশযান ভয়েজার–১ যদি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১৭ কিলোমিটার বেগে জিজে ৩৩৭৮বি-র দিকে যাত্রা করে, তবে সেখানে পৌঁছাতে প্রায় ৪ লাখ ৪১ হাজার বছর সময় লাগবে।

মাদ্রাসার ভেতরে ‘ছাত্রী’র সঙ্গে অন্তরঙ্গ হওয়ার চেষ্টা শিক্ষ…
  • ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক-কর্মচারী নি…
  • ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘রূপা কোথায়, জানি না’—বোনকে ফিরে পেতে খুবি শিক্ষার্থীর আকুতি
  • ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আঁচল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে খাস ফুডের কর্মকর্তাদের মানসিক স্বা…
  • ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বদলে যেতে পারে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচি
  • ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চবিতে অনুমোদিত ফি ছাড়া অর্থ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা
  • ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬