প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
ধীরগতির ওয়াইফাই এখন অনেকের জন্যই বড় ভোগান্তির কারণ। ভিডিও কল, স্ট্রিমিং বা ফাইল ডাউনলোডের মতো দৈনন্দিন কাজগুলো যখন প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় নেয়, তখন অনেকেই মনে করেন সমস্যা ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার বা প্যাকেজে। কিন্তু বাস্তবে সমস্যার উৎস অনেক সময় আপনার নিজের রাউটারেই লুকিয়ে থাকে।
বেশিরভাগ রাউটার ডিফল্ট সেটিংস নিয়ে চলে, যা নির্দিষ্ট পরিবেশে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স দেওয়ার জন্য অপ্টিমাইজ করা থাকে না। ফলে নেটওয়ার্ক কনজেশন, পুরোনো ফার্মওয়্যার বা ব্যান্ডউইথের অদক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে গতি কমে যেতে পারে। তবে ভালো খবর হলো—রাউটার পরিবর্তন না করেই কিছু সেটিংস ঠিক করলেই ওয়াইফাই গতি ও স্থিতিশীলতা বাড়ানো সম্ভব।
এমন ৪টি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন তুলে ধরা হলো—
১. ওয়্যারলেস চ্যানেল পরিবর্তন করে নেটওয়ার্ক জ্যাম কমান
আধুনিক রাউটার একাধিক চ্যানেলে কাজ করে, তবে বেশিরভাগই অটো মোডে থাকে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অনেক নেটওয়ার্ক একই চ্যানেলে থাকায় কনজেশন তৈরি হয়।
রাউটারের সেটিংসে ঢুকে আপনি বর্তমানে ব্যবহৃত চ্যানেল দেখতে পারবেন। কম ভিড়যুক্ত চ্যানেলে সুইচ করলে ইন্টারফিয়ারেন্স কমে এবং সংযোগ স্থিতিশীল হয়।
এছাড়া চ্যানেল উইডথও গুরুত্বপূর্ণ—৮০MHz বা ১৬০MHz বেশি গতি দিলেও কভারেজ কমাতে পারে, আর ২০MHz বা ৪০MHz তুলনামূলক স্থিতিশীল সংযোগ দেয়।
২. QoS (কোয়ালিটি অব সার্ভিস) সেটিংস ঠিক করে গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইসকে অগ্রাধিকার দিন
রাউটারের QoS সেটিংস নির্ধারণ করে কোন ডিভাইস কত ব্যান্ডউইথ পাবে। যদি সব ডিভাইস সমান গুরুত্ব পায়, তাহলে স্মার্ট বাল্ব বা প্লাগের মতো ডিভাইসও অপ্রয়োজনীয়ভাবে নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ কাজকে ধীর করে দিতে পারে। QoS ব্যবহার করে আপনি ল্যাপটপ, টিভি বা গেমিং ডিভাইসকে অগ্রাধিকার দিতে পারেন, ফলে ভিডিও কল বা স্ট্রিমিং আরও মসৃণ হবে।
৩. রাউটারের ফার্মওয়্যার আপডেট করুন
অনেক ব্যবহারকারী রাউটারের ফার্মওয়্যার আপডেট করতে ভুলে যান। পুরোনো ফার্মওয়্যার নেটওয়ার্ক অস্থিতিশীল করে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায়। রাউটারের সেটিংস থেকে সর্বশেষ আপডেট ইনস্টল করলে বাগ ফিক্স, নিরাপত্তা উন্নতি এবং পারফরম্যান্স বাড়ে।
৪. দ্রুত ব্রাউজিংয়ের জন্য কাস্টম ডিএনএস ব্যবহার করুন
ডিফল্টভাবে রাউটার আইএসপি-এর ডিএনএস ব্যবহার করে, যা অনেক সময় ধীর হতে পারে। কাস্টম ডিএনএস সার্ভার ব্যবহার করলে ওয়েবসাইট দ্রুত লোড হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে গোপনীয়তাও বাড়ে। এছাড়া উন্নত ব্যবহারকারীরা চাইলে নিজস্ব ডিএনএস সেটআপ করে আরও নিয়ন্ত্রণ পেতে পারেন।
ধীরগতির ওয়াইফাই মানেই নতুন রাউটার কেনা নয়। চ্যানেল নির্বাচন, QoS সেটিংস, ফার্মওয়্যার আপডেট এবং ডিএনএস পরিবর্তনের মতো ছোট কিছু পরিবর্তনেই আপনার ইন্টারনেট হতে পারে দ্রুত ও স্থিতিশীল।