অধ্যক্ষ আজীজি © ফাইল ছবি
এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলওয়ার হোসেন আজীজি বলেছেন, বর্তমান সরকার পে-কমিশন গঠন করেছে। পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির দায়িত্ব তাদেরই।
বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অফিসিয়াল আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন তিনি।
শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ আজীজি আরও বলেন, প্রয়োজনে আগামী নির্বাচিত সরকার বাস্তবায়ন করবে।
এদিকে নবম জাতীয় পে-স্কেলের সুপারিশ জমা দেওয়ার সম্ভাব্য ডেডলাইন জানিয়েছে পে-কমিশন। আগামী মধ্য জানুয়ারির মধ্যে কমিশন তাদের সুপারিশ জমা দেবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পে-কমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, নবম পে-স্কেলের গ্রেড সংখ্যা, সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ বেতন নির্ধারণ ছাড়াও আরও কিছু বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি। এজন্য আরও অন্তত দুটি পূর্ণ কমিশনের সভা আয়োজন করা হবে। এ সভায় সদস্যরা অমীমাংসিত বিষয়গুলোর প্রতি একমত পোষণ করার পর কমিশন তাদের রিপোর্ট জমা দেবে।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে নবম পে-স্কেল নিয়ে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ এক সদস্য দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘মধ্য জানুয়ারির মধ্যে কমিশনের সুপারিশ জমা দেওয়ার একটি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আমরা এর আগেও রিপোর্ট জমা দিতে পারি। পূর্ণ কমিশনের আরেকটি সভা করতে পারলে সুপারিশ জমা দেওয়ার সম্ভাব্য দিনক্ষণ আরও নির্দিষ্ট করে বলা যাবে।’
পে-কমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন গ্রেড নিয়ে তিন ধরনের চিন্তা করছে কমিশন। বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের ২০টি গ্রেড রয়েছে। কমিশনের অনেক সদস্য মনে করেন বিদ্যমান গ্রেড সংখ্যা একই রেখে যৌক্তিক হারে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশ করতে। তবে এখানে ঘোর আপত্তি রয়েছে কমিশনের আরেকটি অংশের। তারা মনে করেন, গ্রেড সংখ্যা ২০টি থেকে কমিয়ে ১৬টি করা উচিত।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেড সংখ্যা ১৬টি করতে অনেক সদস্য একমত হলেও সদস্যদের আরেকটি অংশ চাচ্ছে নবম পে-স্কেলের গ্রেড সংখ্যা ১৪টি করা হোক। এক্ষেত্রে তাদের যুক্তি, গ্রেড সংখ্যা অধিক হওয়ায় বেতন বৈষম্য বেশি হতে পারে। এজন্য গ্রেড সংখ্যা কমানোর পক্ষে তারা।
জানা গেছে, নবম পে-স্কেল নিয়ে বিভিন্ন সংস্থা, সংগঠন থেকে প্রাপ্ত মতামতগুলো চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে জাতীয় বেতন কমিশন (পে-কমিশন)। তবে এখনো সম্পূর্ণ প্রতিবেদন লেখার কাজ করা যায়নি বলে জানিয়েছে পে-কমিশন।
বাস্তবসম্মত একটি সুপারিশ প্রস্তুতির দিকে মনোযোগ দিয়েছে কমিশন। এজন্য প্রতিটি সংস্থা, দপ্তর এবং সংগঠন থেকে প্রাপ্ত প্রস্তাব গভীরভাবে পর্যালোচনা করে লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। এই কার্যক্রম শেষ হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে।