ড. ইউনূস © সংগৃহীত
বাংলাদেশি নোবেলবিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে জাতিসংঘের ‘অ্যাডভাইজরি বোর্ড অব এমিনেন্ট পার্সন্স অন জিরো ওয়েস্ট’ তথা উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন সংস্থাটির মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস। ‘জিরো ওয়েস্ট’ বা ‘শূন্য অপচয়’ বিষয়ক জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ২২ ডিসেম্বর ২০২২-এর রেজল্যুশন মোতাবেক তাকে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ড. ইউনূসের এহেন অনন্য অর্জনের জন্য তাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)। সংগঠনের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম ও মহাসচিব অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান সোমবার (১০ এপ্রিল ২০২৩) এক বার্তায় তাকে অভিনন্দন জানান।
শুভেচ্ছাবার্তায় নেতৃবৃন্দ বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এই অর্জনে আমরা শুধু নয়, গোটা বাংলাদেশের মানুষ গর্বিত। যা বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে আরো সমুজ্জল করবে। আমরা তার উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু কামনা করি। তিনি যেন বাংলাদেশকে বহির্বিশ্বে আরো বেশি করে সুনামের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে পারেন।
ইউট্যাবের নেতৃদ্বয় বলেন, আমরা জেনেছি যে, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে লেখা চিঠিতে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেছেন, “আমি বিশ্বাস করি যে, আপনার জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা জাতিসংঘের শূন্য-অপচয় বিষয়ক কর্মকান্ডকে ত্বরান্বিত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। টেকসই উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে শূন্য-অপচয় বিষয়ক কর্মকান্ডকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এই অ্যাডভাইজরি বোর্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আমি আশা করি।”
আরও পড়ুন: খালেদার আত্মত্যাগের প্রশংসা সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে: ইউট্যাব
১৩ সদস্য বিশিষ্ট এই উপদেষ্টা বোর্ডে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়াও আরো রয়েছেন তুরস্কের ফার্স্ট লেডি মিসেস এমিলি এরদোয়ান যিনি এই বোর্ডের সভাপতি, ইন্টারন্যাশনাল সলিড ওয়েস্ট অ্যাসোসিয়েশন-এর প্রেসিডেন্ট মি. কার্লোস সিলভা ফিলহো, ইকোনমিয়া সার্কুলারের নির্বাহী পরিচালক মিস লরা রেয়েস, দ্য ওয়েস্ট ট্রান্সফরমার্স’র প্রধান নির্বাহী মিস লারা ভ্যান ড্রুটেন, এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের এনার্জি এন্ড দ্য এনভায়রনমেন্ট বিষয়ের অধ্যাপক সালীম আলী, জাতিসংঘ মহাসচিবের পলিসি এক্সিকিউটিভ অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল মি. গাই রাইডার প্রমুখ।
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস এই বোর্ডের আহ্বায়ক। যিনি গত ৩০ মার্চ ২০২৩ প্রথম আন্তর্জাতিক শূন্য-অপচয় দিবসে “অ্যাডভাইজরি বোর্ড অব এমিনেন্ট পার্সন্স অন জিরো ওয়েস্ট” গঠনের ঘোষণা দেন।
নোবেল বিজয়ী ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ১৯৪০ সালের ২৮ জুন চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার বাথুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশে ক্ষুদ্রঋণের পথিকৃৎ। বাংলাদেশসহ অনেক দেশে তার ক্ষুদ্রঋণ মডেল অনুসরণ করা হচ্ছে। তার সামাজিক ব্যবসার ধারণাও বিশেষ ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে দরিদ্রদের জীবনমানের উন্নতি ঘটানোর স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৬ সালে অধ্যাপক ড. ইউনূস শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। একইসাথে তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংকও এ পুরস্কারে ভূষিত হয়।
অধ্যাপক ইউনূসকে এ পর্যন্ত বিশ্বের ৫০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয় সম্মানজনক ডিগ্রি দিয়েছে। ১০টিরও বেশি দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় পুরস্কারসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ১১২টি পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। দেশে ১৯৭৮ সালে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার এবং ১৯৮৭ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয় তাকে। আন্তর্জাতিক ৩৪টি কমিশন এবং ৩৬টি উপদেষ্টা পর্ষদের সদস্য অধ্যাপক ইউনূস। উদ্ভাবনী ব্যবসা নিয়ে নিরলস কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ফরচুন ম্যাগাজিন তাকে এ কালের মহাউদ্যোক্তা অভিহিত করেছে।