তিনবার অস্ত্রোপচারের পরও দমে যাননি, জিপিএ-৫ পেলেন শান্তা, স্বপ্ন ঢাবিতে পড়ার

৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৪ PM
 শান্তা ও তার মা

শান্তা ও তার মা © সংগৃহীত

তিনবার অস্ত্রোপচার, শারীরিক অসুস্থতা ও নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছেন রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী শান্তা আক্তার। শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে এ সাফল্য অর্জন করেন তিনি। এখন তার লক্ষ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অ্যাকাউন্টিং বিভাগে পড়াশোনা করা।

শান্তার আগে থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন। এ কারণে বন্ধুরা বিভিন্ন সময়ে ঢাবি ক্যাম্পাসে ঘুরতে গেলেও তিনি যেতেন না। তার ইচ্ছা ছিল, ভর্তি হওয়ার পর শিক্ষার্থী হিসেবে প্রথমবার ক্যাম্পাসে যাবেন। সেই স্বপ্ন পূরণের পথে এইচএসসিতে ভালো ফল করে আরও এক ধাপ এগিয়েছেন তিনি।

শান্তার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রাম। তিনবার অস্ত্রোপচার ও অসুস্থতার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন তিনি। পরীক্ষার সময়ও শারীরিক অসুস্থতা ছিল। এ সময়ে মা-বাবা, ভাই-বোন ও শিক্ষকেরা তাকে সহযোগিতা করেছেন।

শান্তার পছন্দের বিষয় অ্যাকাউন্টিং বা হিসাববিজ্ঞান। ভবিষ্যতেও এ বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করে এগিয়ে যেতে চান তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্নের কথা জানিয়ে শান্তা বলেন, ‘অ্যাকাউন্টিং বিষয়টি আমার সবচেয়ে পছন্দের। বাবা-মা ও শিক্ষকদের দোয়ায় এই বিষয় নিয়ে ভবিষ্যতে কিছু করতে চাই। আমার অনেক বন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গেছে। কিন্তু আমি যাইনি। কেন যাইনি, সেটাও কাউকে বলিনি। কারণ, আমার ইচ্ছা ছিল, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেলেই সেখানে যাব। নিজেকে ঢাবিয়ান পরিচয় দিয়ে সেখানে যেতে চাই।’

মায়ের অনুপ্রেরণাও শান্তাকে স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার আম্মু বলেন, আমি যা করতে পারিনি, সেটা যেন তুমি করো। আমার মনে হয়, আমি নিজেই সেটা করছি।’

অসুস্থতা ও অস্ত্রোপচারের সময় পরিবারের সহযোগিতার কথা তুলে ধরে শান্তা বলেন, ‘আমি যখন পরীক্ষা দিচ্ছিলাম, তখন আম্মু খুব অসুস্থ ছিলেন। আমার তিনবার অপারেশন হয়েছে। কিন্তু আম্মু, আপু ও ভাইয়া আমাকে অনেক সাপোর্ট দিয়েছেন। বিশেষ করে আমার আম্মু স্কুলের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমার সঙ্গে ছিলেন। প্রতিদিন আসতেন। আমাদের শিক্ষকরাও অনেক সহযোগিতা করেছেন। তারা না থাকলে হয়তো আমি এমন ফল করতে পারতাম না। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আজ আমি এখানে আসতে পেরেছি।’

শান্তার সাফল্যে উচ্ছ্বসিত তার মা। মেয়ের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও কষ্টের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মা হিসেবে অনেক ভালো লাগছে। গর্বে আমার বুক ফেটে যাচ্ছে। আমার মেয়ে যে এত কষ্ট করেছে! ওর জন্য আমিও অনেক কষ্ট করেছি। আমার মেয়ে যেন আরও অনেক বড় হতে পারে, সেই দোয়া করি।’

শান্তা তার সাফল্যের জন্য ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শ্রেণিশিক্ষক তাজিন মিস, শবনম মিসসহ প্রতিষ্ঠানের অন্য শিক্ষকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তার মতে, পরিবার ও শিক্ষকদের সম্মিলিত সহযোগিতা ছাড়া এই ফল অর্জন করা কঠিন হতো।

ফল প্রকাশের পর পরিবারের সদস্যদের আনন্দও ছিল চোখে পড়ার মতো। মেয়ের সাফল্যে মা ও ভাই তাকে জড়িয়ে ধরেন। বাবাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিনের অসুস্থতা, অস্ত্রোপচার ও পড়াশোনার চাপ সামলে শান্তার এই অর্জনে আনন্দিত পুরো পরিবার।

এখন শান্তার সামনে নতুন লক্ষ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া। নিজের পছন্দের বিষয় অ্যাকাউন্টিং নিয়ে পড়াশোনা করে স্বপ্ন পূরণ করতে চান তিনি।

পুকুরে লংমার্চের বাস, নিহত ১
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬
‘হুজুর, ঐ এ প্লাস আপনাদের দিলাম, পানিতে গুলে খান’— নকলের অভ…
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬
শ্রীলংকাকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬
তিনবার অস্ত্রোপচারের পরও দমে যাননি, জিপিএ-৫ পেলেন শান্তা, স…
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬
এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেলেন দৃষ্টিশক্তিহীন মৌমি
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬
কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে কত জিপিএ লাগবে, দেখে নিন একনজরে
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬