নেপালে শাফি মাহমুদ উচ্ছ্বাস © সংগৃহীত
শাফি মাহমুদ উচ্ছ্বাস। গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুরে। তার বাবা মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম এবং মা মাহমুদা আক্তার শিউলি। তারা দুই ভাই-বোন। ছোট বোন সৃজনী বর্তমানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন।উচ্ছ্বাস ঢাকার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি এবং আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। তার গল্প শুনেছেন— সিয়াম হাসান
প্রস্তুতির পথে প্রধান বাধা ছিল হতাশা
সফলতার পথে কী কী বাধা ছিল—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমার প্রস্তুতির পথে প্রধান বাধা ছিল হতাশা। বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আমি প্রচুর প্র্যাকটিস পরীক্ষা দিয়েছি। সেখানে দেখা যেত, অনেক সময়ই মনমতো নম্বর পেতাম না। এর ফলে প্রায় সবসময়ই মনে এক ধরনের হতাশা কাজ করত। কিন্তু নম্বর কম পেলেও কখনো হাল ছাড়িনি। আলহামদুলিল্লাহ, একটা পর্যায়ে আমি বিসিএস পাস করার লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছি।’
সাফল্যের পেছনে স্ত্রীর ভূমিকা
সফলতায় স্ত্রীর অনুভূতি এবং তার ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে উচ্ছ্বাস বলেন, ‘আমি ছাত্র থাকা অবস্থায়, রেজাল্টের অনেক আগেই বিয়ে করেছি। প্রস্তুতির পুরো পরিক্রমায় আমার স্ত্রীর পূর্ণ সাপোর্ট আমার ওপর ছিল। নিজের সাফল্যের ব্যাপারে আমার চেয়েও তার বেশি আত্মবিশ্বাস ছিল।
‘আমার প্রয়াত শ্বশুর পুলিশের একজন সৎ অফিসার ছিলেন। তাই পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। স্বাভাবিকভাবেই রেজাল্ট পাওয়ার পর নিকটাত্মীয় ও পরিচিতজন সবাই খুব খুশি হয়েছেন। আমার প্রস্তুতির পুরো সময় আমি পরিবারের কাছ থেকে অনেক সাপোর্ট পেয়েছি।’
‘আমার বাবা কখনোই আমার জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণে তার মতামত আমার ওপর চাপিয়ে দেননি। তাঁর মতে, জীবনে সৎ হওয়াই মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। আমি যে কাজই করি না কেন, সৎ থাকাটাই গুরুত্বপূর্ণ। ‘তিনি কখনোই বলেননি, ‘উচ্ছ্বাস, তোমাকে ক্যাডার হতেই হবে।’ বরং আমি পেশা হিসেবে যেটাই বেছে নিই না কেন, তিনি সবসময় তাতেই সন্তুষ্ট।’
নেপালে বসেই পেলেন বিসিএসের সুখবর
বিসিএসের ফল প্রকাশের দিন অনুভূতি কেমন ছিল—এমন প্রশ্নে উচ্ছ্বাস জানান, ‘আমি আসলে ঘুরাঘুরি পছন্দ করি। দেখা যেত, কখনো বাংলাদেশের ভেতরে, আবার কখনো দেশের বাইরেও ঘুরতে যেতাম। ভারতেও গিয়েছি। গত এক বছর ধরে পরিকল্পনা করছিলাম, দেশের বাইরে ঘুরতে যাব। বিয়ের পর আমার ওয়াইফকে নিয়ে নেপালে যাওয়ারও পরিকল্পনা করছিলাম।
‘বিসিএসের ভাইভার সময়ের পরের একটি সময়ের জন্য আমি টিকিট কেটে ফেলেছিলাম। মজার বিষয় হলো, বিসিএসের ফল যেদিন প্রকাশ করা হয়, সেদিন আমি নেপালে ছিলাম। আমি আর আমার ওয়াইফ একসঙ্গে ছিলাম। পুরো নেপাল ঘুরে ফেলেছিলাম এবং পরের দিন ফ্লাইটে বাংলাদেশে ফিরব। আমাদের মনও তখন খুব ভালো ছিল। এমন একটি সুন্দর পরিবেশে রেজাল্টটা পেলাম। এটা আমার জন্য খুবই চমৎকার একটি দিন ছিল।
‘আমরা আসলে সবকিছু মিষ্টি দিয়ে উদযাপন করতে চেয়েছিলাম। রেজাল্টের পরপরই আমার ওয়াইফ বলল, “ঠিক আছে, আমাদের তো মিষ্টি মুখ করা দরকার। বাসায় গিয়ে সবাইকে মিষ্টি খাওয়াবে, বাসার সবাই কনগ্র্যাচুলেট জানাচ্ছে।” তখন কী করা যায়—এটা ভেবে আমরা বের হলাম।
‘নেপালের একটি স্থানীয় সুইট শপে গেলাম। সেখানে মিষ্টির ধরনটা ছিল দুধের মিষ্টি, তবে উপস্থাপনাটা ছিল একটু ভিন্ন। আমরা ইউনিক ধরনের একটি মিষ্টি নিলাম—নামটা এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না। সেই দুইটা মিষ্টি আমরা খেলাম। এভাবেই নিজেদের মধ্যে সাফল্যটা উদযাপন করলাম।’

ক্যাডার হওয়ার চাপ দেননি বাবা
বাবা শুরু থেকেই তাকে বিসিএস ক্যাডার হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমার বাবা কখনোই আমার জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণে তার মতামত আমার ওপর চাপিয়ে দেননি। তাঁর মতে, জীবনে সৎ হওয়াই মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। আমি যে কাজই করি না কেন, সৎ থাকাটাই গুরুত্বপূর্ণ। ‘তিনি কখনোই বলেননি, ‘উচ্ছ্বাস, তোমাকে ক্যাডার হতেই হবে।’ বরং আমি পেশা হিসেবে যেটাই বেছে নিই না কেন, তিনি সবসময় তাতেই সন্তুষ্ট।’
শাফি মাহমুদ উচ্ছ্বাস সর্বপ্রথম ৪৫তম বিসিএসে অংশগ্রহণ করেন। তবে ওই বিসিএসে তিনি প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। পরবর্তীতে ৪৬তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে পুলিশ ক্যাডারে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।