৪০তম বিসিএস: ‘কনফিউশন উত্তর’ না দাগানোই প্রিলির প্রধান কৌশল!

২১ এপ্রিল ২০১৯, ০১:২১ PM
উপর বাঁ থেকে: ইফতেখায়রুল ইসলাম, জ্যোতির্ময় সাহা অপু, মো. দিদারুল ইসলাম ও মো. হালিমুল হারুন লিটন

উপর বাঁ থেকে: ইফতেখায়রুল ইসলাম, জ্যোতির্ময় সাহা অপু, মো. দিদারুল ইসলাম ও মো. হালিমুল হারুন লিটন

৩ মে ৪০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে এবার আবেদন করেছে ৪ লাখ ১২ হাজার ৫৩২ জন প্রার্থী। বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রতিযোগিতাপূর্ণ চাকরির পরীক্ষা নিয়ে প্রার্থীদের চোখে ঘুম নেই। চলছে জোর প্রস্তুতি। শেষ সময়ের প্রস্তুতি নিয়ে কয়েকজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ। দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস’র পাঠকদের জন্য তাদের কথা জানাচ্ছেন— এম এম মুজাহিদ উদ্দীন

 

ইফতেখায়রুল ইসলাম
অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন), ওয়ারী বিভাগ, ডিএমপি
বিসিএস পরীক্ষার লম্বা ভ্রমণের প্রথম ধাপটি হলো—প্রিলিমিনারী পরীক্ষা। বিসিএস নিয়ে যারা স্বপ্ন দেখেন তাদের স্বপ্নের পথের প্রথম ধাপ বললে মোটেও অত্যুক্তি করা হবে না। আর কয়েকদিন পরেই সরকারি চাকরি লাভের এই পরীক্ষার সম্মুখীন হবেন পরীক্ষার্থীরা। শেষ সময়ের এই পর্যায়ে তাই নিজেদের আরো একবার ঝালিয়ে নিতে হবে এবং সেটি যথাযথভাবেই প্রতিটি বিষয়কে আলাদা করে ভাগ করে নিতে হবে। যে বিষয়ে দখল সবচেয়ে ভালো সেটিকে অল্প গুরুত্ব দিয়ে নিজের কাছে যে বিষয়কে কঠিন মনে হয় তাতে সর্বোচ্চ জোর প্রদান করতে হবে। কিছু বিষয়ে সর্বোচ্চ নম্বর নিশ্চিত করা তুলনামূলক সহজ যেমন গণিত, বিজ্ঞান, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী। এই বিষয়ে সর্বাধিক নম্বর যেন আসে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। মূল বইগুলো পড়ার পর পর্যাপ্ত সময় থাকলে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সমাধানের চেষ্টা করলে উপকৃত হওয়া যাবে। তবে সবচেয়ে জরুরি, পরীক্ষা কেন্দ্রে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা। টার্গেট অনুসারে উত্তর প্রদান করতে গিয়ে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, ঝুঁকি নেওয়া যাবে না। অনেকে কনফিউশন ও ভুল উত্তর দাগিয়ে নেগেটিভ নম্বরের পরিধি বাড়ান; যেটি সঠিক নয়।

জ্যোতির্ময় সাহা অপু
সহকারী পুলিশ সুপার, ৩৫তম বিসিএস
শুরুতেই একটা সাধারণ ‘রোগ’ ও এর প্রতিকারের কথা বলব, এ রোগ হলো— ‘ভুলে যাওয়া রোগ।’ আপনাদের নিশ্চিত হয়ে বলছি ৯৯% পরীক্ষার্থী এ রোগে ভোগে এবং ভুগতে ভুগতে এক সময় বিসিএস নামক সাগর পাড়ি দেয়। আমি পরীক্ষার্থীদের ৩ ভাগে ভাগ করব। (১) যারা কিছুই পড়েননি, (২) যারা মোটামুটি পড়েছেন (৩) যারা আগে পড়েছেন এবং ভালো প্রস্তুতি নিয়েছেন। যারা কিছুই পড়েননি এবং মোটামুটি পড়েছেন তাদের জন্য চারটি টিপস।
প্রথমত, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো— এবারের পরীক্ষাটাকে গুরুত্ব সহকারে নিন। এবার ছেড়ে দিলাম, পরেরটা দেখে নিব চিন্তা থেকে দয়া করে বেরিয়ে আসুন। দ্বিতীয়ত, ৩৯তম থেকে ১০ম বিসিএস পর্যন্ত সকল প্রিলির প্রশ্ন সমাধান করুন। তৃতীয়ত, একটা ডাইজেস্ট কিনে যতটা সম্ভব পড়ে ফেলুন। চতুর্থত, যত বেশি সম্ভব মডেল প্রশ্ন সমাধান করুন।
আর যারা অনেক পড়েছেন তারাও টিপস ৪টি মনে রাখুন। আপনার পড়া সিলেবাসটাকে কিছুটা সংক্ষিপ্ত করুন। অপ্রয়োজনীয় কোনো কিছু মুখস্থ করা বা মনে রাখার মধ্যে বীরত্ব নেই। ২০০ প্রশ্নেরই সঠিক উত্তর দিবেন এরকম আত্মবিশ্বাসও পাগলামী চিন্তা পরিহার করুন।

‘পরীক্ষার হলে সবচেয়ে বড় যে ভুলটা হয় তা হলো ‘প্রশ্নের টাইপ ধরতে না পারা’। প্রশ্ন সহজ হয়েছে না কঠিন হয়েছে -এটা ধরতে না পারলে কতগুলো দাগানো উচিত সেটা বোঝা যায় না। যেমন ৩৭তম বিসিএস পরীক্ষার প্রশ্ন বেশ আনকমন ছিল; কিন্তু অনেকেই তা ধরতে পারেনি। তারা না বুঝেই বেশি দাগিয়েছে। ফলে নেগেটিভ মার্কসের কারণে প্রিলি থেকে বাদ পড়েছে।... ‘‘ঝুঁকি নিয়ে সবাই কমবেশি দাগায় কিন্তু তারও একটা লিমিট থাকা উচিত৷ কারণ অধিকাংশ মানুষই নেগেটিভ নাম্বারের বিষয়টা মাথায় না রাখার কারণে প্রিলি ফেল করে।’

 

মো. দিদারুল ইসলাম
পুলিশ ক্যাডারে ৮ম, ৩৭তম বিসিএস
বিসিএসটা আপনার দরকার কি না তা আগে ভাবুন। এই সময়টি কঠোর পরিশ্রমের সিদ্ধান্ত নিন। শুরুতে আপনার শক্তি ও দুর্বলতার জায়গা সিলেবাসে মার্ক করে নিন। নাওয়া-খাওয়া-ঘুম আর ধর্মকর্ম ছাড়া অন্য সব ব্যস্ততা বাদ দিন। দিনে ১৫ ঘণ্টা পরিকল্পনামাফিক পড়াশোনা করতে হবে। প্রয়োজনীয় বই-গাইড, ডাইজেস্ট ও ৩ ব্রান্ডের ৩টি মডেল টেস্ট বই সংগ্রহ নিশ্চিত করুন। প্রতিদিনের সময়টাকে ৩ ভাগে ভাগ করুন।
১ম ভাগে জানা টপিকস রিভাইস করুন। পূর্বে যেই বই বা নোট থেকে পড়েছেন, সেখান থেকেই পড়ুন। ২য় ভাগে দুর্বলতার টপিকস থেকে সহজ এবং গুরুত্বপূর্ণটি পড়ে ফেলুন। এই অংশ নিয়ে গড়িমসি করবেন না, দ্রুত পড়বেন। তৃতীয় ভাগে বেশি সময় নিয়ে মডেল টেস্ট বই থেকে প্রশ্নোত্তরগুলো পড়ে নিন। বাসায় পরীক্ষা দিলে সময় নষ্ট হবে। ৩/৪ দিনে যে কয়টা মডেল টেস্ট শেষ করবেন, তার গণিত অংশটুকু পরে একসঙ্গে সলভ করুন। একবার হলেও প্রতিটি টপিক পড়ুন। যা কঠিন, তা চিহ্নিত করে ১ দিন পর রিভাইস করবেন। শেষ সপ্তাহে শুধু রিভিশন আর প্র্যাকটিস করবেন।

মো. হালিমুল হারুন লিটন
পুলিশ ক্যাডারে ১ম, ৩৭তম বিসিএস
প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হলো— বিসিএসের প্রথম ধাপ। কৌশলগত পরিশ্রম করলে এটা পার হওয়াও সবচেয়ে সহজ। শেষ সময়ের প্রস্তুতির জন্য মনোযোগটা জরুরি। নিয়মিত এখন ১০-১২ ঘণ্টা পড়াশোনা করুন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন কম সময় দিন। নিজেকে সুস্থ রাখাটাও আবশ্যক। বিগত সালের প্রশ্নগুলো কমপক্ষে দুবার পড়ুন। সম্ভব হলে পুুরো জব সলুশন একবার পড়ুন। পরীক্ষা শুরুর ২/৩ সপ্তাহ আগে একটি মডেল টেস্ট বই কিনে ঘরে বসে মডেল টেস্ট দিন। যে প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারেননি তা চর্চা করুন। খুব বেশি নতুন কিছু পড়ার চেয়ে পুরাতনগুলো রিভিশন দেওয়াই উত্তম হবে। নতুন করে সাম্প্রতিক কিছু পড়ার আপাতত প্রয়োজন নেই। আগে যা পড়েছেন তা দেখলেই হবে। এখন নিয়মিত পত্রিকা না পড়লেও চলবে। ইংরেজি ও গণিত প্রতিদিনই অনুশীলন করুন। ডাইজেস্টভিত্তিক পড়াশোনাও এখন চালাতে পারেন। মডেল টেস্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটেই অনুশীলন করার চেষ্টা করুন। সবচেয়ে বড় কথা হলো— চাপ নিবেন না। যা পড়েছেন, যা পড়ছেন তা দিয়েই সর্বোচ্চ উত্তর করার চেষ্টা করুন। নেগেটিভ মার্কিং থেকে সতর্ক থাকুন। 

আরো খবর:বাবার দেশ বাংলাদেশে এসে ধর্ষিত হলেন পাকিস্তানি ছাত্রী

খবর: পরিবারের বিপরীতে চলে প্রশাসন ক্যাডার গাইবান্ধা কলেজের সোনালী

খবর: জীবনের গল্প: বাবার সম্মান রক্ষায় এএসপি হলেন দিদার নূর

ঈদ শেষে লন্ডন গেলেন জুবাইদা রহমান
  • ২২ মার্চ ২০২৬
ঢাবিতে ছাত্রলীগের ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, রাজু ভাস্কর্যে ‌‘কয়েক…
  • ২২ মার্চ ২০২৬
মাসুদসহ হাদি হত্যার দুই আসামিকে পশ্চিমবঙ্গের কারাগারে থাকতে…
  • ২২ মার্চ ২০২৬
এশিয়া কাপের আদলে নতুন উদ্যোগ আয়ারল্যান্ডের
  • ২২ মার্চ ২০২৬
একাত্তরের গণহত্যার স্বীকৃতির দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে…
  • ২২ মার্চ ২০২৬
জামিনে মুক্তি পেয়েই চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের ঘোষণা ছাত্রলী…
  • ২২ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence