© সংগৃহীত
নরসিংদীর মনোহরদীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের অক্সিজেন সিলিন্ডার ও স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে হামলা হয়েছে। এ সময় সেখানে সাংবাদিকসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় দুটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ক্যামেরাও ভাঙচুর করা হয়। আজ বুধবার দুপুরে মনোহরদী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন কাশবন নামের একটি রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠান চলার সময় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
অনুষ্ঠান আয়োজকদের অভিযোগ, মনোহরদী উপজেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের অন্তত ৩০ জন নেতাকর্মী এই হামলায় অংশ নেন। তবে ছাত্রলীগ এই অভিযোগ নাকচ করেছে।
ওই হামলায় আহত হয়েছেন চ্যানেল আইয়ের জেলা প্রতিনিধি সুমন রায় এবং যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার আইয়ুব খান সরকারের ব্যক্তিগত ক্যামেরা পারসন ইসমাইল মিয়া। এছাড়া ওই হামলায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের অন্তত ১৩ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।
আয়োজকেরা জানান, কেন্দ্রীয় বিএনপির উদ্যোগে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ও ড্যাবের সহযোগিতায় সারা দেশের মতো মনোহরদীতেও করোনা হেল্প সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান চলছিল। করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য এসব অক্সিজেন সিলিন্ডার ও বিভিন্ন সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণ উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মনোহরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেক মিয়া, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নাছির উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার সামস কেনেডি প্রমুখ। স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, দুপুর ১২টার দিকে অনুষ্ঠানের প্রায় শেষ পর্যায়ে ওই রেস্তোরাঁয় হঠাৎ করেই ৮-১০ জন যুবক হাতে লোহার রড নিয়ে প্রবেশ করেন। পরে তাঁরা উপস্থিত নেতা-কর্মীদের এলোপাতাড়ি পেটাতে শুরু করেন। এ সময় আহত হন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নাসির আহমেদসহ অন্তত ১৩ জন নেতা-কর্মী। ওই সময় দুই সাংবাদিক রেস্তোরাঁটির রান্নাঘরে লুকিয়ে পড়েন। পরে হামলাকারীরা ওই রান্নাঘরে ঢুকে সাংবাদিক সুমন রায় এবং ক্যামেরা পারসন ইসমাইল মিয়াকে লোহার রড দিয়ে পেটান। তাঁরা দুজনের হাত থেকে ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে আছাড় দিয়ে ভেঙে ফেলেন।
পরে স্থানীয় সাংবাদিকদের সহযোগিতায় তাদের দুজনকে উদ্ধার করে মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও হামলাকারীরা গিয়ে ইসমাইলকে ঘিরে ধরেন। তার কাছ থেকে ক্যামেরার মেমোরি কার্ড চাওয়া হয়। না দেওয়ায় হাসপাতাল চত্বরেই তাকে আবার মারধর করা হয়। আহত ব্যক্তিদের নরসিংদী সদর হাসপাতাল, মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার শামস কেনেডি বলেন, মনোহরদী উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল কবিরের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জনের একদল যুবক আমাদের ওপর হামলা করে। এই হামলায় সাংবাদিকদের পাশাপাশি জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নাছির উদ্দিনও আহত হয়েছেন। নাসির উদ্দিনের মাথায় তিনটি সেলাই দিতে হয়েছে।
তবে অভিযুক্ত উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল কবির বলেন, এই হামলা বিএনপির অন্তঃকোন্দলের অংশ। স্থানীয় বিএনপির অপর একটি পক্ষ এই হামলা চালিয়েছে। এখন নিজেদের কোন্দল ঢাকতে আমাদের নাম বলছে। আমি বা আমার নেতাকর্মীদের কেউই ঘটনাস্থলে ছিলাম না।
চ্যানেল আইয়ের জেলা প্রতিনিধি সুমন রায় বলেন, আমি গিয়েছিলাম ওই অনুষ্ঠান কাভার করার জন্য। হঠাৎ করেই এই হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় রেস্তোরাঁর রান্নাঘরের ভেতরে ঢুকেও রক্ষা পাইনি। আমাদের লোহার পাইপ ও রড দিয়ে পেটানোর পর ক্যামেরাও ভাঙচুর করেছেন তারা।
মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিচুর রহমান বলেন, এমন একটি অনুষ্ঠান হবে, এই ব্যাপারে তাঁদের কিছুই জানানো হয়নি। হামলার খবর শুনে তিনি ঘটনাস্থলে যান। পরে দুই সাংবাদিকসহ আহত ব্যক্তিদের মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।