ছাত্রদলের পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান © টিডিসি
ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। এ কর্মসূচিতে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক, চত্বর ও ভবনের আশপাশের জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়।
পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী। এ ছাড়া শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন, সদস্য সচিব রাফিজ আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ, সাবেক আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদসহ কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ছাত্রদলের নেতারা বলেন, ‘ক্যাম্পাসকে ডেঙ্গুমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন রাখতে ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। মাদকমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস গঠনে আমাদের এ ধরনের সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত ছাত্রদলের অন্যতম অঙ্গীকার। ইবি ছাত্রদল সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘আমাদের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় একটি অনন্য ও সবুজ শ্যামল ক্যাম্পাস। এই সবুজ পরিবেশ রক্ষায় আমরা ইতোমধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০ বৃক্ষরোপণ করেছি এবং চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ১০ হাজার বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছি। আজকের এই কর্মসূচির মাধ্যমে যে যাত্রার সূচনা হলো, তা যেন কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে পরিচ্ছন্নতার এই অনুশীলন বজায় রাখতে হবে। আমরা সচেতন হলে এবং ক্যাম্পাস পরিষ্কার রাখলে আমাদের শিক্ষার্থীরা ডেঙ্গুসহ নানা সংক্রামক ব্যাধি থেকে নিরাপদ থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের কয়েকটি বিষয় মনে রাখতে হবে। ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা মূলত জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে বংশবৃদ্ধি করে ও লার্ভা তৈরি করে। তাই আমাদের হল, বিভাগ, আবাসিক এলাকা ও অফিস কক্ষের কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এডিস মশা প্রধানত দিনের বেলায় কামড়ায়। তাই দিনে চলাফেরার ক্ষেত্রে এবং ঘুমানোর সময় মশারির ব্যবহারসহ সচেতনতামূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ছাড়া কেবল পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর নির্ভর না করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী—সব স্টেকহোল্ডারকে নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখতে এগিয়ে আসতে হবে।’