এক্সপ্রেসওয়েতে শিক্ষার্থীদের টোল লাগবে না: ডাকসু

২২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:১০ PM
সংবাদ সম্মেলন

সংবাদ সম্মেলন © সৌজন্যে প্রাপ্ত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের পরিবহনসংক্রান্ত দাবির আরও একটি বাস্তবায়ন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। ডাকসুর উদ্যোগে তরঙ্গ বাস রুট বসিলা পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য এক্সপ্রেসওয়েতে বাস চলাচলে আর কোনো টোল দিতে হবে না। আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে ডাকসুর হল রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডাকসুর নেতারা। 

সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ বলেন, আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী পরিবহন খাতে একাধিক কাজ ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং আরও কিছু কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর অংশ হিসেবে তরঙ্গ বাস রুটে অতিরিক্ত দুটি ট্রিপ (একটি আপ ও একটি ডাউন) বসিলা ব্রিজ পার হয়ে পরবর্তী স্টপেজ পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেল থেকেই এ সেবা শুরু হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহে অর্থাৎ রবিবার থেকে নিয়মিত সকাল ও বিকেল দুটি সময়েই বাস চলবে।

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনের সবচেয়ে দীর্ঘ বাস রুট হলো কণিকা, যেটি উত্তরা-টঙ্গী হয়ে শিববাড়ি পর্যন্ত যে বাসটি চলে (আপ ও ডাউন), দীর্ঘ যানজটের কারণে এই রুটের বাসগুলো নিয়মিত এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তা থাকলেও এটি টোল আওয়াতামুক্ত না হওয়ায় এতদিন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টোল আদায় করা হতো। এক্সপ্রেসওয়েতে টোল মওকুফ করা শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের একটি দাবি ছিল। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘ আলোচনা ও প্রচেষ্টার পর আজ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য এ টোল সম্পূর্ণ ফ্রি করা হয়েছে। টোল বাবদ প্রয়োজনীয় অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন অফিসের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমন্বয় করা হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো অতিরিক্ত অর্থ বা চাঁদা কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেবে না।

তিনি আরও জানান, খুব শিগগিরই শনিবারের বাস সার্ভিস চালুরও প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি কুমিল্লা-ভাঙ্গা কেন্দ্রিক বাস সেবার যে দাবি, আমাদের যে ইশতেহার, সেই অনুযায়ী আমরা প্রচেষ্টা চালাচ্ছি এবং এর খসড়াও প্রস্তুত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন অফিস, ট্রেজারি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এ উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।

আসিফ আব্দুল্লাহ বলেন, ক্যাম্পাসের ভেতরে রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মহোদয় ও ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশের সহযোগিতায় ক্যাম্পাসের আটটি প্রবেশপথে নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনায়, নির্দিষ্ট পোশাকের আওতায় রিকশা চলাচল ব্যবস্থা শুরু করা হবে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে নতুন বাস কেনার পথে যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা প্রত্যাহারের দাবিতে অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা চলছে। নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী বাস সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি, এসব বিষয় খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান করে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা চালু করতে। আমাদের উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে সান্ধ্যকালীন ট্রিপ চালু করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। অনেক বাসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা এতটাই বেশি যে অনেককে দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

আমরা পরিবহন খাতে আমাদের ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়নের পাশাপাশি, ইশতেহারের বাইরে যেসব যৌক্তিক দাবি ও চাহিদা শিক্ষার্থীদের রয়েছে, সেগুলোকেও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছি। আমাদের লক্ষ্য হলো- শিক্ষার্থীদের প্রতিটি যৌক্তিক দাবি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা। এ উদ্দেশ্যে সকল বাসরুটের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা একযোগে কাজ করে যাচ্ছি।

ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ডাকসু শিক্ষার্থীদের কাছে নিজেদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চায়। সে লক্ষ্যেই ডাকসু নির্বাচনের আগে যেমন শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে তাদের প্রত্যাশা ও পরামর্শ নেওয়া হয়েছিল, নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত চার মাসে ডাকসু কী কী কাজ করেছে এবং কোন কাজগুলো চলমান রয়েছে- তা পর্যালোচনার জন্য নিয়মিত হলভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি হলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় অর্ধেক অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও বসে তাদের সমস্যাগুলো শোনা হচ্ছে এবং যেখানে ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো পূরণের চেষ্টা চলছে। খুব শিগগিরই গত চার মাসের কাজের অগ্রগতি নিয়ে একটি বিস্তারিত সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি।

ভিপি সাদিক কায়েম আরও বলেন, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের পরিবহন সমস্যা দীর্ঘদিনের। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি বাস রুটের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারকারী শিক্ষার্থীদের টোল পরিশোধের বিষয়টি ছিল একটি বড় সংকট। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ইউজিসির চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় এখন থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য এক্সপ্রেসওয়ে টোল সম্পূর্ণ ফ্রি করা হয়েছে, যা একটি বড় অর্জন।

তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তরঙ্গ বাস রুট বসিলা ব্রিজ পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে যে শনিবার বাস সার্ভিস চালু হয়নি, তা নিয়ে দীর্ঘদিন আন্দোলন ও দাবি থাকলেও বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে এবং খুব দ্রুত শনিবারের বাস সার্ভিস চালু করা হবে। এজন্য আমাদের পরিবহন সম্পাদক সহ ডাকসুর পুরো টিম কাজ করেছেন।

ভিপি জানান, ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থিত সুফিয়া কামাল হল, কুয়েত মৈত্রী হল ও শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত শাটল বাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন বাস যুক্ত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। পরিবহন খাতে শিক্ষার্থীদের যেসব যৌক্তিক দাবি রয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে পূরণ করা হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে ওয়াই-ফাই সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে টিএসসি ও ভিসি চত্বরের আশপাশের এলাকায় দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে সেখানে স্টার লিংকের ব্যবস্থা করা। এর মাধ্যমে যেন শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেট ব্যবহারের অধিকারটুকু নিশ্চিত করা যায়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, সদস্য মিফতাহুল হোসাইন আল মারুফ, শাহিনুর রহমানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি বাস রুটের সভাপতি, সেক্রেটারি ও সংশ্লিষ্টরা।

টানা মূল্যবৃদ্ধির পর কমল সোনার দাম
  • ২২ জানুয়ারি ২০২৬
ভর্তির শর্ত–২ হাজার টাকার বই কেনা, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ২৬ বছর…
  • ২২ জানুয়ারি ২০২৬
নির্বাচনের ছুটিতে খোলা থাকবে যেসব প্রতিষ্ঠান
  • ২২ জানুয়ারি ২০২৬
ময়মনসিংহে  বাস উল্টে নিহত ২
  • ২২ জানুয়ারি ২০২৬
জামায়াতকে ‘বন্ধু’ বানাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, কূটনীতিকের অডিও …
  • ২২ জানুয়ারি ২০২৬
নোবিপ্রবিতে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের নতুন সংগঠন ‘বর্ধিত সাদা দ…
  • ২২ জানুয়ারি ২০২৬