মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে ইশতেহার পাঠ করেন প্যানেলের জিএস প্রার্থী মেঘমল্লার বসু © টিডিসি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ নির্বাচনে (ডাকসু) ১৮ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাম ছাত্র সংগঠন সমর্থিত ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ প্যানেল। রবিবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ইশতেহার পাঠ করেন প্যানেলের জিএস প্রার্থী মেঘমল্লার বসু।
প্রতিরোধ পর্ষদ' প্যানেলের ১৮ দফা ইশতেহারগুলো হলো
ডাকসুর কাঠামো সংস্কার ও ক্ষমতা বৃদ্ধি: একাডেমিক ক্যালেন্ডারে নির্বাচন নির্ধারণ; সিনেটে ন্যূনতম ১০ জন ছাত্র প্রতিনিধি; অপসারণ/বিলুপ্তি শিক্ষার্থীদের গণভোটে; অনুষদভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচন।
শিক্ষার্থীদের ক্ষমতায়ন ও মানসম্মত শিক্ষা: বাণিজ্যিকীকরণ-বেসরকারিকরণ বন্ধ; ফি বৃদ্ধি ও জরিমানা বাতিল; ৩ মাসে ফল প্রকাশ বাধ্যতামূলক; শিক্ষক মূল্যায়ন কার্যকর; অস্বচ্ছলদের জন্য বৃত্তি বৃদ্ধি।
গবেষণায় অগ্রাধিকার: বাজেটের ১০ শতাংশ গবেষণায় বরাদ্দ; গবেষণাগার আধুনিকায়ন; শিক্ষার্থীদের রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ; থিসিসে সিজিপিএ বাধা দূর।
আবাসন সংকট নিরসন: সন্ত্রাস-দখলদারিত্ব বন্ধ; নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কার; ১ম বর্ষ থেকেই সিট নিশ্চিত; গণরুম-গেস্টরুম-র্যাগিং নিষিদ্ধ; হলে সিসি ক্যামেরা কার্যকর।
নারীবান্ধব ক্যাম্পাস: নারী শিক্ষার্থীর সাইবার সুরক্ষা, মতপ্রকাশ ও চলাফেরার স্বাধীনতা নিশ্চিত; যৌন নিপীড়নবিরোধী সেল কার্যকর; প্রতিটি ফ্যাকাল্টি ও হলে ভেন্ডিং মেশিন; গর্ভবতী/সদ্য মা হওয়া শিক্ষার্থীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও ব্রেস্টফিডিং কর্নার; ‘লোকাল গার্ডিয়ান’ হয়রানি ও নিয়মকানুন বাতিল; হলে প্রবেশের সময়সীমা প্রত্যাহার।
সব জাতিসত্তার অধিকার: পাহাড় ও সমতলের সব জাতিসত্তার ভাষা-সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং সমঅধিকার নিশ্চিত।
খাদ্য ও পুষ্টি সুরক্ষা: প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ক্যাফেটেরিয়া; প্রতিদিন ৮০০ ক্যালরি মানসম্পন্ন খাবার; ভর্তুকি দিয়ে দাম কমানো, বৈচিত্র্যময় মেন্যু ও রাত ১২টা পর্যন্ত খাবারের ব্যবস্থা; সব একাডেমিক ভবনে ক্যাফেটেরিয়া; খাবারের মান নিয়মিত পরীক্ষা।
শারীরিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা: মেডিকেল সেন্টারকে আধুনিক ও ১০০ শয্যায় উন্নীত করা; ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসক, নার্স, অ্যাম্বুলেন্স নিশ্চিত; কেন্দ্রীয় ঔষধাগার ও প্রতিটি হলে ফার্মেসি চালু; নারী শিক্ষার্থীদের রাতের চিকিৎসা-সংক্রান্ত জটিলতা দূর।
মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা: মেন্টাল হেলথ সাপোর্ট সেন্টার গড়ে তোলা; থেরাপি সেবা সম্প্রসারণ; হতাশা, আসক্তি ও আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতা; মাদকমুক্ত ক্যাম্পাস; স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও মানসিক প্রশান্তি-বিষয়ক কর্মশালা।
লাইব্রেরি ও রিডিং স্পেস: কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ২৪ ঘণ্টা খোলা; নতুন ভবন নির্মাণ; নিয়মিত নতুন বই ও ই-রিসোর্স সংযোজন; আন্তর্জাতিক জার্নাল ও টুলস বিনামূল্যে প্রবেশাধিকার; মেয়েদের হলের রিডিংরুম সার্বক্ষণিক খোলা; প্রতিটি অনুষদে নিরাপদ কমনরুম।
প্রকাশনা সংস্থা: বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা সংস্থা সচল করা; নিয়মিত বই ও গবেষণাপত্র প্রকাশ এবং মাতৃভাষায় উচ্চশিক্ষার জন্য অনুবাদ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা।
মুক্ত পরিসর: বেহাত জমি উদ্ধার; মুক্ত পরিসর ও পরিবেশ রক্ষা;এবং শিক্ষার্থী-ডাকসু প্রতিনিধিদের যুক্ত করে মাস্টার প্ল্যান পুনর্মূল্যায়ন।
সাহিত্য-সংস্কৃতি: হলগুলোতে শিল্পচর্চার জন্য আলাদা রুম;অডিটোরিয়াম সংস্কার; নিয়মিত আড্ডা ও মাসিক পত্রিকা প্রকাশ;বৃত্তি প্রদান;লোক উৎসব ও বহুজাতিক সাংস্কৃতিক আয়োজন।
পরিবহন: নিজস্ব বাস ক্রয় ; পূর্ণাঙ্গ পরিবহন নীতিমালা;রুট ও ট্রিপ বৃদ্ধি; রাত ৮টা পর্যন্ত বাস; শনিবার সার্ভিস; অভ্যন্তরীণ শাটল চালু।
ক্রীড়া: বার্ষিক স্পোর্টস ক্যালেন্ডার;নতুন মাঠ ও পুরনো মাঠ উদ্ধার; কেন্দ্রীয় মাঠ শুধু খেলাধুলায় ব্যবহারের নিশ্চয়তা; জিম-সুইমিংপুল আধুনিক ও নারীবান্ধব করা; প্রতিটি হলে ইনডোর গেমস।
পরিবেশ ও প্রতিবেশ: নির্মাণে ধুলা-দূষণ নিয়ন্ত্রণ;ডাস্টবিন বৃদ্ধি ; পার্কিং নিয়ন্ত্রণ; যানজট-হর্ন নিয়ন্ত্রণ;গণশৌচাগার নির্মাণ; পুরনো গাছ সংরক্ষণ; সবুজায়ন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা।
গণতন্ত্র ও স্বায়ত্তশাসন: ৭৩-এর অধ্যাদেশ সংশোধন; প্রশাসনিক-একাডেমিক কাজে সরকারি হস্তক্ষেপ বন্ধ; শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশ ও সংগঠনের অধিকার নিশ্চিত; বৈষম্যমুক্ত ও প্রতিবন্ধীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলা।
মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন: মুক্তিযুদ্ধ ও আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণে আর্কাইভ ও প্রকাশনা ;গবেষণা বৃত্তি; গণআন্দোলনে সংহতি এবং বিশ্বব্যাপী যুদ্ধবিরোধী অবস্থান।