বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমান কর্তৃক জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য প্রদান করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদ’ প্যানেলের জিএস প্রার্থী মাহিন সরকার।
রবিবার (২৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে এক সমাবেশে এ ঘোষণা দেন মাহিন সরকার।
মাহিন সরকার বলেন, ‘আমাদের অভ্যুত্থানকে যদি কেউ অস্বীকার করে, আমাদের রক্ত দিয়ে কেনা অর্জনকে কেউ প্রশ্নবিদ্ধ করে আমরা কেউ তাদের ছেড়ে কথা বলব না। আমার দেখেছি ফজলুর রহমান গতকাল আরও একটি ধৃষ্টতাপূর্ণ মন্তব্য করেছে যার মাধ্যমে চব্বিশের অভ্যুত্থানের যে বৈধতা সেটার দিকে তিনি আঙুল তুলেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেড় হাজারের বেশি শহীদের রক্তই আমাদের বৈধতা, আমাদের বিশ হাজারের বেশি আহত তারাই আমাদের বৈধতা। শুধু চব্বিশ নয় , চব্বিশের আগেও যতোগুলো আন্দোলন হয়েছে এবং সেখানে যারা শহীদ হয়েছে আমার প্রত্যেকের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু আমাদের চব্বিশের নিজের হাতে গড়া আন্দোলনকে যদি কেউ প্রশ্নবিদ্ধ করে , আমাদের চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানকে যদি কেউ প্রশ্নবিদ্ধ করে, কৃষক শ্রমিকের ত্যাগকে যদি কেউ প্রশ্নবিদ্ধ করে আমরা তাকে ছেড়ে কথা বলবো না। তার এই ধৃষ্টতাপূর্ণ মন্তব্যের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটি থেকে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো।’
আরও পড়ুন: ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতা, বাতিল হচ্ছে জুলিয়াস সিজারসহ দুজনের প্রার্থিতা
‘সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদ’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী জামালুদ্দীন মুহাম্মদ খালিদ বলেন, ‘৪৭ আমাদের ইতিহাস, ’৬৯ আমাদের ইতিহাস, ’৭১ আমাদের ইতিহাস, ’৯০ আমাদের ইতিহাস এবং ’২৪ আমাদের ইতিহাস। সুতরাং ইতিহাস নিয়ে যারা কথা বলবে, তারাই অবাঞ্চিত হবে। সে যে বক্তব্য দিচ্ছে কয়েক দিন ধরে আমরা বুঝতে পারছি না তারেক রহমান কেন তাকে ছেড়ে দিয়েছেন। আপনারা কী তাদের ভোটের জন্য ছেড়ে দিয়ে রেখেছেন? সে আপনাদের মৌলিক ভোটগুলো আরোও নষ্ট করবে।’
মাহিন সরকার বলেন, ‘তিনি যে বক্তব্য দিচ্ছেন আমার তাকে একক ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করছি না। তার এ কাজের দায়ভার বিএনপিকে নিতে হবে, ছাত্রদলকেও নিতে হবে। যারা ছাত্রদলের ডাকসু প্রার্থী রয়েছেন তাদেরও নিতে হবে। ফজলুর রহমানের এই ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদ ছাত্রদল করে কি না, আমরা তা দেখব। ছাত্রদলের যিনি ভিপি প্রার্থী আছেন, আবিদুল ইসলাম খান তিনিও একজন জুলাই যোদ্ধা, জিএস ও এজিএস যারা আছেন, তারাই জুলাই যোদ্ধা এখন আমরা দেখবো তাদের দলের লোক যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার প্রতিবাদ করে কি না।’