ছাত্রনেতাদের সাথে কথা বলছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। © টিডিসি ফটো
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের পরে করার দাবি জানিয়েছে ছাত্রলীগ। তবে এই দাবির বিরোধিতা করেছেন অন্য ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফেডারেশন, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (২টি) এই আলোচনায় অংশ নেয়।
শনিবার দুপুরে উপাচার্য কার্যালয় সংলগ্ন অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে ছাত্রনেতাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক আলোচনা সভায় নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরে ছাত্র সংগঠনগুলো। আদালতের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো আখতারুজ্জামান।
ছাত্রলীগের ঢাবি শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস সাংবাদিকদের জানান, ডাকসু একটি জাতীয় ইস্যু। এটা কোন ছোট বিষয় নয়। দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে বন্ধ থাকা এই নির্বাচন কয়েক মাসের মধ্যে করা সম্ভব নয়। তাই জাতীয় নির্বাচনের আগে নয়, নির্বাচনের পরে যত দ্রুত সম্ভব ডাকসু নির্বাচন করা হোক।
তবে আলোচনায় অংশগ্রহণ করা বাকি সংগঠনগুলোর নেতারা জানান, তাঁরা জাতীয় নির্বাচনেই আগেই যত দ্রুত সম্ভব ডাকসু নির্বাচন আয়োজন করার দাবি জানিয়েছেন।
ছাত্রনেতাদের বক্তব্যের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো আখতারুজ্জামান বলেন, ডাকসু নির্বাচন সকলের দাবি। এটি আয়োজনে যে চ্যালেঞ্জ রয়েছে তা সকলকে সাথে নিয়ে মোকাবেলা করা হবে। তবে সুবিধাজনক সময়ে ডাকসু নির্বাচন তথা ভোটের আয়োজন করা হবে।
গত ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ক্রিয়াশীল সংগঠনগুলোর সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক বরাবর পাঠানো হয়। কর্তৃপক্ষ কতটি সংগঠনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে তা সুনির্দিষ্টভাবে বলেনি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বলেন, ক্রিয়াশীল সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
প্রসঙ্গত, আদালতের নির্দেশনা অনুসারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় ভিসিসহ তিন জনকে গত ৪ সেপ্টেম্বর আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। গত ১২ সেপ্টেম্বর আদালতের নির্দেশনার পরও ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মো. আক্তারুজ্জামানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করা হয়। এর পরই কর্তৃপক্ষ ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা আহ্বান করে। এ হিসেবে অনেকে মনে করছেন এটি বাধ্যবাধকতার একটি সভা, আন্তরিক উদ্যোগ নয়।