পঞ্চম-ষষ্ঠ শ্রেণির পরীক্ষায় অঙ্কে ফেল, ইংরেজিতেও খারাপ অবস্থা ব্রিটিশ এমপিদের © সংগৃহীত
শিক্ষার্থীদের জন্য অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা বাতিল আর পরীক্ষা দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থা বোঝার জন্য যুক্তরাজ্যের এমপিদের নিয়ে ওয়েস্টমিনস্টারে করা হয়েছিল একটি পরীক্ষার আয়োজন।
দেশটির সংসদ সদস্যদের পরীক্ষার ফলাফল দেখলেই হতাশ হতে পারেন যে কেউ। তাদের মধ্যে অঙ্কে ফেল অর্ধেকের বেশি। ইংরেজির অবস্থা আরও বাজে। তাদের অধিকাংশ পার্লামেন্ট সদস্য ব্যাকরণ, বানান ও যতি চিহ্নের ব্যবহার নিয়ে গড়বড় পাকিয়ে ফেলেছেন।
তাদের পরীক্ষা নেয়া হয়েছিল পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণির অঙ্ক ও ইংরেজির। কিন্তু পরীক্ষায় লেজেগোবরে অবস্থা দেখা যায় ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্যদের। পরীক্ষায় অংশ নেওয়াদের মধ্যে অঙ্কে পাস করতে পারেননি ৪৪ শতাংশ আইনপ্রণেতা। অনেকেই কোনোমতে পাস নম্বর পেয়েছেন; ইংরেজিতে পাস করেছেন তাদের মাত্র ৫০ শতাংশ।
আরও পড়ুন: যুক্তরাজ্যের স্কুলগুলোতে সবচেয়ে ভালো করছে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো এ বছর ষষ্ঠ শেণির পরীক্ষায় ইংরেজি ও অঙ্কে পাস করেছে দেশটির ৭২ ও ৭১ শতাংশ পড়ুয়া। কিন্তু তাদের পারফরম্যান্সের ধারেকাছে পৌঁছাতে পারেননি দেশ চালানোর ভার নীতি-নির্ধারকরা। তাদের একজন এমপি এমা হার্ডি পরীক্ষার পর তার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলেন, এই ধরনের পরীক্ষা নেওয়া খুব দরকার। যাতে আমরা ওই ছোটদের পরিস্থিতিটা বুঝতে পারি। জানতে পারি, কতটা চাপ থাকে তাদের ওপর।
অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা বাতিলের জন্য পার্লামেন্টের সদস্যদের জন্য নেওয়া হয় মহড়া পরীক্ষা (মক টেস্ট। ‘মোর দেন আ স্কোর’ নামের একটি প্রচার গ্রুপ এ পরীক্ষার আয়োজক। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সংসদদের মধ্যে শিক্ষা নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান রবিন ওয়ালকারও রয়েছেন। এ বছর পুরো ইংল্যান্ডে ১০ থেকে ১১ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা স্যাট (এসএটিএস) পরীক্ষায় অংশ নেবে। এ পরীক্ষা নেওয়া হয় পরীক্ষা নিয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থা বোঝার জন্য।
ওয়ালকার ১০ ও ১১ বছর বয়সীদের জন্য পরীক্ষা সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার স্বীকার করেন। কিন্তু সম্পূর্ণভাবে পরীক্ষা বাদ দিতে চান না। তিনি বলেন, পরীক্ষার একটি ব্যবস্থা থাকা দরকার। তবে পরীক্ষাই সর্বোত্তম পদ্ধতি হয় নয়, তবে সুযোগও। পরীক্ষা কেবল যাচাইয়ের পদ্ধতি নয়, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি ভালোবাসা কেমন সেটাও বোঝার দরকার।
ওয়ালকারের মন্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে ড্রুমন্ড বলেন, আমরা শুধু শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় পাসের জন্য শিক্ষিত করছি না, আমাদের উচিত, তাদের শেখার প্রতি ভালোবাসা তৈরি করে দেওয়া। ব্যাকরণ পরীক্ষায় অনেক কিছু ছিল অপ্রয়োজনীয়। মূল্যায়ন করা উচিত, তবে সেগুলো এত বেশিভাবে উচিত নয়। এটি বেশ কঠিন পরীক্ষা ছিল। আমাদের ভাবতে হবে ভবিষ্যতের জন্য আসলে কী উপকার হবে।
দ্য গার্ডিয়ান থেকে ভাষান্তর