জেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়ের ছাদে ফাটল, জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান

১০ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৯ PM
পুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে পাঠদান

পুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে পাঠদান © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার পুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবার জেলার শ্রেষ্ঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। অথচ বিদ্যালয়টির জীর্ণদশা দেখলে মনে হয়, দীর্ঘদিনের অবহেলা আর অযত্ন একে নিঃশেষ করছে তিলে তিলে।

মেয়াদোত্তীর্ণ ভবনটির ফাটল ধরা ছাদের নিচেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। মাঝে মাঝেই খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা। ভাঙাচোরা দরজা-জানালা আর স্যাঁতসেঁতে শ্রেণিকক্ষ।

মোহনগঞ্জ-ধর্মপাশা সড়কের পাশে উপজেলার বামেরচর এলাকায় অবস্থিত বিদ্যালয়টি ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৭৩ সালে জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে সাতজন শিক্ষক ও ১৬৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

দীর্ঘদিনেও বিদ্যালয়টিতে কোনো নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়ায় দুটি একতলা ভবনেই পাঠদান কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে ১৯৯৭ সালে নির্মিত ভবনটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

প্রায় দুই বছর আগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন সোহাগ সিদ্দিকী। যোগদানের পর থেকে তিনি শিক্ষার মানোন্নয়নে নেন নানান উদ্যোগ। শিক্ষার্থীদের পাঠে মনোযোগী করা, অভিভাবকদের সচেতন করা, নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা ও বিভিন্ন উদ্ভাবনী কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। এতে অভিভাবকদের আস্থা ফিরে আসে এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বাড়তে থাকে। এসব সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে এবার বিদ্যালয়টি জেলার শ্রেষ্ঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্বাচিত হয়েছে।

প্রধান শিক্ষক সোহাগ সিদ্দিকী বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। শিক্ষার্থীদের পাঠে মনোযোগী করা, অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করা এবং বিভিন্ন উদ্ভাবনী কার্যক্রম চালু করেছি। কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো শ্রেণিকক্ষের সংকট। বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস নিতে হচ্ছে। শিক্ষকদের অফিসও ওই ভবনে। সারাক্ষণ আতঙ্কে থাকতে হয়। বহুবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। দ্রুত একটি নতুন ভবন নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় মেরামতের ব্যবস্থা করা হলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে পাঠ নিতে পারবে।

বিদ্যালয়ের সদ্য নির্বাচিত ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য আরিফুল ইসলাম বলেন, জেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পাওয়ায় আমরা গর্বিত। কিন্তু বিদ্যালয়টি উন্নয়নবৈষম্যের শিকার হয়েছে। একটি ভবন মেয়াদোত্তীর্ণ, ছাদে ফাটল, পলেস্তারা খসে পড়ছে, দরজা-জানালা ভাঙা; অন্য ভবনটিও প্রায় ২০ বছরের পুরোনো এবং সেখানে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নেই। ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন।'

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তথ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো নতুন ভবনের বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য যেসব বিদ্যালয়ের তথ্য পাঠানো হয়, সেখান থেকে অধিদপ্তরই নির্বাচন করে বরাদ্দ দেয়। এতে উপজেলা পর্যায়ের কোনো ভূমিকা থাকে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন বলেন, বিদ্যালয়ের ফাটলসহ প্রয়োজনীয় মেরামতের কাজ দ্রুত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নতুন ভবন নির্মাণের জন্যও আবেদন করা হবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদুল আজম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তথ্য উপজেলা পর্যায়ের কমিটি পাঠিয়ে থাকে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মূল্যায়নের জন্য নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে যুবদলের পদবঞ্চি…
  • ১০ জুলাই ২০২৬
দেশে স্থায়ী বন্যার শঙ্কা নেই 
  • ১০ জুলাই ২০২৬
আযানের শব্দে মুগ্ধ হলেন আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী 
  • ১০ জুলাই ২০২৬
পাকিস্তান সফরে গেলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা.জাহিদ
  • ১০ জুলাই ২০২৬
গেঞ্জি পরে বন্যাদুর্গতদের কাছে যাওয়ার কারণ জানালেন জামায়াত …
  • ১০ জুলাই ২০২৬
শেখ হাসিনা দেশে ফিরবে, ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্য: নাহিদ
  • ১০ জুলাই ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • JULY 26, 2026
  • Admission Test
  • AUGUST 01, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
FALL 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence