ভারী বৃষ্টিতে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ও অফিস রুমে ঢুকেছে পানি © টিডিসি
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় বৃষ্টি হলেই পানিতে থই থই করে দবরদস্তা আমিনা চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ। পাশের পুকুরের পানি উপচে শ্রেণিকক্ষ ও অফিস রুমেও ঢুকে পড়ে। এতে বই, গুরুত্বপূর্ণ নথি ও আসবাব ভিজে নষ্ট হচ্ছে। বছরের প্রায় ছয় মাস এমন জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বিদ্যালয়ের ২৮২ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। দীর্ঘ ১০-১৫ বছর ধরে এ সমস্যা চললেও এখনো মেলেনি স্থায়ী সমাধান।
সরেজমিন বিদ্যালয় পরিদর্শন করে দেখা গেছে, মাঠ থেকে অফিস রুমসহ শ্রেণিকক্ষ অনেকটা নিচু। বিদ্যালয়ের পাশেই রয়েছে একটি পুকুর। বৃষ্টি পানি পুকুর ভরাট হয়ে সেই পানি বিদ্যালয় মাঠ ভরে অফিস রুম ও শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে। প্রধান শিক্ষকের রুম ও শিক্ষক মিলনায়তন পুকুরের সঙ্গে হওয়ায় সব সময় পানিতে স্যাঁতসেঁতে অবস্থা থাকে। পানির হাত থেকে বই, মূল্যবান ডকুমেন্ট রক্ষার জন্য টেবিল-আলমামিসহ অন্য আসবাবের নিচে ইট দিয়ে উঁচু করে রাখা হয়ে হয়েছে। বিদ্যালয় মাঠে পানি থাকায় কাদা পানি মাড়িয়ে প্রবেশ করায় প্রতিটি শ্রেণিকক্ষের মেঝেতে লেগে আছে কাদা।
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিম আকতার বলে, ‘ষষ্ঠ শ্রেণিতে পর থেকে বর্ষাকালে বিদ্যালয়ে পানি দেখছি। বিদ্যালয় থেকে পানি দূর না হওয়ায় বর্ষাকালের ৬ মাস লেখাপড়া বিঘ্নিত হয়। মাঠে খেলাধুলা করা যায় না। আমরা একটি স্থায়ী সমাধান চাই দ্রুত।’
বিদ্যালয়ের শিক্ষক মজিবর রহমানসহ অন্য শিক্ষকরা জানান, বর্ষার ছয় মাস পাঠদান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসতে চায় না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নার্গিস সুলতানা জানান, বৃষ্টি হলেই পানি উঠে মাঠ অফিস ও ক্লাসে বিষয়টি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসকে জানানো হয়েছে অনেকবার। বিদ্যালয়ের সঙ্গেই একটি পুকুর রয়েছে। বৃষ্টি হলে পানি বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। বিদ্যালয়ের ১২ জন শিক্ষকসহ ৬ জন কর্মচারী রয়েছেন। বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ২৮২ জন। ১০-১৫ বছর ধরে বর্যায় বিদ্যালয়ে জলবদ্ধতার সৃষ্টি হলেও এর কোন স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায়নি।
ফুলবাড়ীয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান দেশের বাইরে থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।