৫ বছরেও চালু হয়নি ২৮ বিদ্যালয়, ৩ কিমি হেঁটে স্কুলে যাচ্ছেন শিশুরা!

০৫ জুলাই ২০১৯, ১১:৩৫ AM

যেসব গ্রামে সরকারি বা বেসরকারি কোনো ধরনের প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই, সেসব গ্রামে একটি করে প্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। ২০১১ সালে এ কাজ শুরু হয়। ২০১৫ সালের জুনের মধ্যে তা শেষ হওয়ার কথা। এ প্রকল্প অনুযায়ী বিদ্যালয়বিহীন দেশের ১ হাজার ৫০০ গ্রামে একটি করে বিদ্যালয় স্থাপিত হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই উদ্যোগ পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। ওই প্রকল্পের আওতায় গোপালগঞ্জের পাঁচটি উপজেলায় ২৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ করা হয়। তবে, শিক্ষক সংকটে এসব বিদ্যালয় পুরোপুরি চালু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের তিনটিসহ পাঁচটি বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে সম্পন্ন হয়। কিন্তু এখনও কোনও শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। ফলে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। যদিও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বলছেন, দ্রুতই চালু করা হবে এসব বিদ্যালয়।

স্থানীয়রা জানান,বিদ্যালয় চালু না হওয়ায় জালালাবাদ ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের শিক্ষার্থীদের প্রায় তিন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রামের বিদ্যালয়ে যেতে হয়। এতে শিশুদের লেখাপড়ায় বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। বিদ্যালয় নির্মাণ হলেও চালু না হওয়ায় হতাশ স্থানীয়রা। কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার গিয়েও কোনও প্রতিকার মিলছে না। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত থাকায় নষ্ট হচ্ছে ভবনগুলোর চেয়ার, টেবিল, বেঞ্চসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী।

জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২৮টি স্কুলের মধ্যে কোনও শিক্ষক নেই (চালু হয়নি) পাঁচটিতে, একজন করে আছেন ৯টি স্কুলে, দু’জন করে একটিতে, তিন জন করে ছয়টিতে, চার জন করে তিনটিতে এবং পাঁচ জন করে শিক্ষক আছেন চারটি স্কুলে।

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনন্দ কিশোর সাহা বলেন, ‘দ্রুত এ সংকট কাটিয়ে উঠবো। আগামীতে নিয়োগ হলে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে, এসব বিদ্যালয় পুরোদমে চালু করা হবে।’

জানা গেছে, দেশে প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চিত্র অনুসন্ধানে এ মন্ত্রণালয় ২০০৮ সালে একটি সমীক্ষা চালায়। সমীক্ষার প্রতিবেদন একই বছর ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হয়। ওই সমীক্ষা অনুযায়ী দেশের ১৬ হাজার ১৪২টি গ্রামে সরকারি বা বেসরকারি কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। এ পরিসংখ্যান প্রকাশিত হওয়ার পর সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায় থেকে এসব গ্রামে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কথা বলা হচ্ছে। তবে এসব গ্রামের আয়তন ও জনসংখ্যার ঘনত্ব বিবেচনা করে অবশ্য সরকার শেষ পর্যন্ত ১ হাজার ৯৪৩টি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য প্রকল্পও গ্রহণ করে। যদিও শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি। গ্রহণ করা হয় ‘১ হাজার ৫০০ বিদ্যালয়বিহীন গ্রামে বিদ্যালয় নির্মাণ প্রকল্প’।

জানা গেছে, নতুন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় মূলত দুটি মানদণ্ডকে গুরুত্ব দিয়ে ২০১১ সালে প্রকল্প কাজ শুরু করা হয়। মানদণ্ডের একটি হচ্ছে- যে গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হবে সে গ্রামে কমপক্ষে দুই হাজারের বেশি জনসংখ্যা থাকতে হবে। অপরটি হলো- যে গ্রামের দুই কিলোমিটারের মধ্যে কোনো সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই সে গ্রামকে প্রাধান্য দেয়া। এছাড়াও স্কুলের স্থান নির্বাচনে বন্যায় নদী ভাঙ্গন ও শিশুদের যাতায়াত সুবিধা বিবেচনায় নেয়া হয়।

বিসিএস একটা হাইপ, একটা ট্রাপ আর সমাজ-পরিবারের চাপিয়ে দেয়া প…
  • ০৬ এপ্রিল ২০২৬
পৈতৃক বাড়িতে সুচিত্রা সেনের ৯৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন
  • ০৬ এপ্রিল ২০২৬
এক্সিকিউটিভ নিয়োগ দেবে মেরী স্টোপস, আবেদন শেষ ১৫ এপ্রিল
  • ০৬ এপ্রিল ২০২৬
‘সংস্কার থেকে পিছিয়ে গেলে আরেকটি অভ্যুত্থানের প্রস্তুতি শুর…
  • ০৬ এপ্রিল ২০২৬
৯টা বাজতেই বন্ধ গেট, নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হতে পারেননি ৩২ …
  • ০৬ এপ্রিল ২০২৬
ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ডিগ্রি নিলে নিষেধাজ্ঞা
  • ০৬ এপ্রিল ২০২৬
close