বরিশালে ২৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৫২ PM
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত

সহকর্মীকে ফাঁসাতে ছাত্রীকে দিয়ে মিথ্যা মামলা করানো এবং বিদ্যালয় জাতীয়করণে দুর্নীতির অভিযোগের দায়ে বরিশালে ২৪ শিক্ষকসহ মোট ২৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এবং বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আদেশ দেন।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া শিক্ষকরা হলেন- বরিশাল নগরীর হালিমা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক এসএম ফখরুজ্জামান, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাজমা বেগম, শিক্ষক শেখ জেবুন্নেছা, ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল ও মামলার বাদী সেকান্দার আলী।

এছাড়া দুদকের মামলায় বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ৯টি ভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ জন শিক্ষক গ্রেপ্তারি পরোয়ানাপ্রাপ্ত হয়েছেন। তারা হলেন- পুতুল রানী মন্ডল, কল্যানী দেবনাথ, গোলাপী রানী, সাবনিন জাহান, সুরাইয়া সুলতানা, সুবর্না আক্তার, কাওসার হোসেন, মো. মনিরুজ্জামান, ফাতেমাতুজ হোজরা, রোকসানা খানম, শহিদুল ইসলাম, রেশমা আক্তার, রহিমা খাতুন, আকতার হোসেন খোকন, নাছরিন, মনির হোসেন, রেহেনা পারভীন, আহসান হাবীব, সামসুন্নাহার, আক্তারুজ্জামান মিলন ও মনিরুজ্জামান।

মামলার বরাত দিয়ে বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী আজিবর রহমান জানান, ২০২৪ সালের ৬ মে হালিমা খাতুন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ১৩ শিক্ষার্থী ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষক মাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলে প্রধান শিক্ষকের বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয়।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির মনগড়া রিপোর্টের ভিত্তিতে শিক্ষক মাইদুল ইসলামকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে ম্যানেজিং কমিটি। পরে এক শিক্ষার্থীর অভিভাবককে দিয়ে তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে মামলা করান প্রধান শিক্ষক।

আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্ত শেষে পিবিআইর উপ-পরিদর্শক মো. বাশার রিপোর্ট দাখিল করেন। তদন্ত রিপোর্টে বাদী শিক্ষককে ফাঁসাতে মিথ্যা অভিযোগে মামলা করেন বলে উল্লেখ করা হয়। উঠে আসে প্রকৃত ঘটনা।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিক্ষক মাইদুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালে পুনঃতদন্তের আবেদন করলে বিচারক বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষক ও আইসিটি) উপমা ফারিসাকে তা তদন্তের দায়িত্ব দেন। পরবর্তীতে তার দেওয়া ১৪ পৃষ্ঠার তদন্ত রিপোর্ট পর্যালোচনা করে সাবেক ও বর্তমান প্রধান শিক্ষক, বাদী ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষক মাইদুল ইসলামের জানান, প্রধান শিক্ষক সিন্ডিকেটের অনিয়ম, দুর্নীতি এবং কোচিং বাণিজ্যের প্রতিবাদ করায় তাকে দফায় দফায় হয়রানি করা হয়েছে। সেই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীর অভিভাবককে দিয়ে তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মিথ্যা মামলা করা হয়।

আগেও গণিতের এক শিক্ষককে একইভাবে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগের মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল। সেই মামলার অভিযোগও মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে বলে জানান শিক্ষক মাইদুল ইসলাম।

অন্যদিকে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী কামরুল ইসলাম জানান, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ৯টি কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগের মামলায় ৯টি বিদ্যালয়ের ২১ জন শিক্ষককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন জেলা ও দায়রা জজ শেখ ফারুক হোসেন।

মামলার বরাতে বেঞ্চ সহকারী জানান, জাতীয়করণের ক্ষেত্রে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের ভুয়া রেকর্ডপত্র তৈরি করে নিয়োগ দেখিয়ে এক কোটি ১৫ লাখ ২৯ হাজার ৩১৮ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনায় ২০২০ সালের ৯ ডিসেম্বর ১৮ জনকে অভিযুক্ত করে বরিশাল দুদক কার্যালয়ের তৎকালীন সহকারী পরিচালক ও বর্তমান কেন্দ্রীয় দপ্তরের উপ-পরিচালক হাফিজুর রহমান মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক রাজ কুমার সাহা ২১ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

উচ্চশিক্ষায় স্কলারশিপ দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্…
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে শিক্ষাসফরে গেল এনএসইউ’র মার্…
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
শিক্ষকদের বদলি আবেদন দুইদিনে ৭ হাজার ছাড়াল
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
এইচএসসি পাসেই চাকরি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসে, আবেদন ৩ সেপ্টেম্…
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে যা বললেন এলজিআরডি মন্ত্রী  
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
না ফেরার দেশে ঢাবি ছাত্র হাবিবুর রহমান শুভ
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬