হাইকোর্টের আদেশে দায়িত্বে ফিরেও নিজের কক্ষে ঢুকতে পারছেন না প্রধান শিক্ষক

০২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৭ AM
নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়

নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় © সংগৃহীত

হাইকোর্টের আদেশে দায়িত্বে ফিরেছেন সাতক্ষীরার নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল মালেক গাজী। তবে দায়িত্বে ফেরার পরও নিজের কক্ষে বসে দাপ্তরিক কাজ করতে পারছেন না তিনি। টানা দুই দিন প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা থাকায় এ নিয়ে বিদ্যালয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে হাইকোর্টের আদেশের কপি নিয়ে বিদ্যালয়ে যান প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল মালেক গাজী। তিনি সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. সেলিমুল ইসলামকে আদালতের কাগজপত্র দেখিয়ে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে প্রবেশ করেন এবং সেখান থেকে দাপ্তরিক কাজ শুরু করেন। এ সময় শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও কয়েকজন অভিভাবক তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রধান শিক্ষক জানান, ওই দিন তিনি স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যালয়ের বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ করেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেন। 

তবে সেদিন রাতেই তার কক্ষের তালা পরিবর্তন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরদিন বুধবার সকালে বিদ্যালয়ে এসে আবারও কক্ষের তালা পরিবর্তন দেখতে পান প্রধান শিক্ষক। তার দাবি, কক্ষের ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কাগজপত্র ও আদালতের নথি রয়েছে। এরপর বৃহস্পতিবারও তিনি বিদ্যালয়ে এলেও নিজের কক্ষে ঢুকতে পারেননি।

প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল মালেক গাজী বলেন, হাইকোর্টের আদেশের কপি নিয়ে আমি বিদ্যালয়ে এসে দায়িত্ব পালন করেছি। সহকারী প্রধান শিক্ষককে কাগজ দেখিয়েছি। তিনি সেটি সভাপতির কাছে পাঠিয়েছেন বলে আমাকে জানিয়েছেন। এরপরও রাতে আমার কক্ষের তালা পরিবর্তন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমার গুরুত্বপূর্ণ অফিসিয়াল কাগজপত্র ও আদালতের কাগজ কক্ষের ভেতরে রয়েছে। আমি দায়িত্বে ফেরার পরও নিজের কক্ষে ঢুকতে না পারাটা দুঃখজনক।

তবে কক্ষের তালা পরিবর্তনের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. সেলিমুল ইসলাম। তিনি বলেন, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে প্রধান শিক্ষককে জানানো হয় যে সভাপতির সঙ্গে কথা হয়েছে এবং সভাপতি কক্ষের চাবি চেয়েছেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষক চাবি দেননি।

সহকারী প্রধান শিক্ষক বলেন, কক্ষের চাবি নৈশপ্রহরীর কাছে ছিল। পরে তালা পরিবর্তন করা হয়। রাত ৮টার দিকে তালা পরিবর্তনের সময় আমি উপস্থিত ছিলাম। কমিটির সদস্য করিব আহমেদও সেখানে ছিলেন। এরপর সকালে আবারও তালা পরিবর্তন করা হয়েছে।

তালা পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি সভাপতির পরামর্শে শিক্ষক প্রতিনিধি ও নৈশপ্রহরীর সঙ্গে কথা বলে করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষককে সভাপতির সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি সমাধান করে আসতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি কামরুজ্জামান বলেন, প্রধান শিক্ষক এর হাইকোর্টের কপি কেউ আমার কাছে দেয়নি। আমি পেলে তার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হবে। 

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আলমগীর কবির বলেন, প্রধান শিক্ষক হাইকোর্টের আদেশের ভিত্তিতে দায়িত্বে থাকার কথা জানিয়ে তার দপ্তরে একটি চিঠি দিয়েছেন। তবে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির পদসংক্রান্ত বিষয়ে তার দপ্তরে কোনো চিঠি আসেনি বলে জানান তিনি। একজন শিক্ষক রাতের বেলায় এসে কেন তালা পরিবর্তন করবেন। শিক্ষক রাতে এসে তালা পরিবর্তন করবে কেন?

প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল মালেক গাজীর করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। আদালতের আদেশে ১৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখের তার বিরুদ্ধে দেওয়া নোটিশের কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। এরপর ২৯ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ে গিয়ে দায়িত্ব পালনের কথা জানান তিনি।

স্তন ও জরায়ুমুখের ক্যান্সার সচেতনতায় ইবি শিক্ষার্থীদের ক্যা…
  • ০২ অক্টোবর ২০২৬
মেদ গলানো থেকে ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণ, কালো কফি নাকি গ্রিন টি—…
  • ০২ অক্টোবর ২০২৬
সেশনজটের বলির পাঠা ইবি শিক্ষার্থী মামুন, আটকে গেল প্রধানমন্…
  • ০২ অক্টোবর ২০২৬
সরকারি কোয়ার্টারের লিফট ছিঁড়ে গুরুতর আহত ৩
  • ০২ অক্টোবর ২০২৬
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় জনসংযোগ: একটি রূপরেখা
  • ০২ অক্টোবর ২০২৬
গুগল ফরমে স্বামী খুঁজলেন নারী, ২৪০ পুরুষের আবেদন
  • ০২ অক্টোবর ২০২৬