© ফাইল ফটো
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে পদোন্নতি, বেতন গ্রেডসহ নানা ব্যাপার নিয়ে ক্ষোভ ও হাতাশা ক্রমেই বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা তাদের দাবিগুলো সরকারের নিকট জানিয়ে আসলেও এখনো আশানুরুপ সিদ্ধান্ত আসেনি। এমনকি এনিয়ে কয়েকদফা বড় আন্দোলনও হয়েছে। তবে সম্প্রতি কিছু বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় দাবি বাস্তবায়ন হতে পারে বলে আশা করছেন প্রাথমিক শিক্ষকেরা।
অপরদিকে এ বিষয়ে দ্রুত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না পেলে কঠোর আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন শিক্ষকেরা। বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের কর্মসূচি শিগরিগিই আসছে বলে জানা গেছে। প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতির সুযোগ না থাকাকে অবহেলা ও অসম্মানজনক বলেও মনে করছেন তারা।
বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোঃ বদরুল আলম দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক পদে ৬৫ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে এর সঙ্গে আমরা একমত নই, এটা অসম্মানজনক। এ পদে শতভাগ পদোন্নতি দেওয়া হোক সেটাই আমাদের দাবি।’
তিনি বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক পদে মেধা ও যোগ্যতার আলোকে শতভাগ পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ দিতে হবে। এ ব্যাপারে আগামী ১ মে আমাদের সংগঠনের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে।’ সাংবাদিক সম্মেলন, মানববন্ধন, স্মারকলিপি কিংবা অবস্থানের মতো কর্মসূচিও আসতে পারে বলে এই শিক্ষক নেতা জানান।
অপরদিকে ১১তম গ্রেড দেওয়ার দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন করে আসছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। সরকারও তাদের দাবি আদায়ে বিভিন্ন সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে এখনো দাবি না মানায় ক্ষুব্ধ তারাও। এমনকি রমজানের ছুটিতে কঠোর কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনার কথাও তারা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘১১তম গ্রেডের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসলেও আমরা এখনো কোন ইতিবাচক সিদ্ধান্ত পাইনি। বরং মন্ত্রণালয়ে নানাভাবে এটি বিলম্বিত করা হচ্ছে। শিগগিরই দাবি আদায় না হলে আন্দোলনের বিকল্প নেই। এমনকি রমজানের ছুটিতে অবস্থান কর্মসূচি শুরু হতে পারে। এ ব্যাপারে জেলা ও থানা পর্যায়ে আলোচনা চলছে।’
আরো পড়ুন: প্রাথমিকে শতভাগ পদোন্নতির সুযোগ না থাকা অসম্মানজনক
শিক্ষকদের সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রাথমিক শিখ্ষকদের জন্য কিছু সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে এসেছে। এছাড়া তাদের দাবিসহ কিছু সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। তবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সেগুলো বাস্তবায়িত হতে অহেতুক দেরি হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তারা।
শিক্ষকেরা জানিয়েছেন, প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১০তম গ্রেডে গেজেট করার জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এছাড়া সহকারী প্রধান শিক্ষক পদ সৃষ্টির গেজেট যেকোন মূহুর্তে প্রকাশ হতে পারে। সেটি হলে তারা ১১তম গ্রেডে বেতন পাবেন। সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে পদোন্নতি দেওয়া হবে। সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেলও দুই ধাপ বৃদ্ধি করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এর বাইরে বছরেই চলতি দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের স্থায়ীকরন করা হবে এবং এক হাজার ৭০০ শিক্ষক ও ৩০০ কর্মকর্তা/কর্মচারীকে বিদেশে পাঠানো হবে। স্ব স্ব বিদ্যালয়ে প্রশ্নপত্র তৈরী ও মুদ্রণের নির্দেশনার পাশিাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে এক শিফটে চালানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তারা আরও জানিয়েছেন, প্রধান শিক্ষকদের এটিইও পদে ধারাবাহিক বিভাগীয় পদোন্নতি দেওয়া হব। এরমধ্যে ৬০ শতাংশ প্রধান শিক্ষকদের মধ্য থেকে এবং বাকি ৪০ শতাংশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ প্রদান করা হবে। এছাড়া চলতি বছর এক লাখ নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য স্লীপের অনুদান চল্লিশ হজার থেকে বাড়িয়ে এক লক্ষ ও প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন দৃষ্টিনন্দন, আকর্শনীয় ও বহুতলা বিশিষ্ট করার পরিকল্পনা সরকার করছে বলেও তারা জানিয়েছেন।
আরো পড়ুন: কী আছে আজকের প্রাথমিকের বিধিমালায়?
তবে প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতি ও সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড নিয়ে ক্রমেই অসন্তোষ বাড়ার কথা বলেছেন তারা। বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোঃ বদরুল আলম দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে আরো বলেন, ‘শতভাগ পদোন্নতি অবশ্যই দিতে হবে। মন্ত্রী ও সচিবদের নিকট আমরা লিখিত দিয়েছি। তবে সেখানে নানা ধরণের অজুহাত দেখানো হয়, যা অপ্রত্যাশিত।’ এছাড়া সহকারী শিক্ষকদের দাবি যৌক্তিক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ ব্যাপারে আরো বলেন, ‘আমরা সব অঞ্চলের শিক্ষকদের সঙ্গে ১১তম গ্রেডের দাবির ব্যাপারে যোগাযোগ করছি। সবাই একসঙ্গে আন্দোলন না করলে দাবি আদায় হবে না। তবে রমজানেই কর্মসূচি পালন করা হতে পারে।’ এসময় প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতি থাকা যৌক্তিক এবং এতে তাদেরও সমর্থন আছে বলে উল্লেখ করেন এই শিক্ষক নেতা।
আরো পড়ুন: ১১তম গ্রেড নিয়ে এখনো অন্ধকারে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকরা