বর্জ্য সংগ্রহ করছে ইনস্পায়ার টিম © সংগৃহীত
সবুজায়নের মাধ্যমে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে ভিন্নধর্মী এক উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যমী কিছু শিক্ষার্থী। টিউশন ফি হিসেবে টাকা নয় দিতে হবে দৈনিক এক কেজি বর্জ্য। এর মাধ্যমে যেমনি নিশ্চিত হবে পরিবেশের দূষণরোধ তেমনি শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে অবহেলিত শিশুরা। আলোকিত হবে শিশুর মন। পরিবেশ ফিরে পাবে সবুজের ছোঁয়া।
২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে স্বরুপ দেব ও রুহুল আমিন রুবেলকে নিয়ে ইনস্পায়ার নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন জাহাঙ্গীর আলম। এই সংগঠনের মাধ্যমে রাজধানীর বিভিন্ন বস্তির সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের মাঝে শিক্ষা পৌছে দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেন সংগঠনটি। এর অংশ হিসেবে তারা বস্তিগুলোর প্রত্যেক পরিবার থেকে দৈনিক এক কেজি বর্জ্য বা আবর্জনা সংগ্রহ করছেন। এর বিনিময়ে পরিবারের শিশুরা শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে।
রাজধানীর কড়াইল ও তেজগাঁও বস্তিতে ইনস্পায়ার টিমের এ কার্যক্রম চালু আছে। ইতিমধ্যেই বস্তির শিশুদের জন্য সংগঠনটি দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি স্কুল ভাড়া করেছে। যেখানে দুইজন শিক্ষক ছয়টি ব্যাচে ১৩০ শিশুকে পাঠদান করেন; যা উৎসাহিত করেছে বস্তির ৪০০ পরিবারকে। দীর্ঘমেয়াদে ইনস্পায়ার এসব শিশুকে উচ্চশিক্ষায় বৃত্তি প্রদানেরও পরিকল্পনা করছে। এই মুহূর্তে তাদের কাজের পরিধি রাজধানীর কড়াইল ও তেজগাঁও বস্তিতে সীমাবদ্ধ থাকলেও পর্যায়ক্রমে ঢাকার বড় সব বস্তিতে ছড়িয়ে দিতে চায় উদ্যোক্তারা।
আবর্জনার বিনিময়ে বস্তির শিশুদের শিক্ষিত করা ছাড়াও আরও দুইটি কাজ হাতে নিয়েছে ইনস্পায়ার। ঢাকার বিভিন্ন রেস্তোরা থেকে জৈব বর্জ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে তারা। জৈব বর্জ্য দিয়ে তারা জৈব সার উৎপাদন করবে। ‘চাষির হাসি জৈব সার’ নামে এই সার মাত্র ২৪ টাকা কেজিতে কৃষককে সরবরাহ করা হবে। চাষাবাদে কৃষক যেসব সমস্যার সম্মুখীন হন তার মধ্যে বাজারে সারের উচ্চমূল্য অন্যতম। এই ব্যবস্থা কৃষকের জন্য সহায়ক হবে বলে মনে করে ইনস্পায়ার। ইনস্পায়ারের তৃতীয় কাজ বস্তিগুলো আলোকিত করা। ‘আলো’ নামে এই উদ্যোগ বস্তিবাসীকে স্বল্পমূল্যে সোলার প্যানেল প্রদান করবে।
ইনস্পায়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মানুষ যখন তাদের বর্জ্য সম্পদ হিসেবে দেখতে পায়, তখন তারা পুনর্ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে ওঠে। এটাই মানুষের মাঝে সাস্টেইনিবিলিটি বৃদ্ধির কার্যকরী ও বাস্তবসম্মত উপায় বলে মনে করেন তিনি।
সর্বোপরি জাতির জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষায় সবুজ অর্থায়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনুপ্রাণিত করা, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষাদান, সাশ্রয়ী জৈব সারে উৎসাহিত করা ও সবুজ চাষাবাদের মতো উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে চলেছে ‘ইনস্পায়ার’।