প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী
প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান © সংগৃহীত
প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, প্রাথমিকে ঝরে পড়া রোধ এবং শিক্ষার গুণগতমান বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশের প্রায় ৯৮ ভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল চালু হয়েছে। শিগগিরই সেটি শতভাগে হবে।
সরকার কোন সাহায্য ছাড়াই, শুধুমাত্র সরকার প্রধানের অনুপ্রেরণায় আমরা এটা করতে পেরেছি। তাই আগামী ২৬ তারিখ সংসদে আমার ভাষণে মিড ডে মিল কর্মসূচি সফল করায় দেশের সকল মাকে সালাম জানাবো। তাদের জন্য থাকবে অন্তর ছোঁয়া ভালাবাসা।
রোববার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উদ্যোগে শুরু হওয়া দুইদিনব্যাপী উদ্ভাবন মেলা ও শোকেসিং-২০১৮ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। রাজধানীর মিরপুরস্থ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মাল্টিপারপাস হলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাচ্চারা বিদ্যালয়ের যাওয়ার সময় সঙ্গে টিফিনে খাবার দিবেন। দুপুরে সেটি তারা স্কুলে সহপাঠীর সঙ্গে খাবেন। এর ফলে তারা শেয়ারিং ও কেয়ারিং শিখবে। এটি প্রথম শুরু করেছিলাম আমার নিজ দুই থানায়। চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারিতে দুই থানার সব স্কুলে এটি চালু হয়েছে। ১৪ মার্চ জেলায় এবং ৩১ মার্চের মধ্যে পুরো বিভাগে (রংপুর) এটি চালু হয়। দেশব্যাপী এ উদ্যোগে আমরা সমস্ত মায়েদের সম্পৃক্ত করতে পেরেছি। পৃথিবীর কোন দেশে এ উদ্যোগ নেই। সর্বশেষ দেশের ৯৮ ভাগ সরকারি বিদ্যালয়ের মিড ডে মিল চালু হয়েছে।
তিনি বলেন, যেসব বাচ্চারা দুপুরের পরও ক্লাশে থাকে তাদের খাবারটা মা দৈনন্দিন টিফিনে করে দেয়। ফলে মায়ের সঙ্গে ওই বাচ্চার সবচেয়ে বেশি বন্ধুত্ব সৃষ্টি হবে। তাদের বন্ধনটাও দিনদিন আরও বেশি পোক্ত হবে। এই আইডিয়া থেকে আমাদের চালু। এতে কোন সরকারের সহায়তা নেই। সম্পূর্ণভাবে বাচ্চার মায়েরা এটি দিয়ে থাকে। যদি সরকার সহায়তা করতো তাহলে বছরে ২৪ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতো।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মান এগিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সঠিক শিক্ষা দিয়ে তাদের মেধা ও শরীর সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা বাড়াতে হবে। শিক্ষার্থীদের ক্লাসকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতে প্রতিটি স্কুলে ক্রিড়া ও সংগীত বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে।
তিনি বলেন, আমরা একটি অভিজ্ঞ টিম নিয়ে কাজ করছি। এ কারণে অল্প সময়ের মধ্যে সারাদেশে মোবাইলের মাধ্যমে উপবৃত্তি প্রদান, মিডডে মিল চালু করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে আরও বিভিন্ন ধরণের উদ্ভাবনী আইডিডয়া নিয়ে করা হচ্ছে। তার মধ্যে পেনশন সহজীকরণ, ই-মনিটরিং, সিস্টেম, ডিপিই আ্যাকাউন্টিং সিস্টেম, ই-প্রাইমারি স্কুল সিস্টেম ও প্রাথমিক বিদ্যালয় ই-ব্যবস্থাপনা, টিচার রিক্রুটমেন সিস্টেম, আমার স্বপ্ন আমার স্কুল, প্রয়াস, সততার দোকান, কর্মবীর অন্যতম।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আসিফ উজ জামান বলেন, আমাদের মিড ডে মিল ও মোবাইলের মাধ্যমে উপবৃত্তি প্রদান অনেক সাড়া পড়েছে। তিনি সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায় এমন আরও নতুন নতুন উদ্ভাবনী বা ভাবনা তৈরির জন্য শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ইনোভেশন জার্নির উপর উপস্থাপনাকালে অধিদপ্তরের শিক্ষা অফিসার মো: শরীফ উল ইসলাম বলেন, দেশে জনপ্রসাশনে উদ্ভাবন চর্চাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার লক্ষ্যে ‘ইনোভেশন টিম’ গঠন করা হয়। এ প্রেক্ষিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরেও গঠিত হয় ‘ইনোভেশন টিম’ এবং শুরু হয় প্রাথমিক শিক্ষায় উদ্ভাবনের যাত্রা। কম খরছে, দ্রুততার সঙ্গে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছানের মাধ্যমে জনপ্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ইনোভেশন সেলের গৃহীত নানাবিধ উদ্ভাবনী উদ্যোগ ইতোমধ্যে অবদান রাখতে শুরু করেছে। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে অধিদপ্তর পর্যায়ে ১৩টি, মাঠ পর্যায়ে ১৭২টি, এবং ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে মাঠ পর্যায়ে ২৩২টি উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা অনেকগুলো ইতোমধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপারিচালক ড. মো: আবু হেনা মোস্তফা কামালের সভাপত্বিতে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এফ এম মঞ্জুর কাদির, অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. রমজান আলী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ও ইনোভেশন অফিসের মো: সাবের হোসেন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে রাজধানীর বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ মেলায় ৩০টি প্রতিষ্ঠান তাদের উদ্ভাবনী আইডিয়া প্রদর্শন করেন। ‘আপনার উদ্ভাবনী ধারণা শিক্ষায় আনবে সম্ভাবনা’ শীর্ষক এ উদ্ভাবন মেলা শেষ হবে আজ সোমবার। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।