সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান © সংগৃহীত
জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জে ১০ জনকে হত্যার ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের জন্য আবেদন জানিয়েছে প্রসিকিউশন। রবিবার (১৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ আবেদন করা হয়।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান। তিনি এ মামলায় আনা তিনটি অভিযোগ তুলে ধরে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন জানান। তবে ডিসচার্জের জন্য সময় চান আসামিপক্ষ। পরে আসামিপক্ষে শুনানির জন্য আগামী ২৩ এপ্রিল দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
এ প্রসঙ্গে প্রসিকিউটর পালোয়ান বলেন, ছাত্র-জনতাকে হত্যার জন্য পুরো পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন শামীম ওসমান। তিনি নিজেও অস্ত্র হাতে নিয়ে গুলি করেছেন। তার একটি অডিও ক্লিপ ট্রাইব্যুনালকে শোনানো হয়েছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের অনুমতি নিয়ে নিজের সশস্ত্র বাহিনী তথা এ মামলার ১১ আসামিকে সঙ্গে রেখে নারায়ণগঞ্জে হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠেছিলেন সাবেক এই সাংসদ।
তিনি বলেন, ‘আমরা এ মামলায় ১৮টি ভিডিও ফুটেজ, অডিও প্রায় ৩০০ পৃষ্ঠার দালালিক নথিপত্র দাখিল করেছি। ৬১ জন চাক্ষুষ সাক্ষীর তালিকা আমরা জমা দিয়েছি। এসব প্রমাণাদির ভিত্তিতে আমরা ১২ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হব বলে ট্রাইব্যুনালকে জানিয়েছি।’
এ মামলায় শামীম ওসমান ছাড়াও তার ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে। তবে সবাই পলাতক। তাদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দিয়েছেন আদালত।
প্রসিকিউশনের আনা তিনটির প্রথম অভিযোগ হলো- ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চাষাঢ়া, ফতুল্লা থানাধীন সাইনবোর্ডসহ আশপাশের এলাকায় কিশোর আদিল, ইয়াছিন, শিক্ষার্থী পারভেজ, পোশাককর্মী রাসেল, ছয় বছরের শিশু রিয়াসহ ছয়জনকে হত্যা করা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগ অনুযায়ী ২১ জুলাই ফাতুল্লা থানাধীন ভূইগড় বাসস্ট্যান্ডের সামনে আবদুর রহমান ও মোহাম্মদ রাকিবকে হত্যা করা হয়। তৃতীয় অভিযোগে ৫ আগস্টে বদিউজ্জামান ও আবুল হাসানকে হত্যা করা হয়।
এই তিন অভিযোগে ১২ আসামির বিরুদ্ধে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। একই দিন অভিযোগ আমলে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল-১।