করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে ২০২০ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা না হওয়ায় জেএসসি এবং এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার বিষয় ‘ম্যাপিং’ করে পরীক্ষার্থীদের ফল মূল্যায়ন করা হয়েছে।
শনিবার (৩০ জানুয়ারি) একযোগে ১১টি শিক্ষা বোর্ডের এই পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। এতে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এইচএসসি ও সমমানে গতবার পাসের হার ছিল ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। তার আগের বছর ছিল ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ।
এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৮০৭ জন শিক্ষার্থী। গতবার এই সংখ্যা ছিল ৪৭ হাজার ২৮৬। তার আগের বছর ছিল ২৯ হাজার ২৬২।
রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সকালে এক অনুষ্ঠানে এই ফল প্রকাশ হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে ডিজিটালি এই পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেন। পরে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি কিভাবে ‘ম্যাপিং’ করে পরীক্ষার্থীদের ফল মূল্যায়ন করা হয়েছে তার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
এইচএসসি/সমমান পরীক্ষার বিষয় ম্যাপিং পদ্ধতি:
১) সাধারণভাবে জেএসসি/সমমান পরীক্ষার ২৫% ও এসএসসি/সমমান পরীক্ষার ৭৫% বিষয়ভিত্তিক নম্বর বিবেচনা করে এইচএসসি-২০২০ এর ফলাফল নির্ধারণ করা হয়েছে;
২) জেএসসি/জেডিসি পরীক্ষার আবশ্যিক বাংলা, ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ের নম্বরের ২৫% ও এসএসসি/সমমান পরীক্ষার আবশ্যিক বাংলা, ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ের নম্বরের ৭৫% বিবেচনা করে এইচএসসিতে আবশ্যিক বাংলা, ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ের নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে;
৩) বিজ্ঞান গ্রুপের ক্ষেত্রে জেএসসি/সমমান পরীক্ষার গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ে প্রাপ্ত গড় নম্বরের ২৫% ও এসএসসি/সমমান পরীক্ষার পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন ও উচ্চতর গণিত/জীববিজ্ঞান বিষয়ের ৭৫% নম্বর বিবেচনা করে যথাক্রমে এইচএসসি এর পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন ও উচ্চতর গণিত/জীববিজ্ঞান বিষয়ের নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে;
৪) ব্যবসায় শিক্ষা গ্রুপের ক্ষেত্রে জেএসসি/সমমান পরীক্ষার গণিত ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে প্রাপ্ত গড় নম্বরের ২৫% ও এসএসসি/সমমান পরীক্ষার গ্রুপভিত্তিক তিনটি সমগােত্রীয় বিষয়ের ৭৫% নম্বর বিবেচনা করে যথাক্রমে এইচএসসি এর ব্যবসায় শিক্ষা গ্রুপের তিনটি সমগােত্রীয় বিষয়ের নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
৫) মানবিক ও অন্যান্য গ্রুপের ক্ষেত্রে জেএসসি/সমমান পরীক্ষার গণিত ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে প্রাপ্ত গড় নম্বরের ২৫% ও এসএসসি/সমমান পরীক্ষার গ্রুপভিত্তিক পরপর তিনটি বিষয়ের ৭৫% নম্বর বিবেচনা করে যথাক্রমে এইচএসসি এর মানবিক ও অন্যান্য গ্রুপের তিনটি বিষয়ের নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে;
৬) গ্রুপ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জেএসসি/সমমান পরীক্ষার গণিত ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে প্রাপ্ত গড় নম্বরের ২৫% ও এসএসসি/সমমান পরীক্ষার গ্রুপভিত্তিক পরপর তিনটি বিষয়ের ৭৫% নম্বর বিবেচনা করে যথাক্রমে এইচএসসি এর মানবিক ও অন্যান্য গ্রুপের তিনটি বিষয়ের নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে;
৭) জিপিএ উন্নয়নের ক্ষেত্রে উপরে বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে;
৮) আংশিক বিষয়ের পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে অকৃতকার্য বিষয়ের নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে উপরে বর্ণিত পদ্ধতিতে ফলাফল নির্ধারণ করা হয়েছে।