© টিডিসি ফটো
সিদ্ধান্ত হয় প্লাস্টিক ব্যবহার বর্জনের ডাক দিয়ে ১৫০ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে পরিভ্রমণের। শুরুতে এতো পথ পাড়ি দেয়া কঠিন মনে হলেও সফল হওয়ার আত্মবিশ্বাস ছিলো। ছিলো নতুন কিছু করার স্বপ্ন। আর তা থেকেই মাত্র পাঁচ দিনে এতটা পথ পায়ে হেঁটে পাড়ি দিয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোভার স্কাউটের তিন সদস্য। গতকাল রোববার রাতে (২৮ মার্চ) কক্সবাজার জেলার টেকনাফে গিয়ে তারা পরিভ্রমণের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। প্রেসিডেন্ট রোভার স্কাউট অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তির লক্ষে গত ২৪ মার্চ সকালে চট্রগ্রামের লোহাগাড়া থেকে তারা যাত্রা শুরু করেন।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথমবারের মতো পরিভ্রমণে যাওয়া এ দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও সিনিয়র রোভারমেট খোরশেদ আলম। বাকি দুজন হলেন, ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রোভারমেট আব্দুর রহমান ও অর্থনীতি বিভাগের ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রোভারমেট রাশেদুল আমীন।
যাত্রাপথে তারা মানুষকে বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন করার চেষ্টা করেন। কখনও প্লাস্টিক ব্যবহার বর্জন, কখনও মাদকের ভয়াবহতা আবার কখনও করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে মানুষকে সচেতন করেছেন। এ ছাড়াও রাষ্ট্রীয় সম্পদ অপচয় রোধ করতেও তারা মানুষকে আহ্বান করেন।
১৫০ কিলোমিটারের এ পদযাত্রার শুরুটা একটু চ্যালেঞ্জিং হলেও পাঁচটি দিন খুব উপভোগ করেছেন বলে জানান দলনেতা খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরাই প্রথম। আর এ কারণে আমাদের শুরুতে গাইডলাইন দেয়ার মতো কেউ ছিলো না। কিন্তু বলে বোঝাতে পারবো না, আমরা পথিমধ্যে মানুষের এতো বেশি সহযোগিতা ও ভালোবাসা পেয়েছি যে আমাদের কষ্টকে কোন কষ্টই মনে হয়নি। এটা ছিলো আমাদের জন্য অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা।’
পাঁচ দিনের পরিভ্রমণে শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ হলেও মানসিক শক্তি তাদেরকে লক্ষ্যে পৌঁছাতে সহযোগিতা করেছে। পুলিশ প্রশাসন এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে খুরশেদ বলেন, ‘আমরা প্রতিটি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) সহযোগিতা পেয়েছি। তারা নিয়মিত খোজখবর নিয়েছেন। এছাড়া শিক্ষক-সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সবাই সহযোগিতা করেছেন।’
এ পরিভ্রমণকে শিক্ষণীয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা যা শিখেছি, তা কোনোদিন বই পড়ে শিখতে পারতাম না। মানুষের সংস্কৃতি, আচার-ব্যাবহারসহ অনেক ধারণা নিতে পেরেছি আমরা। এখন আমাদের কাছে কোন পথই কঠিন মনে হবে না। এটা জীবনের বড় পাওয়া।’
প্রসঙ্গত, রোভারিংয়ের সর্বোচ্চ অ্যাওয়ার্ড ‘প্রেসিডেন্ট রোভার স্কাউট অ্যাওয়ার্ড (পিআরএস)’ প্রাপ্তির লক্ষ্যে সেবা স্তরের রোভারদের পায়ে হেঁটে ১৫০ কিলোমিটার বা নৌকাযোগে ৩০০ কিলোমিটার অথবা সাইকেলযোগে ৫০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে একটি প্রোগ্রাম সম্পন্ন করতে হয়, যা স্কাউটিংয়ে র্যাম্বলিং বা পরিভ্রমণ নামে পরিচিত।