বর্জ্য অব্যবস্থাপনায় ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে জবি ক্যাম্পাস

০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৩:৩১ PM

© টিডিসি ফটো

সাত একরের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে নেই কোন ময়লা-আর্বজনা ফেলার  নির্দিষ্ট জায়গা বা ডাস্টবিন।  ফলে যেখানে সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। এতে করে নষ্ট হচ্ছে পুরো ক্যাম্পাসের পরিবেশ।

সম্পূর্ণ ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করেও কোথাও মিলে না  ময়লা ফেলার জন্য প্লাস্টিকের ঝুড়ি বা পাত্র। প্রশাসনের চরম অবহেলায় ও ব্যবস্থাপনার অভাবে জায়গায় জায়গায় জমেছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। ফলে দিন দিন বর্জ্য অব্যবস্থাপনায় ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যাপীঠ।

সরোজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের যেখানে-সেখানে যত্রতত্র ভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ময়লা আর্বজনা। এসব আবর্জনা থেকে কাক কুকুর খাবার সংগ্রহ করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঁঠাল তলার পাশেই জমেছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। এছাড়াও যত্রতত্র পড়ে আছে বিভিন্ন প্লাস্টিকের বর্জ্য। নতুন একাডেমিক ভবন,  ক্যাফেটেরিয়া, শহীদ মিনার, বিজ্ঞান অনুষদের আসপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বিভিন্ন কাগজের টুকরো,  প্লাস্টিকের বোতল, পলেথিন। ফলে এসব আবর্জনা থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ, নষ্ট হচ্ছে ক্যাম্পাসের পরিবেশ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউট এর  চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব হাসান বলেন, ক্যাম্পাসের কোথায় নির্দিষ্ট ময়লা ফেলার স্থান বা ডাস্টবিন না থাকার কারণে প্রায় সময় আমরা নিজেরা বাধ্য হয়েই  ক্যাম্পাসের যেখানে-সেখানে প্লাস্টিকের কাপ, প্যাকেট,পানির বোতল ফেলে আসি। আমাদের ছোট ক্যাম্পাস আয়তনে ছোট হওয়ার ফলে এই ময়লাগুলো আরো বেশি করে চোখে পড়ে। এই ময়লা-আর্বজনার কারণেই ক্যাম্পাসের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। আমরা চাই ক্যাম্পাসের পরিবেশ সুন্দর করতে ক্যাম্পাসের  বিভিন্ন জায়গায় ময়লা-আর্বজনা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান-পাত্র বা ডাস্টাবিনের ব্যবস্থা করা হোক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত লাইব্রেরিতে নিয়মিত পড়াশোনা করেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মোস্তাফিজুর রহমান লিকো।  তিনি জানান, আমরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিয়মিত লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করি। কিন্ত লাইব্রেরির পাশেই কাঠাল তলায় জমেছে ময়লা আবর্জনার স্তুপ । স্তুপ থেকে প্রচুর দুর্গন্ধ ছড়ায়। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ যেমন নষ্ট হচ্ছে সাথে আমাদের পড়াশোনার পরিবেশটাও নষ্ট হচ্ছে।

তিনি বলেন, অবাক করার মত বিষয় হচ্ছে এই ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। প্রশাসন চাইলেই ছোট এই ক্যাম্পাসে ডাস্টবিন বা ময়লা রাখার পাত্রের ব্যবস্থা করতে পারে। আমরা চাই আমাদের ক্যাম্পাসের পরিবেশ ফিরে আসুক, এজন্য প্রশাসনকে এইবিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত৷

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মল্লিক আকরাম হোসেন জানান, বিষয়টি নিয়ে আমি অবগত এবং নিজেও প্রত্যক্ষদর্শী। আমরা নিজেরাও ক্লাস নেওয়ার সময় দুর্গন্ধের কারনে ক্লাস নিতে পারিনা। প্রশাসন চাইলেই ক্যাম্পাসকে খুব সুন্দর রাখতে পারে। এছাড়াও আমি নিজেও প্রশাসনকে ক্যাম্পাসের পরিবেশ সুন্দর রাখার জন্য ডাস্টবিন বসানোর পরামর্শ দিয়েছি। যত্রতত্র ময়লা আবর্জনার কারনে পরিবেশ নষ্ট তো হচ্ছেই এসব দুর্গন্ধ ছড়ানোর কারনে বায়ু দূষণ চরম মাত্রায় বেড়ে যায়। ফলে  শিক্ষক শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকে

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী মো হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, আমি ক্যাম্পাস পর্যবেক্ষণ করেছি। ক্যাম্পাসে যত্রতত্র ময়লা ফেলার কথা সত্য। ইতোমধ্যে বিভিন্ন ভবনের ছাদের ময়লা, গাছ পরিষ্কার করিয়েছি। এবং ময়লা যাতে যত্রতত্র না ফেলা হয় তার ব্যবস্থা নিচ্ছি।

ক্যাম্পাসে বিন না থাকার ব্যাপারে তিনি বলেন, আমি এ ব্যপারে ভিসি ও ট্রেজারার সারের সাথে কথা বলে ফান্ড চাইবো। তারা ফান্ড দিলে বিন বসানোর ব্যবস্থা করবো।

পবিত্র শবে বরাত আজ, রাতে যেভাবে ইবাদত করবেন
  • ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শবে বরাত উপলক্ষে ৬ আমল পালনের পরামর্শ দিলেন শায়খ আহমাদুল্লাহ
  • ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
হাসনাত আব্দুল্লাহর ব্যানারে আগুন, প্রতিনিধির ওপর হামলা
  • ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রুশ তেল কিনবে না ভারত, পণ্যে ১৮ শতাংশ শুল্কের সিদ্ধান্ত ট্র…
  • ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
এপস্টাইনের সেই কুখ্যাত দ্বীপে কপারফিল্ড: যৌন শিকার তালিকা ঘ…
  • ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ময়মনসিংহে জামায়াত আমিরের জনসভা মঙ্গলবার
  • ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬