টানা তিনবার জবি শিক্ষকের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন

টানা তিনবার জবি শিক্ষকের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন
  © টিডিসি ফটো

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক জুনায়েদ আহমেদ হালিম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একমাত্র শিক্ষক, যিনি তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেলেন। এর আগে আর কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাননি।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৯ এ শ্রেষ্ঠ চিত্রসম্পাদক ক্যাটাগরিতে 'মায়া দ্য লস্ট মাদার' চলচ্চিত্রে পুরস্কার সহ ২০০৪ সালে 'শঙ্খনাদ' ও ২০০৯ সালে 'বৃত্তের বাইরে' চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ চিত্রসম্পাদক হিসেবে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

রবিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৯ এ শ্রেষ্ঠ চিত্রসম্পাদক ক্যাটাগরিতে 'মায়া দ্য লস্ট মাদার' চলচ্চিত্রে পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে জুনায়েদ হালিমের হাতে পুরস্কারটি তুলে দেন। এসময় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান এবং তথ্যসচিব খাজা মিয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত বছরের ৩ ডিসেম্বর তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে ২০১৯ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। ২৬টি ক্যাটাগরিতে মোট ৩৩ জনকে সেখানে পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়। চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানের জন্য এবছর মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানা) ও কোহিনুর আক্তার সুচন্দাকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়।

জুনায়েদ হালিম ১৯৮৬ সালে ‘ঢাকা টোকাই’ এর মাধ্যমে প্রথম চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন। তিনবার জাতীয় পুরস্কার পাওয়াসহ তার সম্পাদনায় ১৯৯৭ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের অনেক সিনেমা দেশে-বিদেশে নানা ধরণের স্বীকৃতি ও পুরস্কার লাভ করে। পেয়েছেন ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও। 'ইয়ে ও সেহেরতো নেহি' সম্পাদনার জন্য ১৯৯৬ সালে শর্ট ফিল্ম ক্যাটাগরিতে ভারতের জাতীয় পুরস্কার পান তিনি। এটি ছিল তার ডিপ্লোমা ফিল্ম।

এছাড়া 'নিরন্তর' চলচ্চিত্রের জন্য ২০০৬ সালে ভারতের গোয়াতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব-ভারত এ স্পেশাল জুরি অ্যাওয়ার্ড ও একই সিনেমায় একই সালে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব কেরালায় শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে। এছাড়া ২০০৭ সালে 'স্বপ্নডানায়' চলচ্চিত্র সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ও ২০০৮ সালে 'রূপান্তর' চলচ্চিত্র ভারতে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসবে পুরস্কার লাভ করে।

তিনবার বাংলাদেশের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জনের অনুভূতি সম্পর্কে অধ্যাপক জুনায়েদ আহমেদ হালিম বলেন, কাজের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পেলে আনন্দিত হওয়া সাময়িক। কিন্তু এতে নিজের উপর দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। চলচ্চিত্রের শিক্ষক হিসেবে এটা একটা গুরু দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, দেশে চলচ্চিত্রের উপর উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্র কম। মাত্র তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চলচ্চিত্রের বিভাগ রয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগ অনেক নবীন। অনেক সীমাবদ্ধার মাঝেও এগিয়ে চলছে। তবে সিনেমা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিকমানের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার তার স্বপ্ন আছে বলে জানান তিনি। এতে চলচ্চিত্র শিক্ষার্থীদের উপকারে আসবে বলে তিনি যুক্ত করেন।

উল্লেখ্য, জুনায়েদ আহমদ হালিমের সম্পাদনায় 'মায়া দ্য লস্ট মাদার' চলচ্চিত্রটি এ বছর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আটটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার লাভ করেছে।


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ