মহাসড়ক উন্নয়নে গুরুত্ব পায়নি খুবির প্রস্তাবনা, ঝুঁকিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে  © টিডিসি ফটো

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) প্রধান ফটকের সামনে জিরো পয়েন্ট-ময়লাপোতা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই প্রকল্পটির আওতায় প্রধান ফটকের সামনের এক কিলোমিটার অংশে রোড সাইড ওয়াকওয়ে, সার্ভিস রোড ও ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণের দাবি জানাচ্ছিল। কিন্তু মূল পরিকল্পনায় তাদের প্রস্তাবগুলো স্থান পায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, সাত হাজার শিক্ষার্থী, সহস্রাধিক শিক্ষক, কর্মকতা-কর্মচারি ও হাজার হাজার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে এসব সুবিধা প্রয়োজন। কেননা প্রধান ফটকের সামনে দিয়ে বাস, ট্রাক, ইজিবাইক, পিক-আপ ভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন সবসময়ই চলাচল করে। ছোটো-খাটো দুর্ঘটনা এই সড়কের নিয়মিত দৃশ্য। এছাড়াও সড়কটি দিন দিন আরো ঝুকিপূর্ণ হয়ে উঠছে সবার জন্য।

জানা যায়, ২০১০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে পাঠানো অনুরোধপত্রে সড়কটির উভয় পার্শ্বে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছিল। এছাড়া ২০১৯ সালের ১০ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শহিদ হাদিস পার্কে এক অনুষ্ঠানে এই প্রকল্পের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবসহ একটি ডিজাইন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। কিন্তু সর্বশেষ অনুমোদিত প্রকল্পে এসব অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মহানগরীর ময়লাপোতা-জিরো পয়েন্ট মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ১৪ হাজার যানবাহন চলাচল করে। এত বেশি যানবাহন চলাচল করায় ভোর থেকে রাত পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকে। এই সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পটি দফায় দফায় সংশোধনের পর অবশেষে এ বছরের ৪ আগস্ট পাশ হয়।

এ কারণে সম্প্রতি আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান স্বাক্ষরিত পত্রে, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে এ প্রকল্পের সংশোধিত প্রস্তাব প্রণয়ণের সময় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত গল্লামারি থেকে জিরো পয়েন্ট এক কিলোমিটার অংশের নাম শহিদ সরণি করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া গল্লামারী-জিরোপয়েন্ট অংশের উভয়পাশে ওয়াকওয়ে করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের আশেপাশে শিক্ষার্থীসহ সবার নিরাপদ পারাপারের জন্য সংশোধিত প্রকল্পে একটি ফুটওভার ব্রিজ অন্তর্ভুক্তির অনুরোধ জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াতের সুবিধার্থে প্রকল্পে এই বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পত্রের সঙ্গে প্রকল্প সংশোধনের জন্য একটি থিম্যাটিক ডিজাইনও দেয়া হয়েছে।’

ডিজাইনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের অংশের প্রায় দেড়শ ফুট চওড়া সড়কের প্রতি দুই লেনে ত্রিশ ফুট করে ষাট ফুট প্রশস্ততা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। মাঝখানে দশ ফুট আইল্যান্ড, উভয় পাশে পনের ফুট করে সার্ভিস রোড রাখারও প্রস্তাব করা হয়েছে। এই সার্ভিস রোড দিয়ে রিক্সা-ভ্যানসহ নন-মোটরাইজড যান চলার সুযোগ থাকবে।

সংশোধিত প্রকল্পের বিষয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, খুলনা-২ আসনের এমপি, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব, সওজের প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টদের অবহিত করে পত্র দেয়া হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগ নিশ্চিত করেছে।

খুলনার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনিসুজ্জামান মাসুদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর কাছে প্রকল্পের কয়েকটি বিষয় অন্তর্ভুক্তির অনুরোধ জানিয়ে পত্র পাঠিয়েছে। এছাড়া মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক ও খুলনা-২ আসনের এমপি সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবের বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে আলাদা সুপারিশপত্র পাঠিয়েছেন। এরপরে চূড়ান্তভাবে প্রকল্প সংশোধন হয়ে আসলে আমরা সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারব।’


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ