স্থবির হয়ে পড়েছে ৮ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প

১০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:৩২ AM

© লোগো

দেশের আটটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে আট হাজার ৪২২ কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। যদিও দীর্ঘ ছুটিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চলমান উন্নয়নকাজ এক প্রকার বন্ধ। এমন পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ফলে প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়তে পারে।

আট উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক হাজার ৪৪৫ কোটি, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক হাজার ৬৫৫ কোটি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এক হাজার ৯২০ কোটি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিতে এক হাজার ১৮৩ কোটি, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৫৯ কোটি ৮০ লাখ, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৮০ কোটি ৬০ লাখ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫০ কোটি ৫৬ লাখ ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮৩৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হওয়ার পর সবচেয়ে বড় বরাদ্দ পেয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জে প্রায় ২০০ একর ভূমির ওপর নতুনভাবে ক্যাম্পাস নির্মাণ করা হবে। কেরানীগঞ্জে নতুন ক্যাম্পাস স্থাপনে এক হাজার ৯২০ কোটি ৯৪ লাখ ৩৯ হাজার টাকার প্রকল্প চলমান রয়েছে। গত বছর বরাদ্দের সব টাকা খরচ করা হলেও চলতি বছর করোনার কারণে পুরো বরাদ্দ খরচ করা সম্ভব হয়নি। এখন এ প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি মাত্র ৪৬ শতাংশ।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, করোনার কারণে উন্নয়ন কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। আশা করছি, সরকারের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩টি স্থাপনা নির্মাণসহ সার্বিক উন্নয়নে এক হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার প্রকল্প নেয়া হয় ২০১৮ সালে। প্রকল্পটি ২০২২ সালে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। তবে অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা ও করোনার কারণে কাজের অগ্রগতি এখনো ১০ শতাংশের নিচে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮ সালের ১০ জুলাই ৬৫৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ২০২২ সাল নাগাদ এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।  প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ২৯ দশমিক ২৩ শতাংশ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয় ২০১৮ সালে। দক্ষিণবঙ্গের সর্ববৃহৎ দুই হাজার ৫০০ আসনবিশিষ্ট অডিটোরিয়াম নির্মাণ, নবনির্মিত একাডেমিক ভবনটি ১০ তলায় বর্ধিতকরণ, প্রশাসনিক ভবন পাঁচতলা থেকে ১০ তলায় উন্নীতকরণ, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ডরমিটরি ও হলগুলো পাঁচতলা থেকে ছয়তলায় বর্ধিতকরণ, অ্যাম্ফিথিয়েটার নির্মাণের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়। তবে কাজের অগ্রগতি ৪৯ শতাংশ।

২০১৮ সালে ৮৩৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকার প্রকল্প নেয়া হয় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রকল্পটি ২০২২ সালে সমাপ্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ১০ শতাংশ।

২০১৮ সালের অক্টোবরে ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন’ নামে এক হাজার ৬৫৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার অনুমোদন দেয় একনেক, যা ২০১৮ সালের নভেম্বরে শুরু হয়ে ২০২৩ সালের জুনে শেষ করতে হবে। তবে প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ২০ শতাংশ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি স্থাপনে এক হাজার ১৮৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। তবে দুই বছরে বিভিন্ন সমন্বয়হীনতায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন সেভাবে করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রকল্পের অগ্রগতি এখনো ১০ শতাংশের নিচে।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮ সালে শুরু হওয়া ৪৮০ কোটি ৬০ লাখ টাকার প্রকল্পের মাধ্যমে একটি ১০ তলা প্রশাসনিক ভবন, দুটি ১২ তলা একাডেমিক ভবন, ছাত্রদের একটি ১০ তলা ও ছাত্রীদের একটি ১০ তলা আবাসিক হল, একটি চারতলা টিএসসি, একটি চারতলা কনভেনশন সেন্টার, একটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ বেশকিছু কার্যক্রম করা হবে।

হৃদরোগে নিভে গেল ঢামেক ছাত্র রোকনের জীবনপ্রদীপ
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
'ফিলিপনগরের হামলা প্রমাণ করে বিএনপি ইন্টেরিম ২.০ হিসেবে দেশ…
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
চাপের মুখে হতাশ না হতে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিংয়ের …
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
ভাল ডাক্তার তৈরিতে বেসরকারি মেডিকেল সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন ক…
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
মব-সহিংসতার মাধ্যমে মাজার ভাঙচুর ও হত্যার ঘটনায় এনসিপি'র নি…
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
কম্বলে মোড়ানো মাথাবিহীন এক নারীর মরদেহ উদ্ধার
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
close