© সংগৃহীত
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদকে এমপিওভুক্তির বিরোধিতাকারী আখ্যা দিয়ে তাঁর পদত্যাগের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফোরাম, বরিশাল বিভাগ। একইসঙ্গে আগামী সাত দিনের মধ্যে তিনি পদত্যাগ না করলে সারাদেশে দূর্বার আন্দোলন গড়ে তোলারও হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দরা এই হুশিয়ারি দেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের বরিশাল বিভাগের সভাপতি মো. ইউনুস শরীফ বলেন, অনার্স শিক্ষকরা দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে বেতন বঞ্চনার শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। যা শিক্ষা বিস্তারে সুষম নীতির ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য এবং সংবিধানের পরিপন্থী।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে সরকারি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বিধিমোতাবেক বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সনদপ্রাপ্ত হয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের প্রতিনিধিদের তত্বাবধানে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েও আমাদের এমপিওভুক্ত করা হচ্ছে না।
তিনি বলেন, দীর্ঘ দিনের আন্দোলন-সংগ্রাম ও হাইকোর্টের নির্দেশনা, শিক্ষা মন্ত্রষণলয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সুপারিশ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একাধিক সুপারিশের প্রেক্ষিতে ২০১৮ এর সংশোনাধীন জনবল কাঠামো সংশোধন কমিটির প্রথম মিটিংয়ে সকল সদস্য বেসরকারি অনার্স-মাস্টার্স স্তরের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সর্ব সম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ হয়। কিন্তু এরপরও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনীহার কারণে বিষয়টি উপেক্ষিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ১৯৯৫, ২০১০, ২০১৩ এবং ২০১৮’তে জনবল কাঠামো সংশোধন করা হলেও এসব শিক্ষকদের দাবি উপেক্ষা করা হয়েছে। তারপরেও দীর্ঘ ২৮ বৎসর হলো শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠান থেকে নামমাত্র বেতনে কিংবা বেতনহীন অবস্থায় লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীকে শিক্ষা সেবা দিয়ে আসছেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ নীতিমালা ও সরকারি নীতিমালা মোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের শতভাগ বেতন-ভাতা ও সুযোগ সুবিধা প্রদানের নির্দেশনা থাকলেও সারাদেশে বেসরকারি কলেজের ৯০ ভাগ কলেজ কর্তৃপক্ষ তা আমলে নিতে চায় না।
শিক্ষকদের বেতনের নাম করে গরীব শিক্ষার্থীদের নিকট হতে মাসে ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে বেতন নেওয়া হলেও শিক্ষকদের বেতন বাবদ ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে দিয়ে থাকে। যা একজন শিক্ষকের বর্তমান বাজার দরে জীবন জীবিকা নির্বাহ করা অসম্ভব। শুধু তাই নয় অধিকাংশ কলেজেই মাসের পর মাস সামান্য এ টাকাটাও ফান্ড না থাকার অযুহাতে বন্ধ রাখা হয়।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৮ সাল পর্যন্ত কলেজের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে যায় এবং বর্তমানে সেই সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার ৫০০টি। এরমধ্যে ২৬৮ কলেজ সরকার জাতীয়করণ করার পর তাদের চাকরি সরকারি হলেও একই প্রক্রিয়ায় নিয়োগপ্রাপ্ত বাকি ৩১৫টি কলেজের ৫ হাজার ৫০০ শিক্ষকের জন্য মাত্র ১৪৬ কোটি ৫০ লাখ টাকার এমপিও বরাদ্দ না দিয়ে বঞ্চিত করা হচ্ছে। যা চূড়ান্তভাবে অমানবিক বলে মনে করেন তারা।
এদিকে, করোনা সংক্রমণের পরিস্থিতিতে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষকেরা যে সামান্য বেতন ভাতা পেত তাও বন্ধ থাকায় মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। অথচ এসব শিক্ষকদের নিয়োগকারী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বেতন-ভাতার ব্যাপারে কোন ভুমিকা পালন করছে না। ফলে পরিবারের ভরণ-পোষণ করতে না পারা শিক্ষকদের আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোন পথ খোলা নেই বলে জানান সংবাদ সম্মেলনে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে সংগঠনটির নেতারা বলেন, ২০১৫ সালে মাউশি থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির ব্যাপারে মতামত চাওয়া হলেও বিগত ৫ বছরেও তিনি কোন মতামত বা সুপারিশ করেননি। অন্যদিকে বারবার জনবলে অন্তর্ভূক্তি এবং এমপিওর বিরোধিতাও করছেন। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হয়ে শিক্ষকদের বেতন ভাতার ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা। ক্রাস প্রোগ্রামের নামে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করছে। ভর্তি পরীক্ষা না নিয়ে লাখ লাখ শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষার ফি আত্মসাৎ করা, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের প্রাপ্য অর্থ বছরের পর বছর শিক্ষকদের না দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে রেখে মুনাফা অর্জন করছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় তহবিল থেকে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা এবং প্রণোদনার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা ভঙ্গ করা হচ্ছে। যে কারনে আজ আমরা বাধ্য হয়ে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করছি। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অনতিবিলম্বে সংশোনাধীন জনবল কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করে এমপিও প্রদানের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ মোকলেসুর রহমান, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আমিরুল ইসলাম জসীম জেলা কমিটির কোষাধ্যক্ষ পরিতোষ চন্দ্র হালদার।