© টিডিসি ফটো
দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে করোনা ভাইসের সংক্রমণ প্রস্তুতি ও প্রতিরোধ বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম-২ তে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের উদ্যোগে উক্ত সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
এতে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড.মো.মোস্তাফিজার রহমান এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড.মু.আবুল কাসেম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড.বিধান চন্দ্র হালদার, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা.মো.ফজলুল হক। সেমিনারের আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এম.আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ এর মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা.যোগেন্দ্রনাথ সরকার,সোস্যাল সায়েন্স এন্ড হিউম্যানিটিস অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড মো নওশের ওয়ান ও সিএসই অনুষদের ডীন সহযোগী অধ্যাপক ড.মো.মাহাবুব হোসেন প্রমুখ।
অনুষ্ঠান শুরুতেই বিশ্বে নোবেল করোনা ভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য উপস্থাপন করেন মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ও প্রক্টর ড.মো.খালেদ হোসেন।
মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা.ফারজানা আফরোজ এর সঞ্চালনায় বক্তারা বলেন, চীনে এই ভাইরাস ছড়িয়েছে বলে যে আমাদের দেশে হবে না এরকম ভাবার কোন সুযোগ নাই। আমাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। একবার এই ভাইরাস আমাদের দেশে ছড়ালে তা নিয়ন্ত্রণ করা কষ্টকর হয়ে যাবে ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং খাবার গ্রহণের কারনে এই ভাইরাস সংক্রমণ হচ্ছে বলে ধারনা করা যাচ্ছে । চীনের মানুষজন ইঁদুর সাপ থেকে শুরু সব ধরনের খাবার গ্রহণ করে ফলে তাদের মধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণ প্রকাশ পেয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। নোবেল করোনা ভাইরাস সাপ, ইঁদুর, বাদুর জাতীয় প্রাণী থেকে এসেছে বলে ধারণা করেছেন বিজ্ঞানীরা। তবে আমাদের মধ্যে এর সংক্রমণ যে হবে না এরকম ধারনা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এই জন্য আগে থেকেই আমাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। ডাক্তারা এ ব্যাপারে হাঁচি-কাশির সময় নাক-মুখ ঢেকে রাখা এবং ঠান্ডা ও ফ্লু আক্রান্ত মানুষ থেকে দূরে থাকারও পরামর্শ দিয়েছেন এবং এশিয়ার বহু অংশের মানুষ নিজদের নিরাপত্তার জন্য সার্জিক্যাল মুখোশ পরা শুরু করেছে। আমাদের নিরাপদ থাকতে হলে হাত সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, বারবার হাত ধুতে হবে। হাত দিয়ে নাক বা মুখ ঘষা যাবে না এবং কখনো যদি অসুস্থ হয়ে পড়েন তাহলে মুখোশ পরুন, নিজে অসুস্থ না হলেও অন্যের সংস্পর্শ এড়াতে মুখোশ পরুন।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড.মো.মোস্তাফিজার রহমান বলেন, সতর্ক থাকার বিকল্প কিছু নাই। সবার মাঝে সচেতনতা তৈরি করাই লক্ষ্যেই আমাদের আজকের এই সেমিনার। এখান থেকে কেউ সামান্য পরিমাণ উপকৃত হতে পারলেই আমাদের স্বার্থকতা।
সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।