খুবিতে ‘কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি’র প্রমাণ পেলে বিবেচনায় নেবে দুদক: উপাচার্য

০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ১০:১৫ PM
সংবাদ সম্মেলন

সংবাদ সম্মেলন © টিডিসি ফটো

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড.মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে ‘কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির তথ্যের প্রমাণ পেলে তা অবশ্যই বিবেচনায় নেবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আর দুর্নীতি হয়ে থাকলে যারা এর সাথে যুক্ত তদন্তের মাধ্যমে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। উন্নয়নমূলক প্রকল্পে অতিরিক্ত লোড এবং ডিজাইনে ব্যাপক পরিবর্তনের কারণে দীর্ঘসূত্রিতা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে ৬ষ্ঠ সমাবর্তন ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রেজারার, রেজিস্টার, ছাত্র বিষয়ক পরিচালক ও প্রধান প্রকৌশলী উপস্থিত ছিলেন। 

চলতি মাসের ৩ তারিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ থেকে দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫ জন শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে শিক্ষকরা এ নিয়ে অভিযোগ দেন। অভিযোগপত্রে শিক্ষকরা উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জীবনানন্দ দাশ একাডেমিক ভবন নির্মাণে দুর্নীতি হয়েছে। দুর্নীতির প্রমাণ হিসেবে তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির ২০১৬ সালের ২৯ ডিসেম্বরের প্রতিবেদন তুলে ধরেন।

এ প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, বিশ্বদ্যালয়ের বর্তমান চলমান প্রকল্প ২০১৬ সালের মে মাসে অনুমোদিত হয় প্রকল্পের আওতাভুক্ত কাজগুলো দুইভাগে বিভক্ত করা হয়; ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ ও সম্পূর্ণ নতুন স্থাপনা নির্মাণ। যে সকল স্থাপনার ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ হয় তার গঠনগত ডিজাইন করার প্রয়োজন পড়ে। কারণ অতিরিক্ত লোড এর কারণে ডিজাইনে পরিবর্তন আসে। অন্যদিকে, নতুন স্থাপনাগুলোর স্থাপত্য ও গঠনগত ডিজাইন নতুন করে করতে হয়। ফলে পরামর্শক নিয়োগের টেন্ডারের কাজ শুরু করলেও বিদ্যমান স্থাপনা স্থাপনাসমূহ এর ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ এর কাজে আমরা আগে হাত দেই। কারণ এর মধ্যেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি অতিথি ভবন, কেন্দ্রীয় ল্যাবরেটরী, কেন্দ্রীয় মসজিদ ও সীমানা দেয়াল এর আওতাভুক্ত।

তিনি বলেন, টেন্ডারের মাধ্যমে পরামর্শক নিযুক্ত করে ডিজাইন হাতে পেতে প্রায় এক বছর চলে যায়। এরপর উপরোক্ত পাঁচটি স্থাপনা টেন্ডার করা হয়। স্থাপত্য নকশার ক্ষেত্রে স্থপতিদের মূল্যায়নের একটা নিয়ম রয়েছে। এই মূল্যায়নের ফলাফল পেতে অনেক সময় ব্যয় হয়। অতঃপর পরামর্শকদেরকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। ইতিমধ্যে মেডিকেল সেন্টার আইইআর ভবনের নকশা চূড়ান্ত হয়েছে এবং প্রথমোক্তটির টেন্ডার প্রক্রিয়ায় শেষ করে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। দ্বিতীয় টেন্ডার হয়েছে। ১০ তলা একাডেমিক ভবন ও ১১ তলা আবাসিক ভবনের নকশা প্রায় চূড়ান্ত। ডিপিপিতে উল্লেখিত জিমনেশিয়াম ও টিএসসির আয়তন দ্বিগুণ হওয়ার কারণে ডিজাইনে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। এই কার্যক্রমের সাথে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ডিসিপ্লিন ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছে।

দীর্ঘসূত্রিতার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের ইচ্ছাকৃত নয় বাস্তবায়িত প্রকল্পে দুর্নীতির বিষয়ে বলেন, ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণ কাজের সাথে যেসকল প্রকৌশলী যুক্ত ছিলেন তারা দায়িত্বে অবহেলার জন্য আইনের আওতায় আসবেন। ত্রুটিপূর্ণ কাজ করার বিনিময়ে যদি কোনো আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকে তা তথ্য প্রমাণ সাপেক্ষে তা অবশ্যই দুদক বিবেচনায় নেবে। এছাড়াও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল অপরাজিত হল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলসহ প্রায় সকল ভবনেই বিদ্যুৎ কাজে দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সালাম দুদকে চিঠি দিয়েছেন এবং দুদক কাজ করছে। দুর্নীতি হয়ে থাকলে যারা এর সাথে যুক্ত তদন্তের মাধ্যমে তারা সবাই আইনের আওতায় আসবে বলে কর্তৃপক্ষ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে। রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় করে কেউ পার পেয়ে যাবে তা কোনভাবেই কাম্য নয়। 

দেশের ইন্টেরিয়র ডিজাইন শিল্পে পেশাগত দক্ষতা ও মানোন্নয়নের …
  • ২৯ অক্টোবর ২০২৬
যাঁদের হাতে জাতির প্রথম অক্ষর, তাঁদের জীবনের শেষ অধ্যায়ে ম…
  • ২৯ অক্টোবর ২০২৬
বাঁশঝাড় থেকে মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ উদ্ধার
  • ২৯ অক্টোবর ২০২৬
বিয়ের দাবিতে ১০০ ফুট টাওয়ারের মাথায় তরুণী, শেষ পর্যন্ত অনলা…
  • ২৯ অক্টোবর ২০২৬
৫ ঘণ্টা পর অবশেষে রওনা হলো প্রধানমন্ত্রীর বিমান, দেখুন সরাস…
  • ২৯ অক্টোবর ২০২৬
পাবনায় বিএনপি নেতাসহ ২ জনকে গুলি করে হত্যা
  • ২৯ অক্টোবর ২০২৬