জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
© টিডিসি ফটো
উপাচার্যকে অপসারণের দাবিতে আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা থেকে বিকেল সাড়ে চারটার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস ছাড়তে বিশেষ পরিবহনের ব্যবস্থা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীসহ আন্দোলনকারীরা। তারা বাস আটকানোর চেষ্টা করলে ছাত্রলীগের বাধার সম্মুখীন হন।

অপরদিকে, হঠাৎ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের। তারা জানায়, প্রশাসন অবিবেচকের মতো কাজ করছে। ক্যাম্পাস বন্ধের ঘোষণার পর হল ছাড়ার জন্য যথেষ্ট সময়ও দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
নজরুল নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, প্রশাসন অবিবেচকের মতো হল খালি করার নির্দেশ দিলেও যথেষ্ট সময় দেয়নি। যার কারণে হঠাৎ করে হল ছাড়তে আমরা চরম অসুবিধায় পড়েছি।

উত্তরবঙ্গ থেকে আগত আসিফ হল ছাড়ার ব্যাপারে বলেন, ভিসি বলল আর আমরা হল ছেড়ে দিবো। এটা কোন কথা, ঢাকায় আমার কোন আত্মীয়স্বজন ও নেই। এখন এই মুহূর্তে পঞ্চগড় যাওয়া আমার পক্ষে কত কঠিন তা ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ বুঝবে না।
আজই দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের মিছিল থেকে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হন। উপাচার্যের বাসভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
কাল সন্ধ্যা সাতটা থেকে আন্দোলনকারী শিক্ষকেরা উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করে রাখেন। যত দিন না উপাচার্যকে অপসারণ করা হবে, তত দিন অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। আজ বেলা ১১টায় আন্দোলনকারীরা যখন উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন, তখন উপাচার্যপন্থী শিক্ষকেরা সেখানে যান। তাঁরা আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের তুলে দিয়ে উপাচার্যের বাসভবনে ঢোকার চেষ্টা করেন। তবে আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে তাঁরা উপাচার্যের বাসভবনে ঢুকতে পারেননি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, এর কিছুক্ষণ পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ব্যানারবাহী একটি মিছিল সেখানে আসে। ওই মিছিলে দুই শতাধিক নেতা-কর্মী ছিলেন। মিছিল থেকে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা হয়। মিছিলকারীরা উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের সেখান থেকে হটিয়ে দেন। তারপরে তাঁরা ওই জায়গায় অবস্থান নেন। এরপর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী ও তাঁর সমর্থক শিক্ষকদের নিয়ে উপাচার্য ফারজানা ইসলাম পুরোনো প্রশাসনিক ভবনে তাঁর নিজ কার্যালয়ে যান। সেখানে পাঁচ মিনিট থাকার পর তিনি নতুন প্রশাসনিক ভবনের কাউন্সিল কক্ষে যান। সেখানে তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো হামলা হয়নি। ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা সুশৃঙ্খলভাবে আন্দোলনকারীদের আমার বাসভবনের সামনে থেকে সরিয়ে দিয়েছে।’