জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। আজ মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদে উপাচার্য ফারজানা ইসলামের বাসভবন ঘেরাও করেছে শিক্ষার্থীরা।
উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা ও বিকাল ৪টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশের পর পরই বিভিন্ন হল থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা মিছিল নিয়ে উপাচার্যের বাসভবসের সামনে জড়ো হচ্ছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তারা বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন।

আজ দুপুর আড়াইটার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনে অনুষ্ঠিত জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও সিন্ডিকেট সচিব রহিমা কানিজ এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
ভিসিবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরের দিকে মুখোমুখি অবস্থানে চলে যান আন্দোলনকারী ও ভিসিপন্থি শিক্ষকরা। একপর্যায়ে ছাত্রলীগের হামলায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

একপর্যায়ে ভিসির বাসভবনের সামনে ছাত্রলীগ মিছিল নিয়ে গিয়ে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখানে গিয়ে তারা আন্দোলনকারীদেরকে মারধর শুরু করেন। এসময় ছাত্রলীগ অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের তুলে দেয়ার চেষ্টা করে বলে তারা অভিযোগ করেছেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, আজ মঙ্গলবার সকালে ক্যাম্পাসে অবস্থান করেন তারা। বেলা ১২টার দিকে হঠাৎ ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে তাদের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, এর কিছুক্ষণ পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ব্যানারবাহী একটি মিছিল সেখানে আসে। ওই মিছিলে দুই শতাধিক নেতা-কর্মী ছিলেন। মিছিল থেকে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা হয়। মিছিলকারীরা উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের সেখান থেকে হটিয়ে দেন। তারপরে তাঁরা ওই জায়গায় অবস্থান নেন। এরপর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী ও তাঁর সমর্থক শিক্ষকদের নিয়ে উপাচার্য ফারজানা ইসলাম পুরোনো প্রশাসনিক ভবনে তাঁর নিজ কার্যালয়ে যান। সেখানে পাঁচ মিনিট থাকার পর তিনি নতুন প্রশাসনিক ভবনের কাউন্সিল কক্ষে যান। সেখানে তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো হামলা হয়নি। ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা সুশৃঙ্খলভাবে আন্দোলনকারীদের আমার বাসভবনের সামনে থেকে সরিয়ে দিয়েছে।’
উপাচার্যের এই সংবাদ সম্মেলনের পরে কাউন্সিল কক্ষেই জরুরি সিন্ডিকেট সভা হয়। আর সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়।
আজকের হামলার ঘটনায় এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে ১২ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। অন্তত ২০ জনকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।