জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। টানা তৃতীয় দিনের মতো ধর্মঘট চলাকালে কলা ও মানবিকী অনুষদের প্রধান ফটকে আন্দোলনকারীদের সরাতে প্রক্টরিয়াল টিমের এক সদস্যের হাতাহাতির অভিযোগ উঠেছে। তবে এ ঘটনাকে হামলা বলে দাবি করেছে আন্দোলনকারী ছাত্র ইউনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয়।
দুর্নীতির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণ দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করছেন আন্দেলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বুধবার আন্দোলনকারীদের পূর্ব ঘোষিত সর্বাত্মক ধর্মঘট পালনের সময় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ করেন।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর ব্যানারে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো কলা ভবন থেকে মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি বিভিন্ন অনুষদ ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে পুরনো প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
তবে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে মহিবুর রৌফ শৈবাল বলেন, 'তাদের ওপরে হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি। উল্টো আন্দোলনকারীরা আমার ওপর হামলা করেছে।'
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ব্যাপারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর আন্দোলনের মুখপাত্র অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, একজন সহকারী প্রক্টরের নেতৃত্বে আন্দোলনকারীদের ওপরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তার একটি ভিডিও দেখে আমরা অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছি একজন শিক্ষক তার ছাত্রের ওপর কীভাবে হামলা করতে পারে।
মাস্তান শিক্ষক আমরা চাই না। একজন শিক্ষকের নেতৃত্বে আন্দোলনকারীদের ওপরে হামলা হতে পারে, এটি অত্যন্ত হতাশাব্যঞ্জক ঘটনা। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয় বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর এবং নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক মহিবুর রৌফ শৈবালের ‘নেতৃত্বে’ হামলা হয়েছে। এ হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, সহকারী প্রক্টর শৈবাল আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এ সময় তিনি জয়ের হাত ধরে টেনেহিঁচড়ে গেটের কাছ থেকে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। এতে জয়কে ফ্লোরে লুটিয়ে পড়তে দেখা যায়।
আন্দোলনকারীরা জানান, সকাল থেকেই সহকারী প্রক্টর মহিবুর রৌফ শৈবাল ও তার কর্মচারীদের নিয়ে বিভিন্ন অনুষদে আন্দোলনকারীদের মারা তালা অপসারণ করতে যান। এ সময় পুরনো কলা অনুষদে তালা অপসারণ করতে গেলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি।
পরে নিজের বিভাগের জুনিয়র শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীর ওপর হামলা করা হয়।