সরকারি তিতুমীর কলেজ

শিক্ষা সফরের নামে ১৮ লাখ টাকা আদায়, খরচ শেষে হদিস নেই ৭ লাখের

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৭ PM
সরকারি তিতুমীর কলেজ

সরকারি তিতুমীর কলেজ © ফাইল ছবি

তিতুমীর কলেজে শিক্ষা সফরের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের ব্যবহারে বড় ধরনের অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। কলেজের সদ্য পাশ করা ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের প্রায় ৬ হাজার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে চার বছরে শিক্ষা সফর খাতে শিক্ষার্থীপ্রতি ৩০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে, যা মোট প্রায় ১৮ লাখ টাকা। কলেজটির ২২টি বিভাগে শিক্ষা সফরের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হলেও প্রায় ৭ লাখের অধিক টাকার হদিস নেই। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কলেজের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি নিশ্চিত করা শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ৬ হাজার। প্রতি বছর সেশন ফি-এর সঙ্গে শিক্ষা সফর খাতে শিক্ষার্থীপ্রতি ৭৫ টাকা করে নেওয়া হলে চার বছরে একজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নেওয়া হয় ৩০০ টাকা। সে হিসাবে প্রায় ৬ হাজার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোট আদায়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৮ লাখ টাকা। কলেজটির ২২টি বিভাগে শিক্ষা সফরের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হলে মোট ব্যয় হওয়ার কথা প্রায় ১১ লাখ টাকা। সে হিসাবে প্রায় ৭ লাখ টাকা অব্যবহৃত থাকার কথা। 

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, চার বছরে শিক্ষা সফরের নামে অর্থ নেওয়া হলেও অধিকাংশ বিভাগে নিয়মিতভাবে কোনো শিক্ষা সফরের আয়োজন করা হয়নি। কোনো কোনো বিভাগে শেষ বর্ষে সীমিতসংখ্যক শিক্ষার্থীকে নিয়ে শিক্ষা সফরের আয়োজন করা হয়েছে। আবার সফরে অংশ না নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ অর্থও তাদের ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী লিমন মোল্লা বলেন, 'আমাদের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী রয়েছে ৩৫০-এর বেশি। শুধুমাত্র ফাইনাল ইয়ারে আমাদের বিভাগ থেকে কক্সবাজার ট্যুরে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু ৪৫ জন শিক্ষার্থী এই ট্যুরে গিয়েছিল; যেখানে জনপ্রতি ব্যক্তিগত ৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং বিভাগ থেকে দেওয়া হয়েছিল ২০ হাজার টাকা। আমাদের সঙ্গে অভিভাবক হিসেবে তিনজন শিক্ষিকা গিয়েছিলেন এবং তাঁদের প্রত্যেকের সঙ্গে দুই-তিনজন করে সন্তান ছিল। ফলে বিভাগ থেকে দেওয়া ২০ হাজার টাকারও বেশি অর্থ তাঁদের পেছনেই খরচ হয়ে যায়।'

তিনি আরও বলেন, 'কলেজ প্রশাসনের উচিত, যদি কোনো বর্ষের ১০ জন শিক্ষার্থীও শিক্ষা সফরে যায়, তাহলে ওই বর্ষের সকল শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জমা হওয়া শিক্ষা সফরের ফান্ডের পুরো অর্থটুকুই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া এবং একটি সুন্দর শিক্ষা সফরের ব্যবস্থা করা।'

ইতিহাস বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান মাল বলেন, 'আমি ফার্স্ট ইয়ার থেকে ফোর্থ ইয়ার পর্যন্ত আমাদের অনার্সের পুরো শিক্ষাজীবন শেষ করেছি। আমাদের ক্যাম্পাসে প্রতি বছর ট্যুরের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ সেশন ফি/ট্যুর ফি নেওয়া হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, এই চার বছরে আমরা সেই অর্থের বিনিময়ে কোনো ট্যুরে অংশগ্রহণের সুযোগ পাইনি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো ট্যুরের আয়োজনও করা হয়নি।'

তিনি আরো বলেন, এখন আমাদের অনার্স ফাইনাল ইয়ারও শেষ হয়ে গেছে। চার বছর ধরে আমাদের কাছ থেকে যে ট্যুরের টাকা নেওয়া হয়েছে, সেই টাকা বর্তমানে কোথায় আছে, কীভাবে সংরক্ষিত বা ব্যবহৃত হয়েছে এ বিষয়ে আমরা এখনো স্পষ্টভাবে অবগত নই।

তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো, এখন ট্যুরের ব্যাপারে জানতে চাইলে আমাদের জানানো হচ্ছে যে ‘বাজেট নেই’। অথচ প্রতি বছর ট্যুরের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করি, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া এই অর্থের বিষয়ে স্বচ্ছভাবে হিসাব ও ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত। চার বছর ধরে আমরা একটি ট্যুরেরও সুযোগ পাইনি, অথচ এর জন্য অর্থ প্রদান করেছি, বিষয়টি সত্যিই আমাদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক ও দুঃখজনক।’

ইংরেজি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. কামরুল হাসান সুজন বলেন, ‘ইংরেজি বিভাগ থেকে বার্ষিক শিক্ষা সফরের জন্য আমাদের মাথাপিছু ২০০ টাকা করে ৫০ জনের জন্য সর্বমোট ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। আমরা যত টাকা জমা দিই আর যত টাকা পাই, এর মধ্যে বিশাল ফারাক। আমরা চাই, প্রতিটি শিক্ষার্থী তাঁর ন্যায্য পাওনা বুঝে পাক।'

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে কলেজটির বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। জানতে চাইলে ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ফারাহ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের বিভাগ থেকে যখন শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সফরে যায়, তখন জনপ্রতি ২০০ টাকা করে দেওয়া হয়। যারা শিক্ষা সফরে যায় না, তাদের সেই টাকা দেওয়া হয় না—এটা আমরা আগেই বলে দিই। যারা যায় না, তাদের টাকা সরকারি অ্যাকাউন্টে চলে যায়।’

প্রাণিবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘আমাদের অফিস আছে, ওরা বলতে পারবে। তাছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো টাকা আসে না। ছেলে-মেয়েরা নিজেদের টাকা দিয়ে শিক্ষা সফরে যায়।’

এ দিকে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বক্তব্যের বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ছদরুদ্দীন আহমদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘আপনি কি অডিট করতে আসছেন? আমি এ বিষয়ে বুঝতেছি না আর জানি না। আর যে ২০২০-২১ সেশনের কথা বলছেন, ওই সময় আমি এই কলেজের কোনো দায়িত্বে ছিলাম না। আপনি শিক্ষক পরিষদের সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।’

অধ্যক্ষের বক্তব্যের বিষয়ে শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক এম এম আতিকুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রাপ্ত ব্যক্তি আমি নই। ফিন্যান্সিয়াল পাওয়ার একমাত্র অধ্যক্ষ মহোদয়ের। তবে শিক্ষার্থীরা যখন দূরে শিক্ষা সফরে যায়, যেমন রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান—সেই ক্ষেত্রে তাদের ১ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। কিন্তু সেই শিক্ষার্থী প্রতি বছর ৭৫ টাকা করে মোট ৩০০ টাকা দেয়।’

অফিসার নিয়োগ দেবে এনসিসি ব্যাংক, আবেদন ৩ অক্টোবর পর্যন্ত
  • ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৯ শর্তে নিয়োগপত্র পাচ্ছেন প্রাথমিকের ১৪ হাজার শিক্ষক
  • ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাবা-মায়ের পর বিশ্বমঞ্চে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তারেক রহ…
  • ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আশুলিয়ায় আট পোশাকশ্রমিক নিহতের ঘটনায় দায়ীদের গ্রেপ্তার ও শা…
  • ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মিছিলে অসুস্থ হয়ে যুবদল নেতার মৃত্যু
  • ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিক্ষকদের পে-স্কেলের পৃথক প্রজ্ঞাপন ফেসবুকে, যা জানা যাচ্ছে
  • ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬