জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস, খাতা-কলম, বোতল রেখে বাসের সিট রিজার্ভ করা হয়েছে। © টিডিসি ফটো
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বাসে শিক্ষার্থী উপস্থিত না থেকেও খাতা, শিট, পানির বোতলসহ বিভিন্ন সামগ্রী রেখে আসন ‘রিজার্ভ’ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এতে আগে বাসে ওঠা শিক্ষার্থীরা খালি আসন থাকা সত্ত্বেও বসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর যাতায়াতের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ও ভাড়ায় পরিচালিত বাস রয়েছে। প্রতিদিন এসব বাসে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে যাতায়াত করেন। আসনের তুলনায় যাত্রীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীকে দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়।
সম্প্রতি বাসে বিভিন্ন সামগ্রী রেখে আসন দখল করে রাখার বিষয়টি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ উঠেছে, কেউ কেউ বাসে নিজের উপস্থিতি না থাকলেও আগে থেকেই খাতা, শিট, পানির বোতলসহ বিভিন্ন জিনিস আসনে রেখে সেটিকে নিজের জন্য সংরক্ষিত করে রাখছেন। ফলে পরে বাসে ওঠা শিক্ষার্থীরা খালি আসন থাকলেও সেখানে বসতে পারছেন না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্কা-২, আস-সুন্নাহ হলের নির্ভীক, অনির্বাণ, পদ্মা বাসে শুধু খাতা বা পানির বোতল নয়, কলম, ব্যাগসহ বিভিন্ন সামগ্রী দিয়ে আসন সংরক্ষণ করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একটি আসনে একটি খাতা বা বোতল রাখা থাকলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী বাসে উপস্থিত থাকেন না।এছাড়া এমন ঘটনাও দেখা গেছে যে, একজন শিক্ষার্থী একাধিক আসনে নিজের বা পরিচিতদের জন্য বিভিন্ন সামগ্রী রেখে সিট দখল করে রাখছেন। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই বাসে উঠেও অনেক শিক্ষার্থী বসার সুযোগ পাচ্ছেন না। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একজনের মাধ্যমে কয়েকজনের জন্য আসন সংরক্ষণের এ প্রবণতা বাসে আসনসংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে এবং সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো মেহেদী হাসান বলেন, ‘অনেকে বাস থেকে নামার সময় বাসে খাতা রেখে যান। যার কারণে আমরা পরে আগে এসেও বাসে সিট পাই না। অনেক দূর থেকে যাতায়াত করলেও বাধ্য হয়ে পুরোটা পথ দাঁড়িয়ে যেতে হয়।’
সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী সুমন বিন ইয়ামিন বলেন, ‘বাসে সিট সংকট আগে থেকেই রয়েছে। তার ওপর কৃত্রিমভাবে সিট দখল করে রাখলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। বিষয়টি নজরদারির আওতায় আনা জরুরি।’
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, ‘বিশেষ করে ছাত্রীদের অনেক দূর থেকে দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়। অথচ খালি সিটে খাতা বা পানির বোতল রাখা থাকে। এ ধরনের সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।’
আরো পড়ুন: জবিতে দুর্যোগ মোকাবিলায় গঠন হবে স্বেচ্ছাসেবক টিম: উপাচার্য
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক ড. তারেক বিন আতিক বলেন, ‘আমরা দ্রুতই একটি প্রজ্ঞাপন জারি করব। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা থাকবে বাসে খাতা, কলম, বোতল বা অন্য কোনো কিছু রেখে আসন দখল করা যাবে না। এভাবে সিট রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। বাসের আসন বণ্টন হবে সম্পূর্ণভাবে আগে আসার ভিত্তিতে। অর্থাৎ, যিনি সশরীরে উপস্থিত থাকবেন, তিনিই আসনে বসার অগ্রাধিকার পাবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরিবহন প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়োজিত গাড়িচালক ও সহকারীরা বিষয়টি তদারকি করবেন। এরপরও কেউ নির্দেশনা অমান্য করে অনিয়ম অব্যাহত রাখলে ভিসি স্যারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় শৃঙ্খলামূলক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’