অবরোধরত ববি শিক্ষার্থীরা © টিডিসি ফটো
সড়ক দুর্ঘটনায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থী নিহত ইয়াসিন আরাফাতের ক্ষতিপূরণ ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করছেন শিক্ষার্থীরা। এ অবরোধের মুখে রাত ১০টায় শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন। বর্তমানে মহাসড়কটিতে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
সোমবার ১০ই আগস্ট ইয়াসিন আরাফাতের গায়েবানা জানাজা শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শিক্ষার্থীরা এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কটিতে অবস্থান নেন। যার ফলে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগ।
অবরোধ শেষে আন্দোলনকারীরা সংবাদ সম্মেলন করে জানান, ‘শিক্ষকদের অংশগ্রহণের আজকের আন্দোলন সফল হতে যাচ্ছে। আমরা নিহত ব্যক্তির একটি অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিলাম, আমাদের সে দাবিটি প্রশাসন মেনে নিয়েছে। রাস্তা সংস্কারের একটি দাবি আমাদের ছিল, সে দাবিটি পূরণের জন্য বরিশাল রোড’স অ্যান্ড হাইওয়ে কে আমরা নির্দিষ্ট সময় বেধে দিয়েছি, তারা আমাদের কে আশ্বস্ত করেছে। এরপরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে রবিবার টু বৃহস্পতিবার আধা ঘণ্টা পর পর বিকাল ৫টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সার্বক্ষণিক বাস চলাচল করবে। এবং শুক্র ও শনিবার সকাল ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত আধা ঘণ্টা পর পর বাস চালু থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছে প্রশাসন। যেটা আগামীকাল কাল থেকে চলবে।’
তারা আরও বলেন,‘তিনটি পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন ও ফুটওভার ব্রিজের দাবিটি ও মেনে নিছে। এছাড়াও এসকল কাজ চাইলে শিক্ষার্থীরাও তদারকি করতে পারবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মামুন অর রশিদ দ্য ডেইলি ক্যাম্সপাকে বলেন, ‘আমরা নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। বিআরটিসি থেকে তার পরিবারের একজন সদস্যের চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া সড়ক মেরামতের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষক কাজ করবে। আমরা সবসময় শিক্ষার্থীদের পাশে আছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিহতের বাবার ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আমার ও প্রশাসনের কথা হয়েছে। তাদের কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। তারা আমাদের কাছে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।’
উল্লেখ্য, রবিবার ৯ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৪টায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন দপদপিয়া সেতুর বিআরটিসি বাস ও যাত্রীবাহী মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে ১জন নিহত ও অন্তত চারজন আহত হন। আহতদের মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত আহত হন। পরবর্তীতে ইয়াসিন আরাফাত রাত ১০টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজে মৃত্যুবরণ করেন।
রবিবার রাতে ইয়াসিন আরাফাতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের উপর শোকের ছায়া নেম আসে এবং ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে অবস্থান নেন।