নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। © টিডিসি ছবি
শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) মাধ্যমে ব্যয়ভারসহ ইন্টার্নশিপের সুযোগ চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
রোববার (৯ আগস্ট) জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) ‘Local Action, Global Goals: ESDO's Experience through Professional Social Work Lens’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রস্তাব দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগ এ সেমিনারের আয়োজন করে।
অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, শিক্ষার্থীরা অনেকাংশে তাত্ত্বিক পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। দেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশন ও পার্টটাইম চাকরির সঙ্গে যুক্ত থাকায় ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগও সীমিত। ইউজিসির মাধ্যমে ব্যয়ভারসহ ইন্টার্নশিপের সুযোগ তৈরি করা গেলে শিক্ষার্থীরা আগ্রহ নিয়ে হাতে-কলমে কাজ শিখতে পারবে।
সমাজকর্মের সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠানের সংযোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থাকলেও এর সঙ্গে সমাজকর্মের প্রত্যাশিত সংযোগ এখনো তৈরি হয়নি। শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করতে না পারা একটি ব্যর্থতা। বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান উভয়ই উপকৃত হবে।
সেমিনারে মূল বক্তা ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পেশাদার সমাজকর্মের ভূমিকা ও স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। প্রধান পৃষ্ঠপোষক জাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আমির হোসেন গবেষণা ও আবিষ্কার সমাজে প্রয়োগে সামাজিক সম্পৃক্ততার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে এতে সমাজকর্মের ভূমিকার কথা বলেন।
সভাপতির বক্তব্যে সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যান মো. অলি উল্লাহ চৌধুরী বলেন, ক্লাসরুমে অর্জিত তাত্ত্বিক জ্ঞান মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা শিক্ষার্থীদের বুঝতে হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে SDGs অর্জনে স্থানীয় পর্যায়ের মানুষের অংশগ্রহণ এবং ‘Local Actions’ গুরুত্বপূর্ণ। সেমিনারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগের বিষয়ে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
সেমিনারে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, উন্নয়নকর্মী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। পরে মুক্ত আলোচনায় সমাজকর্ম শিক্ষা, ইন্টার্নশিপ, গবেষণা ও মাঠভিত্তিক অভিজ্ঞতা নিয়ে মতবিনিময় করেন অংশগ্রহণকারীরা।