অপেক্ষমান তালিকায় প্রথম, নির্দেশনা বুঝতে না পারায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ হারালেন শিক্ষার্থী

৩০ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৩ PM
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় © সংগৃহীত ও টিডিসি সম্পাদিত

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ ভর্তি কার্যক্রমের শূন্য আসনে প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তির আওতায় জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে ওয়েটিং তালিকায় প্রথম অবস্থানে ছিল এক শিক্ষার্থী। তালিকায় প্রথম অবস্থানে থেকেও স্বাক্ষরের ভুলের কারণে ভর্তির সুযোগ হারিয়েছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ওই শিক্ষার্থী বাণিজ্য (বি) ইউনিটের অধীনে একই সঙ্গে দুটি বিভাগে সাক্ষাৎকারের জন্য মনোনীত হন। তবে উপস্থিতি শিটে তিনি একটি বিভাগের তালিকায় মাত্র একবার স্বাক্ষর করেন। পরে অন্য বিভাগের তালিকায় স্বাক্ষর না থাকায় তাকে অনুপস্থিত হিসেবে গণ্য করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) প্রকাশিত শূন্য আসনের সাক্ষাৎকার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মোট আটটি শূন্য আসনের বিপরীতে ৫০ জন শিক্ষার্থীকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়। এর মধ্যে ‘এ’ ইউনিটে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগে দুটি আসনের বিপরীতে ১০ জন এবং জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে একটি আসনের বিপরীতে পাঁচজনকে ডাকা হয়। ‘বি’ ইউনিটে জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের একটি আসনের বিপরীতে পাঁচজন এবং ‘সি’ ইউনিটে একই বিভাগের তিনটি আসনের বিপরীতে ১৫ জনকে ডাকা হয়। এছাড়া রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের একটি আসনের বিপরীতে পাঁচজন শিক্ষার্থীকে সাক্ষাৎকারের জন্য মনোনীত করা হয়।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, ভর্তি কার্যক্রমে অংশ নিতে এসে আমাদের একটি উপস্থিতি শিট দেওয়া হয়। সেখানে সবাই স্বাক্ষর করেন। কিন্তু যাদের একাধিক বিভাগে নাম এসেছে, তাদের আলাদা আলাদা উপস্থিতি শিটে স্বাক্ষর করতে হবে, এমন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তাই আমি শুধু একটি শিটেই স্বাক্ষর করি। পরে জানতে পারি, প্রতিটি বিভাগের জন্য পৃথক উপস্থিতি শিটে স্বাক্ষর করা বাধ্যতামূলক ছিল।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে একটি আসনের বিপরীতে আমার মেধাক্রম ছিল পঞ্চম। অন্যদিকে জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের তিনটি শূন্য আসনের বিপরীতে আমি ওয়েটিং তালিকায় প্রথম ছিলাম। প্রথম যে তালিকাটি সামনে পেয়েছি, সেখানেই স্বাক্ষর করেছি। পরে দেখি আমাকে কোনো বিভাগ দেওয়া হয়নি। দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাকে বলেছিলাম, আলাদা আলাদা শিটে স্বাক্ষর করতে হবে, সেটি তো আগে বলা হয়নি। আমার বাসা রংপুর হওয়ায় আমি গুচ্ছভুক্ত অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পছন্দক্রম (চয়েস) দিইনি।

জানা যায়, বেরোবিতে ভর্তির আশায় অন্য কোনো গুচ্ছভুক্ত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পছন্দক্রম না দেওয়ায় বর্তমানে ওই শিক্ষার্থী আর কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছেন না। এতে ভর্তির সুযোগ হারিয়ে তিনি চরম হতাশায় ভুগছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা বলেন, প্রতিবছর জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে কিছু আসন শূন্য থেকে যায়। মানবিক দিক বিবেচনায় প্রশাসন চাইলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে পারত।

এ বিষয়ে ভর্তি কমিটির সদস্য ও জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক বলেন, প্রতিটি বিভাগের জন্য আলাদা উপস্থিতি তালিকা ছিল এবং সেভাবেই স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। যেহেতু তিনি সংশ্লিষ্ট তালিকায় স্বাক্ষর করেননি, তাই তাকে অনুপস্থিত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ডিনরা ভালো বলতে পারবেন, কারণ ভর্তি কার্যক্রমে তারাই দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট বিভাগে আসনও খালি থাকতে হবে। ওই শিক্ষার্থী লিখিত আবেদন করলে বিষয়টি ডিন ও উপাচার্য মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

সাড়ে ৭ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭৩৬৪ শিক্ষার্থী নিহত, সবচেয়ে বেশি…
  • ৩০ জুলাই ২০২৬
ছাত্রীর কাছে সুগার ড্যাডি ও সুগার বেবি জানতে চাওয়া খুবির সে…
  • ৩০ জুলাই ২০২৬
ফেডারেশনের সদস্য হওয়ার পর জাতীয় দলেও ডাক পেলেন জিমি
  • ৩০ জুলাই ২০২৬
৩০ লাখ টাকার ফেনসিডিল সহ বাবা-মেয়ে আটক
  • ৩০ জুলাই ২০২৬
মেলবোর্ন ইউনিভার্সিটিতে হিউম্যান রাইটস স্কলারশিপে উচ্চশিক্ষ…
  • ৩০ জুলাই ২০২৬
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার শুরু হবে কবে জানালেন উপদেষ্টা মাহ্দী আ…
  • ৩০ জুলাই ২০২৬