ইবি মেডিকেল সেন্টারে শিক্ষার্থী ইয়াসির © টিডিসি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শাহ আজিজুর রহমান হলের পুকুর থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় এক শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে। ওই শিক্ষার্থীর নাম ইয়াসির। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এর আগে গত বছরের ১৭ জুলাই এই পুকুর থেকেই শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ইবি মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলে চিকিৎসা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেছেন। ফুটবল খেলে পানিতে সাঁতার কাটতে নেমে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা সাব্বির হোসেন বিজয় বলেন, ‘কয়েকজন বৃষ্টিতে ফুটবল খেলছিলেন। খেলা শেষে আমার সঙ্গেই পুকুরে ছিল। পরে ওরা ৩ বন্ধু একসঙ্গে এই পার হতে অন্য পাড়ে যাওয়ার জন্য সাঁতার শুরু করে। অন্য দুই বন্ধু অপর প্রান্তে চলে গেলেও ও শেষ প্রান্তে এসে আস্তে আস্তে ডুবে যেতে থাকে। ওর দুই বন্ধু তখন চিৎকার করতে থাকে। আমরা প্রথমে ভাবছিলাম হয়তো মজা করছে, কিন্তু পরে যখন ডুবতে থাকে তখন সবাই এই পাড় থেকে দৌড়ে যেয়ে খোঁজাখুঁজি করে উদ্ধার করে। ততক্ষণে ও পুকুরে ডুবে গেছিল।’
ইয়াসিরের বন্ধু ল ল্যান্ড বিভাগের ইউসুফ বলেন, ‘আমরা দুজন পুকুরে নেমে ছিলাম সাতার কাটছিলাম। এক পর্যায়ে ইয়াসির মাঝখানে চলে যায়। তখন হঠাৎই সে শক্তি হারিয়ে পানিতে ডুবে যেতে থাকে। প্রায় ১ মিনিটের মত সে পানির নিচে ডুবে ছিল। আমি ডাকাডাকি করলে আশেপাশে ভিজতে থাকা শিক্ষার্থীরা এসে দড়ি দিয়ে ওকে টেনে তোলে। তারপর আমরা সবাই মিলে ওকে মেডিকেলে নিয়ে যাই।’
চিকিৎসক ডা. জাকিয়া বলেন, ‘শিক্ষার্থীর নাম ইয়াসিরকে যখন মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়েছিল, তখন সম্পূর্ণ অজ্ঞান অবস্থায় ছিল। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি। পেটের নিচে বালিশ দিয়ে চাপ দিয়ে পেট থেকে পানি বের করা হয়েছে। তারপরে তার জ্ঞান ফিরে আসে। আমাদের এখানে ফার্স্ট এইড কিট ছাড়া উন্নত মানের যন্ত্রপাতি না থাকায় এবং ওর শ্বাসকষ্ট হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে এখন আপাতত আশঙ্কা মুক্ত আছে।’
প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৭ জুলাই বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলের এই পুকুর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তারপর থেকেই শিক্ষার্থীদের এই পুকুরে নামার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন।