শতাধিক অটোরিকশা ও সিএনজি আটক © টিডিসি ফটো
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদে বরিশালের বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা শতাধিক অটোরিকশা ও সিএনজি ক্যাম্পাসে আটকে রাখেন। রবিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে কলেজে আসা শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করা যানবাহনগুলো ক্যাম্পাসে রেখে দেন।
জানা গেছে, সম্প্রতি বরিশাল নগরীতে সিটি করপোরেশনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই অটোরিকশা ও সিএনজি চালকেরা ভাড়া বৃদ্ধি করে এবং নতুন ভাড়ার তালিকা গাড়িতে টানিয়ে দেন। এতে শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে গত সপ্তাহে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা বরিশাল সিটি করপোরেশনের কাছে অতিরিক্ত ভাড়া প্রত্যাহারের দাবিতে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা রবিবার অভিনব এই কর্মসূচি পালন করেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, সকাল ১১টা থেকে তারা নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে অটোরিকশা ও সিএনজিতে করে বিএম কলেজে আসেন। কলেজে পৌঁছে চালকেরা পূর্বনির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া দাবি করলে সংশ্লিষ্ট যানবাহনগুলো ক্যাম্পাসে আটকে রাখা হয়। দুপুর পর্যন্ত প্রায় শতাধিক অটোরিকশা ও সিএনজি কলেজ প্রাঙ্গণে অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিল।
বিএম কলেজের শিক্ষার্থী আবির সিকদার বলেন, সিটি করপোরেশনের অনুমোদন ছাড়াই অটোরিকশা ও সিএনজি চালকেরা ভাড়া বাড়িয়েছেন। এতে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যয় বেড়ে গেছে। আমরা স্মারকলিপি দেওয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে এই কর্মসূচি পালন করছি।
অন্যদিকে, অটোরিকশা ও সিএনজি চালকদের দাবি, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির কারণে তাদের পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। ফলে তারা ভাড়া বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন।
পরে মালিক সমিতি ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে এসে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিলে অবরুদ্ধ যানবাহনগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ভাড়া প্রত্যাহারের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন।
পরিস্থিতি সমাধানে সোমবার সকাল ১১টায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধি, অটোরিকশা ও সিএনজি চালকদের প্রতিনিধি এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে।