১৮ বছরেও পূর্ণাঙ্গ অনলাইন সেবা চালু হয়নি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে

২৩ জুন ২০২৬, ১০:৩৫ PM
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১৮ বছরেও এখনো প্রশাসনিক কার্যক্রমে পূর্ণাঙ্গ অনলাইনভিত্তিক সেবা চালু হয়নি। আংশিক ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু থাকলেও অধিকাংশ সেবাই এখনও ব্যাংক ও কাগজনির্ভর থাকায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির অন্ত নেই। ফি পরিশোধ থেকে শুরু করে রশিদ জমা, স্বাক্ষর সংগ্রহ এবং বিভাগে কাগজপত্র জমা দেওয়ার দীর্ঘ প্রক্রিয়া তাদের জন্য অতিরিক্ত সময় ও দুর্ভোগ তৈরি করছে।

জানা যায়, বর্তমানে শিক্ষার্থীদের ভর্তি, পুনর্ভর্তি, সেমিস্টার ফি, হল ফি, ট্রান্সক্রিপ্ট, মার্কশিটসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক ফি পরিশোধের জন্য প্রথমে কিছু ফি জমা দিতে হয় এবং কিছু ফি নির্ধারিত ব্যাংকে জমা দিতে হয়। এরপর সেই রসিদ নিয়ে আবার বিভিন্ন ধাপে দপ্তরে যেতে হয়। রসিদ জমা দিতে হয় বিভাগে, অনেক ক্ষেত্রে প্রভোস্টের স্বাক্ষর নিতে হয় অ্যাটাচ হলে, এরপর আবার সংশ্লিষ্ট বিভাগে কাগজপত্র জমা দিতে হয়।

এই দীর্ঘ ও ধাপে ধাপে চলা প্রক্রিয়ার কারণে প্রতিটি কাজেই শিক্ষার্থীদের ব্যাংক, হল ও প্রশাসনিক দপ্তরের মধ্যে বারবার যাতায়াত করতে হচ্ছে। বিশেষ করে সেমিস্টার, রিটেক ও ইমপ্রুভমেন্ট ফরম পূরণের ক্ষেত্রে এই জটিলতা আরও বেশি বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, বর্তমানে কিছু ক্ষেত্রে ‘সোনালী ই-সেবা’র মাধ্যমে অনলাইন পেমেন্টের সুযোগ থাকলেও সেটি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর নয়। পেমেন্ট সম্পন্ন হলেও সেই তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট বিভাগে যুক্ত হচ্ছে না। ফলে শিক্ষার্থীদের আবারও কাগজপত্র হাতে নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে জমা দিতে হচ্ছে, যা পুরো ব্যবস্থাকে আংশিক ডিজিটাল হলেও বাস্তবে অফলাইন নির্ভর করে তুলেছে।

২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়ের হাসান রাফত বলেন, অনলাইন পেমেন্ট থাকলেও সেটির সুবিধা পুরোপুরি পাওয়া যাচ্ছে না। তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপডেট না হওয়ায় কাগজপত্র নিয়ে বিভাগে যেতে হচ্ছে, এতে সময় নষ্ট হচ্ছে।

ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান আস সাদী জানান, ব্যাংকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, পরে আবার রসিদ নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে যেতে হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ এবং ক্লান্তিকর।

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মাইশারা ময়না বলেন, আধুনিক যুগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সেবা অনলাইনে হওয়া উচিত। বারবার দপ্তরে যাতায়াত শিক্ষার্থীদের জন্য অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম বলেন, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে প্রশাসনিক সেবাগুলোকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার বিকল্প নেই। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই ডিজিটাল সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তবে একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যাশলেস ও অটোমেশনভিত্তিক ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজন অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সমন্বিত সফ্‌টওয়্যার প্ল্যাটফর্ম।

ক্যাশলেস সেবার বিষয়ে জনতা ব্যাংক পিএলসি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ব্যবস্থাপক জাকারিয়া সরকার বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ ক্যাশলেস সেবা চালুর বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় সমন্বয় পেলে আমরা দ্রুত এই সেবাগুলো চালু করতে পারব।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সোলাইমান বলেন, আমরা অলরেডি বিশ্ববিদ্যালয়ে ধাপে ধাপে ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থাপনা চালুর বিষয়ে আলোচনা করছি। সোনালী ই-সেবাতে আমরা কিছু লেনদেন করছি, তবে অতিশীঘ্রই আমরা পুরোপুরি অনলাইন কার্যক্রমে চলে আসব। প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে শিক্ষার্থীরা আরও সহজে বিভিন্ন ফি পরিশোধ ও সেবা গ্রহণ করতে পারবে।

জবির বাসে হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের নিন্দা
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
দেড় বছরেও মেরামত হয়নি কবি নজরুল কলেজের জানালার ভাঙা কাচ
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
একাদশে ভর্তির দৌড়: রাজধানীর সেরা কলেজ কোনগুলো, পছন্দের শীর্…
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
মধ্যরাতে নারীসহ পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক আটক
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
সিলেটে একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি এক ধরনের কোটা পদ্ধতি: ড.…
  • ১২ আগস্ট ২০২৬