অফিস ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন-বিষয়ক ওয়ার্কশপে বক্তব্য দিচ্ছেন ইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান © টিডিসি
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি অফিসের কাজ নিজ নিজ অফিসেই সম্পন্নের প্রতি জোর দিয়ে যেকোনো কাজেই ভাইস চ্যান্সেলরের কাছে ছুটে যাওয়া বন্ধ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। তিনি বলেন, দক্ষ অফিস ব্যবস্থাপনা একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও ফলপ্রসূ করে তোলে।
রবিবার (২১ জুন) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অস্সূর্যান্স সেল (আইকিউএসি) আয়োজিত অফিস ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন-বিষয়ক ওয়ার্কশপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নাজিমুদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।
উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি অফিস প্রায় একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ কেন্দ্রের মতো। সুতরাং কোনো অফিসের কাজ সেখানেই সম্পন্ন করতে হবে। সব কাজেই ভাইস চ্যান্সেলরের কাছে ছুটে যাওয়া বন্ধ করতে হবে। এসব কাজ সম্পন্ন করতে একজন অফিস প্রধানের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকতে হবে। যিনি সব যোগ্যতা ধারণ করবেন, তিনিই সফল হবেন। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর অব্যাহত প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে।
ইবি উপাচার্যের মতে, অফিস ম্যানেজমেন্ট হলো একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার সমন্বিত ব্যবস্থা। এতে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও নীতি প্রয়োগ করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান মাধ্যম। এর মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আধুনিক জ্ঞান, প্রযুক্তি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা কৌশল আয়ত্ত করতে পারেন। এটি কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি, ভুল হ্রাস এবং উৎপাদনশীলতা উন্নয়নে সহায়তা করে। মানবসম্পদ, আর্থিক, আইসিটি, নেতৃত্ব, সেবা ও পরিকল্পনা ব্যবস্থাপনা একত্রে একটি অফিসের কার্যকারিতা ও উন্নত ফলাফল নিশ্চিত করে।
ওয়ার্কশপে আধুনিক অফিস ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি ও নেতৃত্ব বিকাশ, ফাইল ও নথি ব্যবস্থাপনা, সময় ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল অফিস সিস্টেম বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতে প্রশাসনিক দক্ষতা উন্নয়নে এ ধরনের আরও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।