অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মী © সংগৃহীত
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) বিএনপিপন্থী উপাচার্য যোগদানের রাতেই বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খানের নেমপ্লেট খুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদল কর্মী বিএম সুমনের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১৫ মে) রাত আনুমানিক ৯টা ১৬ মিনিটে এ ঘটনা ঘটেছে বলে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে জানা গেছে।
অভিযুক্ত বিএম সুমন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের (১৩তম আবর্তন) শিক্ষার্থী। তার ছাত্রত্ব প্রায় এক বছর আগে শেষ হলেও তিনি এখনও অবৈধভাবে হলে অবস্থান করছেন এবং হল ত্যাগ করার জন্য তিনবার হল প্রশাসন থেকে বলা হলেও সে হল ছাড়েনি বলে নিশ্চিত করেছেন হলের প্রভোস্ট।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত আনুমানিক ৯টা ১৬ মিনিটের দিকে বিএম সুমন লোক প্রশাসন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমানকে সঙ্গে নিয়ে বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট রুমের সামনে থাকা নেমপ্লেট খুলে ফেলেন।
ঘটনার বিষয়ে সুমনের সঙ্গে থাকা আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, “গতকাল বিজয়-২৪ হলে প্রভোস্ট রুমের সামনে থেকে নামফলক খুলে ফেলার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। সিসিটিভি ফুটেজে আমাকে দেখা যাওয়ায় আমি বিব্রত। অভিযুক্তের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে তিনি আমাকে একটি কাজ আছে বলে ডেকে নিয়ে যান। কোথায় বা কী উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন, সে বিষয়ে কিছু জানাননি। ঘটনাটি আকস্মিকভাবে ঘটায় আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি নামফলক খুলে ফেলেন। আমি তাৎক্ষণিকভাবে এর প্রতিবাদ জানিয়েছি এবং বলেছি, কাজটি ঠিক হচ্ছে না। আমি এ ঘটনার নিন্দা জানাই।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিএম সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির সাবেক সভাপতি ফেরদৌস জান্নাত ফেসবুকে লেখেন, খুবই দুঃখজনক বিএম সুমন। তুমি এমন কিছু হয়ে যাওনাই যে, প্রশাসনিক একটি পদ, যে পদের ব্যাপারে প্রশাসন এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি সে বিষয়ে এমন ঔদ্ধত্য দেখাবা। লজ্জা!
বিজয়-২৪ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মো. হৃদয় আহমেদকে সোস্যাল মিডিয়া ফেসবুকে বলেন, ‘একজন রানিং প্রভোস্টের নেমপ্লেট কোনো কারণ ছাড়া খুলে ফেলা দুঃখজনক। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, তিনি বেশ দাপটের সঙ্গে কাজটি করেছেন। ব্যক্তিগত বা মতাদর্শগত দ্বন্দ্ব থেকে এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে আমরা শুনেছি।’
আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী বায়েজিদ হোসেন বলেন, ‘৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আমরা একটি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু কিছু উগ্র মানসিকতার ব্যক্তি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। একজন শিক্ষকের নেমপ্লেট খুলে ফেলা বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা লঙ্ঘন এবং সম্মানহানিকর কাজ। প্রশাসনের কাছে দ্রুত বিচার দাবি করছি।’
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কাছে কিছু ছোটখাটো তথ্য এসেছে। আমি বিষয়টি নিয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছি। তবে দলীয় ব্যানারে কেউ ন্যূনতম অন্যায় করলেও সংগঠন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। আর যদি কেউ ব্যক্তিগতভাবে কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তাহলে তার দায় সংগঠন নেবে না।’
বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান বলেন, “অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ নেই। অবৈধভাবে হলে অবস্থান করায় তাকে কয়েকবার হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ধারণা করছি, সেই ক্ষোভ থেকেই সে এমন কাজ করেছে হয়ত।
প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমি মিডিয়াতে দেখেছে। এরকম কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না। তার ছাত্রত্ব শেষ হওয়া সত্বেও সে কীভাবে হলে থাকে সেটাই আমার বোধগম্য নয়। কারো কোনো অভিযোগ থাকলে লিখিতভাবে জানাবে। নির্বাহী ক্ষমতাবলে প্রশাসন চাইলে প্রভোস্ট পরিবর্তন করতে পারে। এবিষয়ে প্রভোস্ট কমিটি মিটিং করবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমএম শরিফুল করিম বলেন, আমি এবিষয়ে কিছুই জানিনা। প্রক্টর কিংবা প্রভোস্ট কেউ কিছু জানায় নি।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করিম।