জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো © টিডিসি সম্পাদিত
দীর্ঘ ছয় বছর পর আবারও কলেজ র্যাঙ্কিং প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। নির্ধারিত প্রধান কর্মদক্ষতা সূচক (কেপিআই)-এর ভিত্তিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি ও বেসরকারি অনার্স কলেজগুলোর পারফরম্যান্স মূল্যায়নের মাধ্যমে জাতীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে সেরা কলেজ নির্বাচন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ মে) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় পর্যায়ে ৮টি সেরা কলেজ এবং বিভাগীয় পর্যায়ে প্রতিটি বিভাগ থেকে ১০টি করে মোট ৮৮টি সেরা কলেজ নির্বাচন করা হবে। এজন্য ‘বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ র্যাঙ্কিং ২০২৫’ কার্যক্রম শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালের KPI-সংক্রান্ত তথ্য আগামী ১৮ জুন ২০২৬ তারিখের মধ্যে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে কলেজ কোড ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে লগইন করে ‘কলেজ র্যাঙ্কিং তথ্য ছক’ পূরণ করে সাবমিট করতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নির্দেশক্রমে সংশ্লিষ্ট কলেজ অধ্যক্ষদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এছাড়া নির্বাচিত র্যাঙ্কিংপ্রাপ্ত কলেজগুলোর তালিকা গণমাধ্যমে প্রকাশের পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অ্যাওয়ার্ড ও সম্মাননা প্রদান করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সর্বশেষ ২০১৮ সালের কলেজ র্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছিল। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সিনেট হলে ওই ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
আরও পড়ুন: নোবিপ্রবির বিদায়ী উপাচার্যের আবেগঘন বার্তা
২০১৮ সালের কলেজ র্যাঙ্কিংয়ের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ৮৮১টি স্নাতক পাঠদানকারী কলেজ থেকে অনলাইনে আবেদন আহ্বান করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২৯১টি কলেজ আবেদন করে। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ১২৫টি কলেজ প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়। পরে KPI-এর ভিত্তিতে জাতীয় পর্যায়ে ৮টি এবং বিভাগীয় পর্যায়ে বিভিন্ন অঞ্চলের মোট ৭৬টি কলেজ চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়।
সে সময় জাতীয় পর্যায়ে দেশসেরা কলেজ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিল রাজশাহী কলেজ।
ঢাকা অঞ্চলের সেরা কলেজগুলোর মধ্যে ছিল ঢাকা কমার্স কলেজ, তেজগাঁও কলেজ, লালমাটিয়া মহিলা কলেজ, সরকারি সা’দত কলেজ, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ, সরকারি তোলারাম কলেজ, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ, সিদ্ধেশ্বরী কলেজ ও সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ।
চট্টগ্রাম অঞ্চলের সেরা কলেজগুলোর মধ্যে ছিল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ, চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ, নোয়াখালী সরকারি কলেজ, ফেনী সরকারি কলেজ, সরকারি সিটি কলেজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ, সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ, চাঁদপুর সরকারি কলেজ ও চট্টগ্রাম সরকারি উইমেন্স কলেজ।
রাজশাহী অঞ্চলের সেরা কলেজগুলোর মধ্যে ছিল রাজশাহী কলেজ, সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ, সরকারি আজিজুল হক কলেজ, সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ, নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ, সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজ, সৈয়দ আহমদ কলেজ, নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজ, নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজ ও নওগাঁ সরকারি কলেজ।
খুলনা অঞ্চলের সেরা কলেজগুলোর তালিকায় ছিল সরকারি ব্রজলাল (বিএল) কলেজ, সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজ, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ, সীমান্ত আদর্শ কলেজ, যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, কুমিরা মহিলা ডিগ্রি কলেজ, ঝাউডাঙ্গা কলেজ, খুলনা সরকারি মহিলা কলেজ, এম এস জোহা ডিগ্রি কলেজ ও চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ।
বরিশাল অঞ্চলে সেরা কলেজ নির্বাচিত হয়েছিল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ, ভোলা সরকারি কলেজ, পটুয়াখালী সরকারি কলেজ এবং সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ।
সিলেট অঞ্চলের সেরা কলেজগুলোর মধ্যে ছিল মুরারিচাঁদ কলেজ (এমসি), সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ, মঈনুদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজ, সিলেট দক্ষিণ সুরমা কলেজ এবং সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ।
রংপুর অঞ্চলে নির্বাচিত সেরা কলেজগুলোর মধ্যে ছিল কারমাইকেল কলেজ, দিনাজপুর সরকারি কলেজ, কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ, সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজ, রংপুর সরকারি কলেজ, উত্তরবাংলা কলেজ, গাইবান্ধা সরকারি কলেজ, আদর্শ কলেজ, হাতীবান্ধা আলীমুদ্দিন কলেজ ও নীলফামারী সরকারি কলেজ।
ময়মনসিংহ অঞ্চলের সেরা কলেজগুলোর মধ্যে ছিল আনন্দ মোহন কলেজ, নেত্রকোনা সরকারি কলেজ, ইসলামপুর কলেজ, সরকারি মোমিনুন্নেছা মহিলা কলেজ, জাহানারা লতিফ মহিলা কলেজ, গৌরীপুর মহিলা কলেজ, শেরপুর মহিলা কলেজ এবং সরকারি শহীদ স্মৃতি কলেজ।