ইবিতে দৈনিক মজুরিতে চাকরি

একদিন গিয়ে পুরো সপ্তাহের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর, অর্ধ-লক্ষাধিক টাকা বেতন তুললেন বৈষম্যবিরোধী নেতা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মুবাশ্বির আমিন

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মুবাশ্বির আমিন © সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল ল্যাবে ডে-লেবার (দৈনিক মজুরিতে চাকরি) হিসেবে যোগদান করে নিয়মিত কাজ না করেই বেতন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাদক সেবনের দৃশ্যে ছবি ভাইরাল হওয়া সেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মুবাশ্বির আমিনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সেন্ট্রাল ল্যাবে নিয়োগ পাওয়ার পর সপ্তাহে একদিন গিয়ে পুরো সপ্তাহের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে অর্ধ লক্ষাধিক টাকা বেতন তুলছেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধুঁকতে থাকা সেন্ট্রাল ল্যাবের কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনতে জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রশাসন বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়। একইসাথে জনবল সংকট নিরসনে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই উপযুক্ত ব্যক্তিদের নিয়োগের পরামর্শ দেয় প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায়, টেকনিক্যাল কমিটির সুপারিশে 'অন-ক্যাম্পাস জব' এর আওতায় বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে দৈনিক ৪০০ টাকা মজুরিতে অস্থায়ী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

সেই মোতাবেক গত বছরের আগস্টে বিতর্কিত ছাত্রনেতা মুবাশ্বির আমিনসহ ছয়জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে যোগদানের পর থেকেই মুবাশ্বিরের বিরুদ্ধে নিয়মিত কর্মস্থলে অনুপস্থিতির অভিযোগ ওঠে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হওয়ায় এবং তার বিভাগের ই শিক্ষক প্রক্টর হিসেবে দায়িত্বে থাকায় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ল্যাবের পেশাদার দায়িত্ব পালনের চেয়ে দলীয় মিছিল, মিটিং ও ব্যক্তিগত রাজনৈতিক কর্মসূচিতেই তিনি বেশিরভাগ সময় ব্যয় করেন। অথচ ল্যাবে উপস্থিত না থেকেও গত ৮ মাসে তিনি মোট ৫২ হাজার টাকা বেতন তুলেছেন তিনি। 

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নিয়োগ পাওয়ার পর গত বছরের আগস্টে মুবাশ্বির বেতন নিয়েছেন ৩,২০০ টাকা। এরপর সেপ্টেম্বরে ৮,৪০০ টাকা, অক্টোবরে ৭,২০০ টাকা, নভেম্বরে ৮,৮০০ টাকা এবং ডিসেম্বরে ৬,৪০০ টাকা, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৭,২০০ টাকা, ফেব্রুয়ারিতে ৬,৪০০ টাকা এবং মার্চ মাসে ৪,৪০০ টাকা বেতন তুলেছেন তিনি। ল্যাবে নিয়মিত উপস্থিত না হয়েও এভাবে বেতন তোলার বিষয়টি সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। 

মুবাশ্বিরের এক সহকর্মী জানান, মুবাশ্বির ইইজি এবং ইএসজি ল্যাবে দায়িত্বরত হলেও মাসে মাত্র ৩-৪দিন আসেন। তার ল্যাবে চাপ কম এটা ঠিক কিন্তু আমাদের রেগুলার মেইনটেইনের ব্যাপার আছে, সেখানে কখনো কখনো সপ্তাহে একদিনও আসে না। আমাদের ক্লাস পরীক্ষা চলাকালীন সময়ের বাইরে বাকিটা সময় ল্যাবে দেওয়ার কথা থাকলেও এক্ষেত্রে তার ব্যত্যয় ঘটছে। সে এসে স্বাক্ষর করে চলে যান। 

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত বৈষম্যবিরোধী নেতা মুবাশ্বির আমিন বলেন, আমি মোটেও কাজ না করে সেন্ট্রাল ল্যাবে বেতন নিচ্ছি না, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। ওখানে আমি ল্যাব টেকনিশিয়ান হিসেবে ডেইলি বেসিসে কাজ করি ও সম্মানী পাই। ল্যাবে কাজের চাপ খুবই কম থাকে, বলা যায় সপ্তাহে দুই-একদিন কাজ হয়। আমি প্রতিদিনই যে আসছি সেটার প্রমাণ আমার এই অ্যাটেন্ডেন্স শিটে আছে। মাসে দুই-একদিন গিয়ে ওখানে যে সব দিনের অ্যাটেন্ডেন্স দেওয়ার কোনো প্রকার সুযোগই নাই।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের পরিচালক অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ল্যাবটি চালু রাখার স্বার্থে উপাচার্যের পরামর্শে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। টেকনিক্যাল কমিটির সুপারিশ অনুযায়ীই নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। আমি তো আসলে হাজিরা খাতা চেক করি, সবার পেছনে লেগে থাকা তো সম্ভব না। তার বিরুদ্ধে যেহেতু অভিযোগ এসেছে, আমি অবশ্যই যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেব।  

৪৫ বছর পর বাংলাদেশে ফিরে মা-বাবাকে খুঁজছেন ডাচ নাগরিক সেলিনা
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
সাত দিনের মধ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে পরীমনিকে লিগ্যাল নোটিশ
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
খাওয়াতে বা কাঁদলেই শিশুর হাতে স্মার্টফোন, অজান্তেই যেসব ঝুঁ…
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিযুদ্ধে পছন্দের শীর্ষে থাকা তিন প্রতিষ্ঠা…
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে ৩৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
গলাচিপা মৎস্য অফিসে সূর্যাস্তের পরও উড়ল জাতীয় পতাকা, অবহেলা…
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950