নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ৪০ মিনিট দেরি হওয়ার কারণে জীবন থেকে একটি শিক্ষাবর্ষ ঝরে গেল তৌহিদুল ইসলাম নামে এক ভর্তিচ্ছুর।
দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম আর স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেল সময়ের এই সামান্য ব্যবধানে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় নোয়াখালী সরকারি কলেজ কেন্দ্রে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে।
সকাল ১১টায় সারাদেশে একযোগে বিজ্ঞান ইউনিটের পরীক্ষা শুরু হলেও তৌহিদ যখন কেন্দ্রের গেটে পৌঁছান, তখন ঘড়িতে বেলা ১১টা ৪০ মিনিট। জানা গেছে, অনেক দূর থেকে আসার পথে দীর্ঘ যানজট ও যাতায়াত বিড়ম্বনার শিকার হয়ে পথেই তার অনেকটা সময় নষ্ট হয়ে যায়। কেন্দ্রের গেটে পৌঁছে ভেতরে প্রবেশের জন্য তিনি দায়িত্বরতদের কাছে দীর্ঘক্ষণ অনুনয়-বিনয় করলেও পরীক্ষার কঠোর নীতিমালার কারণে তাকে হলে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তৌহিদ বলেন, "গত দুই বছর ধরে এই দিনটির জন্যই আমি প্রস্তুতি নিয়েছি। পথে প্রচণ্ড জ্যাম ছিল, সময়মতো গাড়ি পাওয়া যাচ্ছিল না। মাত্র কয়েক মিনিটের দেরিতে আমার সব শেষ হয়ে যাবে, এটা আমি মানতে পারছি না। কর্তৃপক্ষ একটু সুযোগ দিলে হয়ত আমি আমার মেধা যাচাই করতে পারতাম।"
বিষয়টি নিয়ে উপস্থিত অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা দেখা দিলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিয়মের বিষয়ে অনড় অবস্থানে ছিল। কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ভর্তি পরীক্ষার নিয়ম অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও কঠোর। পরীক্ষা শুরুর এত দীর্ঘ সময় পর কাউকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলে পরীক্ষার গোপনীয়তা ও শৃঙ্খলা রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়ত। শিক্ষার্থীর জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও নিয়মের ব্যত্যয় ঘটানো সম্ভব নয় বলে জানান তিনি। সময়ের এই নিষ্ঠুর ব্যবধানে তৌহিদের মতো একজন মেধাবীর স্বপ্নভঙ্গ কেন্দ্র এলাকায় এক বিষণ্ন পরিবেশের সৃষ্টি করে।