ভিসি অফিসে গিয়ে হুমকি বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো © টিডিসি সম্পাদিত
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সিন্ডিকেট সভায় প্রমোশন, আপগ্রেডেশন এবং জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের উপর হামলায় জড়িতদের শাস্তি ও অর্থ কেলেঙ্কারির সাথে জড়িতদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত বাদ দিয়ে উপাচার্যকে শর্তযুক্ত সিন্ডিকেট সভা আয়োজনের নির্দেশ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে উপাচার্য দপ্তরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ এবং যুগ্ম-আহ্বায়ক আবুল বাশারসহ আরও দুজন উপাচার্যের দপ্তরে গিয়ে সকল প্রকার আপগ্রেডেশন বোর্ড বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। এছাড়াও প্রক্টরের দপ্তরে প্রবেশ করে তাকে সকল দাপ্তরিক কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে রেজিস্ট্রারের দপ্তরে গিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নাম উল্লেখ করে সকল ধরণের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা বন্ধ রাখার হুমকি স্বরূপ নির্দেশ দেন তারা।
পরবর্তীতে, বিএনপিপন্থী শিক্ষক ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. এম এম শরিফুল করীম, শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক ও মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপড ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার এবং একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন উপাচার্যের দপ্তরে উপস্থিত হয়ে পদোন্নতি বোর্ড না করার জন্য এবং যদি সিন্ডিকেট সভা হয় তাহলে আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মে অভিযুক্ত হয়ে বাধ্যতামূলক ছুটিতে থাকা সাবেক রেজিস্ট্রার এবং জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের উপর হামলার নেতৃত্ব দেওয়া ও নানাবিধ অভিযোগের কারণে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এক কর্মকর্তার ফাইল না উঠানোর নির্দেশ দেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. হায়দার আলী বলেন, বিএনপিপন্থী তিনজন শিক্ষক এসেও বলেছেন সিন্ডিকেট সভা ও পদোন্নতি বোর্ড না করার জন্য। যদি সিন্ডিকেট সভা হয়; তাহলে আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মে অভিযুক্ত হয়ে বাধ্যতামূলক ছুটিতে থাকা সাবেক রেজিস্ট্রার এবং জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের উপর হামলার নেতৃত্ব দেওয়া ও নানাবিধ অভিযোগের কারণে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এক কর্মকর্তার ফাইল উঠানো যাবে না।
এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিএনপিপন্থী শিক্ষকরা আজকে এসে উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষের উপস্থিতিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হায়দার আলীকে সকল প্রকার নিয়োগ, প্রমোশন ও আপগ্রেডেশন বন্ধসহ শর্ত দিয়ে সিন্ডিকেট সভা আয়োজনের কথা বলেছে। পাশাপাশি জুলাইবিরোধী দুজনের ফাইল উঠাতে কিংবা শাস্তি প্রদান না করতে হুমকিস্বরূপ আদেশ দিয়েছেন।’
তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বিএনপিপন্থী শিক্ষক ও ইউট্যাবের সদস্য শরীফুল করীম। তিনি বলেন, এসব মিথ্যা। এমন কোনো কথা হয়নি। এ সময় সাংবাদিকদের এসব তথ্যকে দিয়েছে জানতে চেয়ে বলেন, ‘আপনাকে এই তথ্য কে দিয়েছেন? আপনি নাম বলেন। তার সাথে আমার বোঝাপড়া আছে।’