ঈদকে কেন্দ্র করে ঢাকা কলেজের ছাত্রনেতাদের ভাবনা

২০ মার্চ ২০২৬, ০৫:৪৭ PM
ঢাকা কলেজের ছাত্র নেতারা

ঢাকা কলেজের ছাত্র নেতারা © টিডিসি সম্পাদিত

রমজানের পর এলো বহুল প্রতীক্ষিত ঈদুল ফিতর। নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের ঈদের আনন্দ উদযাপনের পদ্ধতি ও কর্মকাণ্ডে আছে ভিন্নতা। এর মধ্যে ঈদের আনন্দের সকল বৈচিত্র্য ও অনুভূতি ধারণ করার চেষ্টা করে ছাত্রনেতারা। 

তাদের কাছে ঈদ শুধুমাত্র মানবিকতার উৎসব নয়, রমজানের সংযম ধারণ করে দেশ ও দশের কল্যাণে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণার উৎসব। মুসলমানদের শ্রেষ্ঠ এই উৎসব ঘিরে ঢাকা কলেজের ছাত্রনেতাদের ভাবনা তুলে ধরা হলো।

ঈদ নিয়ে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম-আহবায়ক তানভীর আহমদ মাদবর বলেন, ঈদুল ফিতর আমার কাছে আনন্দ, আত্মশুদ্ধি এবং ভ্রাতৃত্ববোধের প্রতীক। এক মাস সিয়াম সাধনার পর এটি আসে মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে পুরস্কার হিসেবে। ঈদ শুধু নতুন পোশাক বা আনন্দের দিন নয় বরং এটি ধনী-গরিবের ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে এক কাতারে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেয়। ক্ষমা, সহমর্মিতা এবং ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হলো ঈদুল ফিতর।

তিনি বলেন, রমজান আমাকে আত্মনিয়ন্ত্রণ, ধৈর্য এবং তাকওয়া অর্জনের শিক্ষা দেয়। রমজানের পর ঈদের সময় ছাত্রনেতাদের ভূমিকা হওয়া উচিত মানবিক ও দায়িত্বশীল। তারা সাধারণ শিক্ষার্থী সহ সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াবে, ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও ইতিবাচক মূল্যবোধ জাগ্রত করাও তাদের দায়িত্ব। পাশাপাশি সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং বিভেদ দূর করার ক্ষেত্রে ছাত্রনেতাদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করা উচিত বলে আমি মনে করি।

ঢাকা কলেজ ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ মামুন বলেন, ঈদুল ফিতর মানে কেবল একটি উৎসব নয়, বরং এটি ত্যাগের মহিমা এবং ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য শিক্ষা। আমি বিশ্বাস করি, ঈদের প্রকৃত সার্থকতা তখনই, যখন আমরা ক্যাম্পাসের প্রতিটি শিক্ষার্থীর মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াতে পারি এবং সুখী, সমৃদ্ধ এক সুন্দর সমাজ গড়ার শপথ নিতে পারি। তাই আনন্দ ভাগ করে নেওয়া আর শোষণ, নিপীড়ন এবং সাংস্কৃতিক গোলামী থেকে এই সমাজকে মুক্ত করার সংগ্রামে অবিচল থাকাই আমার কাছে ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য।

রমজান মূলত আমার কাছে মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে আত্মিক শুদ্ধি ও নৈতিক পরিবর্তনের একটি মাস।  রমজানের এই আধ্যাত্মিক শিক্ষা আমাদের লোভ-লালসার উর্ধ্বে উঠে সত্য ও ন্যায়ের পথে চলতে এবং মানুষের সেবা করতে সবচেয়ে বেশি উদ্বুদ্ধ করে।

রমজানের পর ঈদের সময় শিক্ষার্থীদের প্রতি ছাত্রনেতাদের ভূমিকা হওয়া উচিত তাদের নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করা, অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মাঝে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা। এ সময় ক্যাম্পাসে অবস্থানরত শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাসের মামাদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করাও গুরুত্বপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সে মুমিন নয়, যে নিজে পেট ভরে খায় অথচ তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে।’ এই পবিত্র সময়ে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের সেবার মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রচেষ্টাই ছাত্রনেতাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। 

জাতীয় ছাত্রশক্তি ঢাকা কলেজ শাখার সদস্য সচিব বলেন, ঈদুল ফিতর আমার কাছে শুধু একটি আনন্দের উৎসব নয়, বরং আত্মশুদ্ধি ও সংযমের এক মাসব্যাপী সাধনার পর অর্জিত এক পবিত্র পুরস্কার। এটি আমাদের ভেতরের অহংকার, হিংসা ও কৃপণতাকে দূর করে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগিয়ে তোলে। ঈদ মানে নতুন করে শুরু করা—ক্ষমা চাওয়া, ক্ষমা করা এবং মানুষের মাঝে সুখ ভাগ করে নেওয়া। 

তিনি আরও বলেন, জুলাই পরবর্তী সময়ে ছাত্রদের বড় একটি অংশ রাজনীতির দিকে ঝুঁকছে, যা আমাদের জন্য ভালো সংবাদ।
ঈদের সময় ছাত্রনেতাদের ভূমিকা হওয়া উচিত দায়িত্বশীল ও মানবিক। তারা সমাজের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্যের হাত বাড়াতে পারে, যাতে সবার জন্য ঈদের আনন্দ নিশ্চিত হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও ইতিবাচক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়া তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কোনো প্রকার বিভেদ বা অশান্তি না ছড়িয়ে, বরং শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে ছাত্রনেতাদের সচেতন ভূমিকা রাখা উচিত। তারা যদি উদাহরণ তৈরি করতে পারে, তাহলে সমাজে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

*ঈদুল ফিতর আমার কাছে আনন্দ, কৃতজ্ঞতা এবং ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য উপলক্ষ।এটি শুধু উৎসব নয়, বরং ধনী-গরিব -স্বজন ও প্রতিবেশীদের খোঁজ নেওয়া এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েই ঈদের প্রকৃত আনন্দ অনুভূত হয়।

বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ ঢাকা কলেজ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার রায়হান বলেন, রমজান আমাকে ধৈর্য, আত্মসংযম ও সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়। রোজা রাখার মাধ্যমে ক্ষুধার কষ্ট অনুভব করে দরিদ্র মানুষের প্রতি মমতা বাড়ে।

তিনি বলেন, ঈদের সময় ছাত্রনেতাদের উচিত সমাজের মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সহমর্মিতার উদাহরণ সৃষ্টি করা। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে ঈদের আনন্দ পৌঁছে দিতে বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ নেওয়া, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্প্রীতি ও সহনশীলতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এবং সমাজে শান্তি ও ঐক্য বজায় রাখতে সচেতন ভূমিকা পালন করা।

ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১ শিশুর মৃত্যু
  • ০৩ মে ২০২৬
ঢাবি ছাত্রীর আত্মহত্যা: শিক্ষক সুদীপের রিমান্ড শুনানি আজ
  • ০৩ মে ২০২৬
রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা: রাকিন আহ্বায়ক…
  • ০৩ মে ২০২৬
ভালো পারফর্ম করা শিক্ষকদের বাছাই করে রিওয়ার্ড দেব: প্রধানম…
  • ০৩ মে ২০২৬
নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ভোগ করতে সংস্কার থেকে সরে এসেছে সরকার, অভিয…
  • ০৩ মে ২০২৬
সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, তেমনি জনপ্রশাসনের কোনো পদও চিরস্থা…
  • ০৩ মে ২০২৬